জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২২
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
ক্রসিং ওভার কী?
- খ)(2)
সিন্যাপসিস বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকের 'P' উপধাপটির চিহ্নিত চিত্রসহ বৈশিষ্ট্য লেখো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রক্রিয়াটির গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মায়োসিস-১ এর প্রোফেজ-১ এর প্যাকাইটিন উপধাপে একজোড়া সমসংস্থ (হোমোলোগাস) ক্রোমোজোমের দুটি নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে অংশের পারস্পরিক বিনিময়কে ক্রসিং ওভার বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মায়োসিস-১ এর প্রোফেজ-১ এর জাইগোটিন উপধাপে দুটি হোমোলোগাস বা সমসংস্থ ক্রোমোজোমের মধ্যে পরস্পর সমান্তরালভাবে জোড় বাঁধার প্রক্রিয়াকে সিন্যাপসিস বলে।
সিন্যাপসিস প্রক্রিয়ায় আবদ্ধ একজোড়া হোমোলোগাস ক্রোমোজোমকে একত্রে বাইভ্যালেন্ট (bivalent) বলা হয়। মাতৃ ও পিতৃ উৎস থেকে আসা একই ধরনের বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী ক্রোমোজোম দুটি সিন্যাপটোনিমাল কমপ্লেক্স নামক প্রোটিন কাঠামোর মাধ্যমে পরস্পরের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'P' উপধাপটি হলো মায়োসিস-১ এর প্রোফেজ-১ এর 'প্যাকাইটিন' (Pachytene) উপধাপ।
প্যাকাইটিন উপধাপের বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১. টেট্রাড সৃষ্টি: বাইভ্যালেন্টের প্রতিটি ক্রোমোজোম সেন্ট্রোমিয়ার ব্যতীত অনুদৈর্ঘ্যে দুটি করে ক্রোমাটিডে বিভক্ত হয়। ফলে প্রতিটি বাইভ্যালেন্টে চারটি ক্রোমাটিড সৃষ্টি হয়, যাকে টেট্রাড (Tetrad) বলে।
২. সিস্টার ও নন-সিস্টার ক্রোমাটিড: একই ক্রোমোজোমের দুটি ক্রোমাটিডকে সিস্টার ক্রোমাটিড এবং একই জোড়ার দুটি ভিন্ন ক্রোমোজোমের ক্রোমাটিডকে নন-সিস্টার ক্রোমাটিড বলে।
৩. কায়াজমা গঠন: দুটি নন-সিস্টার ক্রোমাটিড এক বা একাধিক স্থানে 'X' আকৃতির মতো জোড় বাঁধে। এই সংযোগস্থলকে কায়াজমা (Chiasma) বলে।
৪. ক্রসিং ওভার: এন্ডোনিউক্লিয়েজ এনজাইমের প্রভাবে নন-সিস্টার ক্রোমাটিড কায়াজমা স্থানে ভেঙে যায় এবং লাইগেজ এনজাইম দিয়ে পুনরায় জোড়া লাগার মাধ্যমে খণ্ডাংশের বিনিময় বা ক্রসিং ওভার সম্পন্ন হয়।(পরীক্ষার খাতায় প্যাকাইটিন উপধাপের একটি সুস্পষ্ট চিহ্নিত চিত্র আঁকতে হবে, যেখানে বাইভ্যালেন্ট ক্রোমোজোম, টেট্রাড, নন-সিস্টার ক্রোমাটিড এবং কায়াজমা/ক্রসিং ওভার নির্দেশিত থাকবে।)
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রক্রিয়াটি হলো 'মায়োসিস' (Meiosis) বা হ্রাসমূলক কোষ বিভাজন। জীবজগতে এর গুরুত্ব অপরিসীম:
১. ক্রোমোজোম সংখ্যা ধ্রুব রাখা: মায়োসিস বিভাজনের ফলে জননকোষে (গ্যামেটে) ক্রোমোজোম সংখ্যা হ্রাস পেয়ে মাতৃকোষের অর্ধেক (হ্যাপ্লয়েড, n) হয়। পরে নিষেকের মাধ্যমে জাইগোটে ডিপ্লয়েড (2n) অবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। মায়োসিস না ঘটলে প্রতি প্রজন্মে ক্রোমোজোম সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে প্রজাতির বৈশিষ্ট্য বিলুপ্ত হতো।
২. জননকোষ বা গ্যামেট সৃষ্টি: যৌন প্রজননক্ষম জীবে শুক্রাণু ও ডিম্বাণু বা উদ্ভিদের ক্ষেত্রে স্পোর তৈরিতে মায়োসিস অপরিহার্য।
৩. জিনগত প্রকরণ সৃষ্টি: মায়োসিসের প্যাকাইটিন উপধাপে নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে ক্রসিং ওভার ঘটে। ফলে জিনের বিনিময় ও নতুন জিনগত বিন্যাস ঘটে, যা জীবের মধ্যে নতুন বৈচিত্র্য বা প্রকরণ (variation) তৈরি করে।
৪. অভিযোজন ও বিবর্তন: জিনগত প্রকরণের কারণে পরিবেশের প্রতিকূলতায় টিকে থাকার সক্ষমতা তৈরি হয়, যা প্রজাতির অস্তিত্ব রক্ষা ও বিবর্তনের পথ সুগম করে।
৫. মেন্ডেলের সূত্রের সত্যতা: গ্যামেট সৃষ্টির সময় বিপরীত বৈশিষ্ট্যের অ্যালিলগুলোর পৃথকীকরণ ঘটে, যা মেন্ডেলের বংশগতি সূত্রের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।অতএব, প্রজাতির স্বতন্ত্র অস্তিত্ব রক্ষা, ক্রোমোজোম সংখ্যার ভারসাম্য বজায় রাখা এবং নতুন প্রকরণ সৃষ্টিতে মায়োসিস বিভাজনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও