‍ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)

‍ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন

মি. ডোনাল্ড একটি রাষ্ট্রের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতা ছিলেন। এক সম্মেলনে তিনি নিজ সম্প্রদায়ের জন্য আলাদা রাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব করেন। তাঁর প্রস্তাবের ভিত্তিতেই পরবর্তীতে দুটি আলাদা রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়।

  1. ক)

    ভারতবর্ষের সর্বশেষ গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?

    (1)
  2. খ)

    অসহযোগ আন্দোলন বলতে কী বুঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের ঘটনার সাথে পাঠ্যবইয়ের কোন ঘটনা সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    তুমি কি মনে কর উক্ত প্রস্তাবের মধ্যেই স্বাধীন বাংলাদেশের বীজ লুকায়িত ছিল? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ব্রিটিশ ভারতের সর্বশেষ গভর্নর জেনারেল (তথা ভাইসরয়) ছিলেন লর্ড মাউন্টব্যাটেন। (স্বাধীন পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল ছিলেন মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং স্বাধীন ভারতের ছিলেন লর্ড মাউন্টব্যাটেন/সি. রাজাগোপালাচারী)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অসহযোগ আন্দোলন বলতে অহিংস ও নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ব্রিটিশ সরকারের সাথে সর্বপ্রকার প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সহযোগিতা বর্জন করে তাদের শাসনব্যবস্থাকে অচল করে দেওয়ার আন্দোলনকে বোঝায়।

    ১৯২০ সালে মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে এই আন্দোলন শুরু হয়। রাওলাট আইন, জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড এবং খিলাফত প্রশ্নের অন্যায়ের প্রতিবাদে ভারতীয় জনগণ ব্রিটিশদের দেওয়া উপাধি বর্জন, সরকারি স্কুল-কলেজ ও আদালত বর্জন এবং বিলাতি পণ্য বয়কটের মাধ্যমে এ আন্দোলনে অংশ নেয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ঘটনার সাথে পাঠ্যবইয়ের ১৯৪০ সালের ঐতিহাসিক ‘লাহোর প্রস্তাব’-এর সাদৃশ্য রয়েছে।

    ১৯৪০ সালের ২৩শে মার্চ নিখিল ভারত মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনে অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এ কে ফজলুল হক এক ঐতিহাসিক প্রস্তাব উত্থাপন করেন, যা লাহোর প্রস্তাব নামে পরিচিত। এই প্রস্তাবে ব্রিটিশ ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলোকে নিয়ে একাধিক স্বাধীন ও সার্বভৌম ‘রাষ্ট্রসমূহ’ (States) গঠনের দাবি জানানো হয়। এই প্রস্তাবের ভিত্তিতে মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য পৃথক আবাসভূমির দাবি জোরালো রূপ লাভ করে এবং ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান নামক দুটি আলাদা রাষ্ট্রের জন্ম হয়।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, মি. ডোনাল্ড সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতা হিসেবে এক সম্মেলনে নিজ সম্প্রদায়ের জন্য আলাদা রাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব করেন এবং সেই প্রস্তাবের ভিত্তিতে পরবর্তীতে দুটি আলাদা রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়। উদ্দীপকের এই প্রস্তাবটি লাহোর প্রস্তাব এবং এর পরিণতিতে পাকিস্তান সৃষ্টির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে সরাসরি নির্দেশ করে। সুতরাং, উদ্দীপকের ঘটনাটি ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, আমি মনে করি লাহোর প্রস্তাবের মধ্যেই স্বাধীন বাংলাদেশের বীজ লুকায়িত ছিল। নিচে এর পক্ষে যুক্তি ও বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো:

    প্রথমত, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক কর্তৃক উত্থাপিত মূল লাহোর প্রস্তাবে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল যে, ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলোকে নিয়ে একাধিক ‘স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ’ (Independent States) গঠিত হবে। ভৌগোলিক বাস্তবতার কারণেই পূর্বাঞ্চলীয় বাংলা নিয়ে একটি পৃথক সার্বভৌম রাষ্ট্র হওয়ার কথা সেই প্রস্তাবে স্বীকৃত ছিল।

    দ্বিতীয়ত, ১৯৪৬ সালে দিল্লির মুসলিম লীগ আইনপ্রণেতাদের সম্মেলনে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ চাতুর্যের সাথে মূল লাহোর প্রস্তাবের ‘States’ শব্দের ‘s’ বাদ দিয়ে ‘State’ করে একক পাকিস্তান রাষ্ট্রের ধারণা চাপিয়ে দেন। এর ফলে ১৯৪৭ সালে ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিকভাবে সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি ভূখণ্ড নিয়ে একটি অবাস্তব পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হয়।

    তৃতীয়ত, পাকিস্তান সৃষ্টির শুরু থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী পূর্ব বাংলার ওপর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক শোষণ শুরু করে। ১৯৪৮ ও ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৬৬ সালের ছয় দফা দাবি পর্যন্ত বাঙালি নেতৃত্ব বারবার মূল লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধিকার দাবি করতে থাকে। ছয় দফার মূল ভিত্তিও ছিল লাহোর প্রস্তাবের রূপরেখা।

    পরিশেষে, পাকিস্তানের শোষণ-বঞ্চনার শিকার বাঙালিরা লাহোর প্রস্তাবের মূল চেতনার আলোকেই বুঝতে পেরেছিল যে একটি পৃথক সার্বভৌম ভূখণ্ড ছাড়া বাঙালির মুক্তি সম্ভব নয়। এই চেতনার চূড়ান্ত বিকাশ ঘটে ১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে। তাই নিঃসন্দেহে বলা যায়, ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবের মধ্যেই স্বাধীন বাংলাদেশের বীজ নিহিত ছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন