অর্থনীতি ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
নিচের চিত্রটি লক্ষ কর এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

- ক)(1)
জনসংখ্যার ঘনত্ব নির্ণয়ের সূত্রটি লেখ।
- খ)(2)
“অধিক জনসংখ্যা বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা”---ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে নির্দেশিত চিত্রটি কোন জনসংখ্যা তত্ত্ব নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে নির্দেশিত তত্ত্বটির সাথে ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্বের তুলনামূলক বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জনসংখ্যার ঘনত্ব নির্ণয়ের সূত্রটি হলো:
জনসংখ্যার ঘনত্ব = মোট জনসংখ্যা / মোট ভূমির আয়তন (বর্গ কি.মি.) - খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ এবং এর ভৌগোলিক আয়তনের তুলনায় জনসংখ্যার পরিমাণ অত্যধিক।
সীমিত ভূখণ্ড ও সীমিত প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপ পড়ায় খাদ্য ঘাটতি, অপুষ্টি, বেকারত্ব, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার অপ্রতুলতা এবং বাসস্থান সংকটের মতো বহুমুখী জটিল সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। দেশের জাতীয় আয়ের একটি বড় অংশ মৌলিক চাহিদা মেটাতেই ব্যয় হয়ে যায়, ফলে সঞ্চয় ও মূলধন গঠন বাধাগ্রস্ত হয়। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঘটলেও মাথাপিছু আয়ে তার সুফল কমে যায়। তাই অতিরিক্ত জনসংখ্যা বাংলাদেশের প্রধান জাতীয় সমস্যা হিসেবে বিবেচিত।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নির্দেশিত চিত্রটি 'কাম্য জনসংখ্যা তত্ত্ব' (Optimum Population Theory) নির্দেশ করে।
প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ এডউইন ক্যানান, কার-সন্ডার্স এবং ডাল্টন প্রমুখের মতে, কোনো দেশে একটি নির্দিষ্ট সময় বিদ্যমান সম্পদ ও প্রযুক্তির সাপেক্ষে যে পরিমাণ জনসংখ্যা থাকলে মাথাপিছু উৎপাদন বা মাথাপিছু আয় সর্বোচ্চ হয়, তাকে কাম্য জনসংখ্যা বলে।
চিত্রটিতে ভূমি অক্ষে জনসংখ্যা এবং লম্ব অক্ষে মাথাপিছু আয় দেখানো হয়েছে। চিত্রে দেখা যায়, জনসংখ্যা যখন , তখন মাথাপিছু আয় বিন্দুতে কম থাকে, যা 'উপ-জনসংখ্যা' বা কম জনসংখ্যা নির্দেশ করে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে যখন হয়, তখন বিন্দুতে মাথাপিছু আয় সর্বোচ্চ হয়। এই স্তরটিই হলো কাম্য জনসংখ্যা। কিন্তু জনসংখ্যা আরও বেড়ে হলে মাথাপিছু আয় হ্রাস পেয়ে বিন্দুতে নেমে আসে, যা 'অতিরিক্ত জনসংখ্যা' নির্দেশ করে। অতএব, চিত্রটি কাম্য জনসংখ্যা তত্ত্বের মাথাপিছু আয়ভিত্তিক বিশ্লেষণ প্রকাশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নির্দেশিত তত্ত্বটি হলো কাম্য জনসংখ্যা তত্ত্ব। নিচে ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্বের সাথে এর তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো:
১. তত্ত্বের ভিত্তি: ম্যালথাসীয় তত্ত্ব খাদ্য উৎপাদন এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারের মধ্যে সম্পর্কের ওপর প্রতিষ্ঠিত (জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায় জ্যামিতিক হারে এবং খাদ্য উৎপাদন বাড়ে গাণিতিক হারে)। পক্ষান্তরে, কাম্য জনসংখ্যা তত্ত্বটি দেশের মোট সম্পদ, উৎপাদন কৌশল এবং মাথাপিছু আয়ের সম্পর্কের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
২. দৃষ্টিভঙ্গি: ম্যালথাসের তত্ত্বটি একটি হতাশাবাদী তত্ত্ব, যেখানে অতিরিক্ত জনসংখ্যাকে কেবল খাদ্যসংকট, দারিদ্র্য ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণ হিসেবে দেখা হয়েছে। কিন্তু কাম্য জনসংখ্যা তত্ত্বটি অনেক বেশি আধুনিক ও বাস্তবমুখী; এখানে জনসংখ্যাকে শুধু ভোক্তা হিসেবে নয়, বরং উৎপাদনের উপাদান বা মানবসম্পদ হিসেবেও বিবেচনা করা হয়েছে।
৩. জনসংখ্যার পরিমাপ: ম্যালথাসের মতে যেকোনো জনসংখ্যা বৃদ্ধিতেই সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। কিন্তু কাম্য তত্ত্বে অতিরিক্ত জনসংখ্যা, কাম্য জনসংখ্যা এবং কম জনসংখ্যা—এই তিন স্তরের ধারণার মাধ্যমে দেখানো হয়েছে যে নির্দিষ্ট পর্যায় পর্যন্ত জনসংখ্যা বৃদ্ধি উৎপাদনশীলতা ও মাথাপিছু আয় বাড়াতে সাহায্য করে।
৪. প্রযুক্তির প্রভাব: ম্যালথাস কৃষিতে ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উৎপাদন বিধিকে কার্যকর ধরেছিলেন এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সম্ভাবনাকে উপেক্ষা করেছিলেন। অপরদিকে, কাম্য জনসংখ্যা তত্ত্বে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, মূলধন বৃদ্ধি ইত্যাদির কারণে কাম্য স্তরের স্থানান্তর গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচনা করা হয়।
সুতরাং, তুলনামূলক বিশ্লেষণে প্রতীয়মান হয় যে ম্যালথাসের তত্ত্ব অপেক্ষা কাম্য জনসংখ্যা তত্ত্বটি অধিক বিজ্ঞানসম্মত ও অর্থনৈতিকভাবে বাস্তবসম্মত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও