বাংলা ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৫

বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন

11.

(ক) বর্তমানে 'নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের বাজারমূল্য' বিষয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ তুলে ধর।অথবা,(খ) নিচের উদ্দীপক অবলম্বনে একটি খুদেগল্প রচনা কর:পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় বাইক থামিয়ে টোল দিতে হাত বাড়ায় ইশতিয়াক সাহেব। কিছু বুঝে ওঠার আগেই পিছন থেকে সজোরো ধাক্কা খেয়ে ছিটকে পড়ে সে। জ্ঞান ফিরলে তার সাথে থাকা স্ত্রী ও শিশুপুত্রের কথা জানতে চায় উপস্থিত লোকজনের কাছে।..............

উত্তর ও ব্যাখ্যা

AI-তৈরি নমুনা উত্তর

(ক) এর উত্তর:

নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের বাজারমূল্য বিষয়ে দুই বন্ধুর সংলাপ

স্থান: একটি চায়ের দোকান
চরিত্র: তানভীর ও রাফি (দুই বন্ধু)

তানভীর: কিরে রাফি, কী খবর তোর? এত চিন্তিত মুখে বসে আছিস কেন?
রাফি: আর বলিস না দোস্ত! সকালে বাজারে গিয়েছিলাম পরিবারের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু সওদা করতে। গিয়ে তো আমার চক্ষু চড়কগাছ!
তানভীর: কেন, কী হলো? কোনো বিশেষ সমস্যা?
রাফি: আরে সমস্যা মানে? চাল, ডাল, তেল, চিনি, ডিম—এমন কোনো জিনিস নেই যার দাম হু হু করে বাড়েনি। গত সপ্তাহে যে পেঁয়াজ কিনলাম ষাট টাকায়, আজ দেখি তা একশো ছুঁইছুঁই। সাধারণ মানুষের জীবন চালানোই তো দায় হয়ে পড়ছে।
তানভীর: একদম ঠিক বলেছিস। নিম্নবিত্ত তো বটেই, এমনকি সীমিত আয়ের মধ্যবিত্ত পরিবারের বাজেটও পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। মাস শেষে হিসাব মেলাতে গিয়ে সবাই হিমশিম খাচ্ছে।
রাফি: আমার মাথায় আসে না, উৎপাদন তো তেমন একটা কম হয়নি, তবুও কেন প্রতিদিন এমন অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি?
তানভীর: আসলে এর পেছনে বহু কারণ রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব আর ডলারের মূল্যবৃদ্ধি যেমন আছে, তেমনই সবচেয়ে বড় কারণ হলো স্থানীয় অসাধু সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য। তারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত মুনাফা লুটে নেয়। এছাড়া পরিবহনে চাঁদাবাজিও পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়।
রাফি: ঠিক তাই। অথচ কৃষক বা মূল উৎপাদনকারীরা কিন্তু ন্যায্যমূল্য পায় না। লাভটা চলে যায় দালাল ও মজুদদারদের পকেটে।
তানভীর: এই অবস্থা চলতে থাকলে জনজীবনে তীব্র অসন্তোষ ও হাহাকার দেখা দেবে। সরকারের উচিত নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া।
রাফি: একদম একমত। সেই সাথে টিসিবির মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য সরবরাহ আরও ব্যাপকভাবে বাড়ানো দরকার, যাতে প্রান্তিক মানুষেরা কিছুটা হলেও স্বস্তি পায়।
তানভীর: পরিবহন ব্যবস্থায় চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করাও জরুরি। কেবল কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও আইনের সঠিক প্রয়োগই এই লাগামহীন বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
রাফি: সঠিক বলেছিস। আশা করি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে সাধারণ মানুষকে এই নিত্যপণ্যের দামের চরম ভোগান্তি থেকে রক্ষা করবেন। চল, এখন ওঠা যাক।
তানভীর: হ্যাঁ, চল। সাবধানে থাকিস।


অথবা, (খ) এর উত্তর:

হারিয়ে যাওয়া আলো

ছুটির দিনে স্ত্রী অন্তরা আর সাড়ে তিন বছরের ফুটফুটে ছেলে আরিয়ানকে নিয়ে নিজের মোটরসাইকেলে করে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছিল ইশতিয়াক সাহেব। লক্ষ্য ছিল পদ্মা সেতু পার হয়ে শরীয়তপুরের শান্ত সবুজ গ্রামে প্রিয়জনদের সাথে আনন্দময় কয়েকটা দিন কাটানো। পুরো যাত্রাপথেই আরিয়ান বাবার কাঁধ ধরে কিচিরমিচির করছিল, আর অন্তরা বারবার সাবধান করছিল যেন গতি নিয়ন্ত্রণে থাকে।

পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় বাইক থামিয়ে টোল দিতে হাত বাড়ায় ইশতিয়াক সাহেব। কিছু বুঝে ওঠার আগেই পিছন থেকে সজোরে ধাক্কা খেয়ে ছিটকে পড়ে সে। বেপরোয়া গতিতে আসা একটি নিয়ন্ত্রনহীন মাইক্রোবাস তাকে দুমড়ে-মুচড়ে দিয়ে যায়। চোখের সামনে এক নিমিষে অন্ধকার নেমে আসে।

জ্ঞান ফিরলে তীব্র যন্ত্রণায় শরীরটা অবশ হয়ে আসছিল ইশতিয়াকের। সে দেখতে পায় সে হাসপাতালের সাদা বিছানায় শোয়া, চারপাশে স্যালাইনের পাইপ আর নানা মেশিনের আওয়াজ। একটু সুস্থির হতেই তার মস্তিষ্কে টোল প্লাজার সেই ভয়াল দৃশ্য ভেসে ওঠে। আতঙ্কে কেঁপে ওঠে তার বুক। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা নার্স ও উপস্থিত লোকজনের দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে অস্ফুট স্বরে জানতে চায়— "আমার অন্তরা? আমার আরিয়ান কোথায়? ওরা কি ঠিক আছে? কথা বলছেন না কেন আপনারা?"

উপস্থিত মানুষদের মুখে গভীর বিষাদ আর নীরবতা। কর্তব্যরত চিকিৎসক চোখ নিচু করে রইলেন, একজন বয়স্ক দর্শনার্থী ইশতিয়াকের মাথায় হাত রেখে কেবল সান্ত্বনা দিতে চাইলেন, কিন্তু কোনো শব্দ বের হলো না তাঁর মুখ দিয়ে। সেই জমাট বাঁধা নীরবতাই ইশতিয়াককে নিষ্ঠুর সত্যটি জানিয়ে দিল—একটি ক্ষণিকের অসতর্কতা ও সড়ক দানবের নিষ্ঠুরতা তার পুরো সংসার ও জীবনের সব আলো চিরতরে নিভিয়ে দিয়েছে। ইশতিয়াকের বুকের ভেতর থেকে এক আকাশফাটা আর্তনাদ চারপাশের বাতাস ভারী করে তুলল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন