যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৪
যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন
সকল বাংলাদেশি হয় দেশপ্রেমিক। সাকিব হয় বাংলাদেশি। অতএব, সাকিব হয় দেশপ্রেমিক।
- ক)(1)
মাধ্যম অনুমান কাকে বলে?
- খ)(2)
সহানুমানের সিদ্ধান্ত আশ্রয়বাক্য হতে বেশি ব্যাপক হয় না কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে 'বাংলাদেশি' সহানুমানের কোন পদকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত তিনটি পদের আলোকে সহানুমানের গঠন প্রণালি আলোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে অবরোহ অনুমানে সিদ্ধান্তটি একাধিক পরস্পর সম্বন্ধযুক্ত আশ্রয়বাক্য থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয়, তাকে মাধ্যম অনুমান বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সহানুমান এক প্রকার মাধ্যম অবরোহ অনুমান। অবরোহ অনুমানের মূল বৈশিষ্ট্যই হলো সিদ্ধান্তের ব্যাপকতা কখনোই আশ্রয়বাক্যের ব্যাপকতাকে অতিক্রম করতে পারে না। সহানুমানের সিদ্ধান্তটি প্রধান ও অপ্রধান আশ্রয়বাক্যের মধ্যে মধ্যপদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয়। আশ্রয়বাক্যে যা নিহিত থাকে, সিদ্ধান্তে কেবল তারই প্রকাশ ঘটে; কোনো নতুন তথ্যের সংযোজন ঘটে না। তাই সহানুমানের সিদ্ধান্তের ব্যাপকতা আশ্রয়বাক্যের সমান হতে পারে, কিন্তু কখনোই আশ্রয়বাক্য হতে বেশি ব্যাপক হতে পারে না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'বাংলাদেশি' পদটি সহানুমানের মধ্যপদ বা হেতুপদ (Middle Term)-কে নির্দেশ করে।
যুক্তিবিদ্যায় সহানুমানের যে পদটি উভয় আশ্রয়বাক্যে উপস্থিত থাকে কিন্তু সিদ্ধান্তে অনুপস্থিত থাকে, তাকে মধ্যপদ বা হেতুপদ বলে। মধ্যপদের প্রধান কাজ হলো প্রধান পদ ও অপ্রধান পদের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সাহায্য করা।
উদ্দীপকের যুক্তিটি লক্ষ্য করলে দেখা যায়:
প্রধান আশ্রয়বাক্য: সকল বাংলাদেশি হয় দেশপ্রেমিক।
অপ্রধান আশ্রয়বাক্য: সাকিব হয় বাংলাদেশি।
সিদ্ধান্ত: অতএব, সাকিব হয় দেশপ্রেমিক।এখানে 'বাংলাদেশি' পদটি প্রধান আশ্রয়বাক্য এবং অপ্রধান আশ্রয়বাক্য—উভয়টিতেই বিদ্যমান রয়েছে। কিন্তু এটি সিদ্ধান্তে উপস্থিত নেই। বরং এটি প্রধান পদ 'দেশপ্রেমিক' এবং অপ্রধান পদ 'সাকিব'-এর মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করিয়ে দিয়েছে। সুতরাং, সহানুমানের নিয়ম অনুযায়ী 'বাংলাদেশি' পদটি হলো মধ্যপদ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একটি আদর্শ নিরপেক্ষ সহানুমান তিনটি যুক্তিবাক্য এবং তিনটি পদ নিয়ে গঠিত হয়। উদ্দীপকে উল্লিখিত যুক্তিটি হলো:
প্রধান আশ্রয়বাক্য: সকল বাংলাদেশি হয় দেশপ্রেমিক।
অপ্রধান আশ্রয়বাক্য: সাকিব হয় বাংলাদেশি।
সিদ্ধান্ত: অতএব, সাকিব হয় দেশপ্রেমিক।উদ্দীপকের তিনটি পদের আলোকে সহানুমানের গঠন প্রণালি নিচে আলোচনা করা হলো:
১. পক্ষপদ বা অপ্রধান পদ (Minor Term): সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য পদকে পক্ষপদ বলে। উদ্দীপকের সিদ্ধান্তে 'সাকিব' উদ্দেশ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। অতএব, 'সাকিব' হলো পক্ষপদ। যে আশ্রয়বাক্যে পক্ষপদ থাকে তাকে অপ্রধান আশ্রয়বাক্য বলে; এখানে 'সাকিব হয় বাংলাদেশি' হলো অপ্রধান আশ্রয়বাক্য।
২. সাধ্যপদ বা প্রধান পদ (Major Term): সিদ্ধান্তের বিধেয় পদকে সাধ্যপদ বলে। উদ্দীপকের সিদ্ধান্তে 'দেশপ্রেমিক' শব্দটি বিধেয় পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। সুতরাং, 'দেশপ্রেমিক' হলো সাধ্যপদ। যে আশ্রয়বাক্যে সাধ্যপদ অবস্থান করে তাকে প্রধান আশ্রয়বাক্য বলে; এখানে 'সকল বাংলাদেশি হয় দেশপ্রেমিক' হলো প্রধান আশ্রয়বাক্য।
৩. মধ্যপদ বা হেতুপদ (Middle Term): যে পদটি উভয় আশ্রয়বাক্যে উপস্থিত থাকে কিন্তু সিদ্ধান্তে থাকে না, তাকে মধ্যপদ বলে। উদ্দীপকে 'বাংলাদেশি' পদটি উভয় আশ্রয়বাক্যে বিদ্যমান কিন্তু সিদ্ধান্তে অনুপস্থিত থেকে সাধ্যপদ ও পক্ষপদের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করেছে। সুতরাং, 'বাংলাদেশি' হলো মধ্যপদ।
সহানুমানের গঠন অনুযায়ী, প্রথমে প্রধান আশ্রয়বাক্য, তারপর অপ্রধান আশ্রয়বাক্য এবং পরিশেষে এই দুই আশ্রয়বাক্যের ভিত্তিতে মধ্যপদের সংযোগে সিদ্ধান্তটি গঠিত হয়। উদ্দীপকের যুক্তিটিতে তিনটি নির্দিষ্ট পদ যথানিয়মে ব্যবহৃত হয়ে একটি ত্রুটিহীন বৈধ সহানুমান গঠন করেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও