অর্থনীতি ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৩

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

বাংলাদেশ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কাঁচা পাট, চা, চামড়া, তৈরি পোশাক, শাক-সবজি ও হিমায়িত খাদ্য সহ বিভিন্ন দ্রব্য সামগ্রী রপ্তানি করে। আবার দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে খাদ্যশস্য, তেলবীজ, ভোজ্য তেল ও সারসহ বিভিন্ন মূলধনী দ্রব্য আমদানি করে। এভাবে আমদানি রপ্তানির মাধ্যমে দেশটি যেমন অনুৎপাদিত দ্রব্য ভোগ করতে পার, ঠিক তেমনি উদ্বৃত্ত পন্য রপ্তানি করতে পারে।

  1. ক)

    অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য কি?

    (1)
  2. খ)

    তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়ন বিশ্বায়নকে বেগবান করে - ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপক হতে প্রচলিত ও অপ্রচলিত রপ্তানি পণ্যের একটি তালিকা প্রস্তুত করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে সংঘটিত বাণিজ্য বাংলাদেশের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ? তোমার মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    একটি নির্দিষ্ট দেশের ভৌগোলিক সীমানার ভেতরে বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যে দ্রব্যসামগ্রী ও সেবাকর্মের ক্রয়-বিক্রয় বা লেনদেন সম্পন্ন হয়, তাকে অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ বিশ্বকে একটি একক বৈশ্বিক গ্রামে (Global Village) পরিণত করেছে, যা বিশ্বায়নকে ত্বরান্বিত করেছে।

    তথ্যপ্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে যোগাযোগব্যবস্থা ও তথ্যের আদান-প্রদান অত্যন্ত দ্রুত, সহজ ও সাশ্রয়ী হয়েছে। ইন্টারনেট, ই-কমার্স ও আধুনিক টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার কল্যাণে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থানরত ব্যবসায়ীরা মুহূর্তের মধ্যে লেনদেন সম্পন্ন করতে পারেন এবং পণ্যের বাজার সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন। ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, পুঁজির প্রবাহ এবং সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান সহজতর হওয়ায় তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্বায়নকে অধিকতর বেগবান করছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যেসব পণ্য বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বা অতীতকাল থেকেই নিয়মিত বিদেশে রপ্তানি করে আসছে, সেগুলোকে প্রচলিত রপ্তানি পণ্য বলা হয়। অন্যদিকে, যেসব পণ্য পূর্বে নিয়মিত রপ্তানি হতো না, কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে রপ্তানি শুরু হয়ে বাজারে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করেছে, সেগুলোকে অপ্রচলিত রপ্তানি পণ্য বলা হয়।

    উদ্দীপকে উল্লেখিত রপ্তানি পণ্যগুলোর মধ্যে প্রচলিত ও অপ্রচলিত পণ্যের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

    ১. প্রচলিত রপ্তানি পণ্য:

    • কাঁচা পাট
    • চা
    • চামড়া

    ২. অপ্রচলিত রপ্তানি পণ্য:

    • তৈরি পোশাক
    • শাক-সবজি
    • হিমায়িত খাদ্য
  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে সংঘটিত বাণিজ্যটি হলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য (আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্য), যা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিম্নে এর গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. উদ্বৃত্ত পণ্য রপ্তানি ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন: বাংলাদেশ কাঁচা পাট, চা, চামড়া, তৈরি পোশাক, শাক-সবজি এবং হিমায়িত খাদ্যের মতো উদ্বৃত্ত পণ্য বিশ্ববাজারে রপ্তানি করে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে। এ বৈদেশিক মুদ্রা দেশের রিজার্ভ বৃদ্ধি এবং অর্থনীতির ভিতকে মজবুত করে।

    ২. অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ ও অনুৎপাদিত দ্রব্য ভোগ: কোনো দেশই সব পণ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মাধ্যমে বাংলাদেশ তার অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে খাদ্যশস্য, তেলবীজ ও ভোজ্য তেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য এবং অর্থনৈতিক অবকাঠামো গড়ার প্রয়োজনীয় মূলধনী সামগ্রী আমদানি করতে সক্ষম হয়।

    ৩. কর্মসংস্থান সৃষ্টি: তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যসহ রপ্তানিমুখী বিভিন্ন শিল্পে দেশের কোটি কোটি শ্রমিকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, যা বেকারত্ব দূরীকরণে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।

    ৪. শিল্পায়ন ও প্রযুক্তি স্থানান্তর: মূলধনী দ্রব্য ও যন্ত্রপাতি আমদানির মাধ্যমে দেশের শিল্পায়ন ত্বরান্বিত হচ্ছে এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত হচ্ছে।

    সুতরাং, উদ্বৃত্ত পণ্য রপ্তানি করে রাজস্ব বৃদ্ধি এবং ঘাটতি ও অনুৎপাদিত পণ্য আমদানি করে জনকল্যাণ নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে অপরিসীম ভূমিকা পালন করছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন