রসায়ন ১ম পত্র • কর্মমুখী রসায়ন • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৯

রসায়ন ১ম পত্র প্রশ্ন

বাঁশের কচি কোরল সংগ্রহ → খোসা মুক্তকরণ → ব্লাঞিং → কিউরিং → ক্যানিং

  1. ক)

    আইসোটোপ কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    রাসায়নিক সাম্যাবস্থা গতিশীল- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের আলোকে খাদ্যবস্তুর কৌটাজাতকরণ পদ্ধতি বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের ব্যবহৃত ব্লাঞ্চিং ও ক্যানিং এর গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যেসব পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা বা নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন, তাদেরকে পরস্পরের আইসোটোপ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো উভমুখী বিক্রিয়ার সাম্যাবস্থায় বাহ্যিকভাবে বিক্রিয়া থেমে গেছে মনে হলেও আণবিক পর্যায়ে বিক্রিয়াটি চলমান থাকে। সাম্যাবস্থায় সম্মুখমুখী বিক্রিয়ার বেগ এবং পশ্চাৎমুখী বিক্রিয়ার বেগ সমান হয়ে যায়। ফলে বিক্রিয়ক ও উৎপাদের পরিমাণের আপাত কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায় না। যে হারে বিক্রিয়ক ভেঙে উৎপাদে পরিণত হয়, ঠিক একই হারে উৎপাদ বিক্রিয়া করে বিক্রিয়ক গঠন করে। তাই রাসায়নিক সাম্যাবস্থা মূলত একটি গতিশীল অবস্থা (Dynamic state)।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বাঁশের কচি কোড়ল কৌটাজাতকরণের (ক্যানিং) পদ্ধতি উল্লেখ করা হয়েছে। নিচে এর কৌটাজাতকরণ ধাপগুলো ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করা হলো:

    ১. বাঁশের কচি কোড়ল সংগ্রহ ও বাছাইকরণ: পরিপক্ব কিন্তু কচি বাঁশের কোড়ল সংগ্রহ করে ত্রুটিযুক্ত অংশ আলাদা করা হয়।

    ২. খোসামুক্তকরণ ও টুকরা করা: কোড়লের শক্ত বাইরের খোসা ছাড়িয়ে পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে সুবিধাজনক সাইজে টুকরো টুকরো করে কেটে নেওয়া হয়।

    ৩. ব্লাঞ্চিং (Blanching): টুকরা করা কোড়লগুলোকে ফুটন্ত গরম পানিতে (৮০°–১০০°C তাপমাত্রায়) বা বাষ্পে ২ থেকে ৫ মিনিট উত্তপ্ত করে দ্রুত ঠাণ্ডা পানিতে ডুবিয়ে নেওয়া হয়।

    ৪. কিউরিং (Curing): ব্লাঞ্চিং করা বাঁশের কোড়লকে নির্দিষ্ট ঘনমাত্রার লবণ মিশ্রিত পানিতে (ব্রাইন) ডুবিয়ে বা ফার্মেন্টেশনের মাধ্যমে কড়া বা তিতকুটে স্বাদ দূর করে স্বাদ ও গঠন উন্নত করা হয়।

    ৫. ক্যানিং (কৌটাজাতকরণ): পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত ক্যানে খাদ্যবস্তু প্রবেশ করিয়ে তাতে ফুটন্ত ব্রাইন দ্রবণ বা প্রিজারভেটিভ যুক্ত তরল যোগ করা হয় (ক্যানের উপরে কিছুটা ফাঁকা জায়গা রেখে)। এরপর বাতাস নিষ্কাশন (Exhausting), সিলমোহরকরণ (Seaming) এবং উচ্চ তাপমাত্রায় জীবাণুমুক্তকরণ (Sterilization) শেষে দ্রুত ঠাণ্ডা করে লেবেলিং ও সংরক্ষণের জন্য গুদামজাত করা হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে খাদ্যবস্তু সংরক্ষণে ব্যবহৃত ব্লাঞ্চিং ও ক্যানিং প্রক্রিয়া দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিচে এদের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. ব্লাঞ্চিং এর গুরুত্ব:
    (ক) এনজাইম নিষ্ক্রিয়করণ: বাঁশের কোড়লের ভেতর উপস্থিত পলিমারেজ, পারঅক্সিডেজ প্রভৃতি এনজাইমকে উচ্চতাপে নিষ্ক্রিয় করে, যার ফলে কোড়লের রঙ ও স্বাদের ক্ষতিকর পরিবর্তন রোধ হয়।
    (খ) অণুজীব ধ্বংস: এর ফলে কোড়লের পৃষ্ঠে থাকা বহু ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও অণুজীব ধ্বংস হয়।
    (গ) টিস্যু নরমকরণ ও বাতাস অপসারণ: কোড়লের টিস্যু নরম হয় এবং এর অভ্যন্তরীণ কোষের বাতাস বের হয়ে যায়, যা পরবর্তী কৌটাজাতকরণ ও বায়ু নিষ্কাশন প্রক্রিয়াকে সহজ করে।
    (ঘ) প্রাকৃতিক রঙ ও পুষ্টিগুণ অক্ষুণ্ণ রাখা: ব্লাঞ্চিং খাদ্যবস্তুর প্রাকৃতিক সবুজ বা হালকা হলুদ রঙ সংরক্ষণ করে।

    ২. ক্যানিং এর গুরুত্ব:
    (ক) দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ: ক্যানিং প্রক্রিয়ায় বায়ুরোধী পাত্রে খাদ্যবস্তু উচ্চতাপে নির্বীজন (Sterilize) করা হয়। ফলে অক্সিজেন ও অণুজীব প্রবেশ করতে না পারায় বাঁশের কোড়ল পচনমুক্ত থাকে এবং দীর্ঘদিন ভালো থাকে।
    (খ) পুষ্টিগুণ ও স্বাদ বজায় রাখা: প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে কোড়লের নিজস্ব স্বাদ ও খাদ্যমান দীর্ঘকাল পর্যন্ত সংরক্ষিত থাকে।
    (গ) অমৌসুমে সহজলভ্যতা ও পরিবহন: বাঁশের কোড়ল একটি নির্দিষ্ট সময়ে পাহাড়ি অঞ্চলে জন্মায়। ক্যানিং-এর মাধ্যমে এটি সারাবছর দেশের যেকোনো প্রান্তে এবং বিদেশে সহজে ও নিরাপদভাবে পরিবহন ও বাজারজাত করা যায়।

    সুতরাং, বাঁশের কোড়লকে পচনমুক্ত রেখে দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহারের উপযোগী রাখতে ব্লাঞ্চিং ও ক্যানিং অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন