উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯
উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র প্রশ্ন
নিচে উৎপাদন, বাণিজ্যিক ও সেবাধর্মী তিনটি প্রতিষ্ঠানের কিছু তথ্য দেওয়া হলো-(২০১৬ সালের শিল্পনীতি মোতাবেক)
প্রতিষ্ঠানেরর নাম | প্রতিষ্ঠানের ধরন | ভূমি ও কারখানা ভবন বাদে মূলধনের পরিমাণ | শ্রমিক-কর্মীর সংখ্যা
ক | উৎপাদনধর্মী | ৫২ কোটি টাকা | ৩০৫ জন
খ | বাণিজ্যিক ও সেবাধর্মী | ৩১ কোটি টাকা | ১৩০ জন
গ | উৎপাদনধর্মী | ২৫ কোটি টাকা | ২৮০ জন
- ক)(1)
মিতব্যয়ী উৎপাদন মাত্রা কী?
- খ)(2)
"অমিতব্যয়ী উৎপাদন মাত্রায় পণ্যের মূল্য বাড়ে"- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উৎপাদনের মাত্রা বিবেচনায় 'খ' প্রতিষ্ঠানটি কোন ধরনের এন্টারপ্রাইজ? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত ক ও গ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কোন প্রতিষ্ঠানটি জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে বেশি ভূমিকা রাখে? উৎপাদন মাত্রা বিবেচনায় মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উৎপাদনের যে মাত্রায় বা স্তরে পণ্য প্রতি গড় উৎপাদন ব্যয় সর্বনিম্ন হয়, তাকে মিতব্যয়ী উৎপাদন মাত্রা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মিতব্যয়ী উৎপাদন মাত্রার সীমা অতিক্রম করে উৎপাদনের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি করা হলে অতিরিক্ত সমন্বয়হীনতা, ব্যবস্থাপনার জটিলতা এবং অপচয় দেখা দেয়। এর ফলে গড় উৎপাদন ব্যয় হ্রাস না পেয়ে বরং ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে, যাকে অমিতব্যয়ী উৎপাদন মাত্রা বলে। গড় উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে প্রতিষ্ঠানকে মুনাফা বজায় রাখতে পণ্যের বিক্রয়মূল্য বাড়াতে হয়। তাই বলা হয়, অমিতব্যয়ী উৎপাদন মাত্রায় পণ্যের মূল্য বাড়ে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জাতীয় শিল্পনীতি ২০১৬ অনুযায়ী উৎপাদনের মাত্রা বিবেচনায় 'খ' প্রতিষ্ঠানটি একটি বৃহৎ সেবাধর্মী এন্টারপ্রাইজ বা বৃহৎ শিল্প।
শিল্পনীতি ২০১৬ অনুযায়ী, সেবা ও বাণিজ্যিক খাতের ক্ষেত্রে যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি ও কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য ৩০ কোটি টাকার অধিক কিংবা যে প্রতিষ্ঠানে ১২০ জনের অধিক শ্রমিক নিয়োজিত থাকে, সেগুলোকে বৃহৎ এন্টারপ্রাইজ বা বৃহৎ শিল্প বলে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, 'খ' প্রতিষ্ঠানটি একটি বাণিজ্যিক ও সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান। এর ভূমি ও কারখানা ভবন বাদে স্থায়ী মূলধনের পরিমাণ ৩১ কোটি টাকা (যা ৩০ কোটি টাকার বেশি) এবং নিয়োজিত শ্রমিক-কর্মীর সংখ্যা ১৩০ জন (যা ১২০ জনের বেশি)। যেহেতু মূলধন ও শ্রমিক উভয়ের শর্তই বৃহৎ শিল্পের মাপকাঠিকে নির্দেশ করে, তাই উৎপাদনের মাত্রা বিবেচনায় 'খ' প্রতিষ্ঠানটি একটি বৃহৎ সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' ও 'গ' প্রতিষ্ঠানের মধ্যে 'ক' প্রতিষ্ঠানটি জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে বেশি ভূমিকা রাখে।
জাতীয় শিল্পনীতি ২০১৬ অনুযায়ী উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে:
১. বৃহৎ শিল্প: জমি ও কারখানা ভবন বাদে স্থায়ী সম্পদের মূল্য ৫০ কোটি টাকার অধিক কিংবা শ্রমিক সংখ্যা ৩০০ জনের অধিক।
২. মাঝারি শিল্প: স্থায়ী সম্পদের মূল্য ১৫ কোটি থেকে ৫০ কোটি টাকার মধ্যে কিংবা শ্রমিক সংখ্যা ১২১ থেকে ৩০০ জনের মধ্যে।উদ্দীপক অনুযায়ী, 'ক' প্রতিষ্ঠানের মূলধন ৫২ কোটি টাকা এবং শ্রমিক সংখ্যা ৩০৫ জন; অর্থাৎ এটি একটি বৃহৎ উৎপাদনধর্মী শিল্প। অন্যদিকে, 'গ' প্রতিষ্ঠানের মূলধন ২৫ কোটি টাকা এবং শ্রমিক সংখ্যা ২৮০ জন; যা মাঝারি উৎপাদনধর্মী শিল্পের অন্তর্ভুক্ত।
বৃহৎ প্রতিষ্ঠান হিসেবে 'ক' প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ক্ষমতা ও অর্থনৈতিক প্রভাব 'গ' প্রতিষ্ঠানের তুলনায় অনেক বেশি। বৃহৎ শিল্পে বৃহদায়তন উৎপাদনের সুফল পাওয়া যায়, ফলে কম খরচে উন্নত মানের পণ্য ভোক্তাদের সরবরাহ করা সম্ভব হয়। এছাড়া 'ক' প্রতিষ্ঠানটি অধিক সংখ্যক মানুষের (৩০৫ জন) কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে, যা তাদের আয় ও ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। বৃহৎ শিল্প অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সরকারি রাজস্ব প্রদান এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে মাঝারি শিল্পের চেয়ে তুলনামূলকভাবে বড় অবদান রাখে।
অতএব, উৎপাদন মাত্রা ও অর্থনৈতিক অবদানের ব্যাপকতা বিবেচনায় 'ক' প্রতিষ্ঠানটি জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে 'গ' প্রতিষ্ঠানের চেয়ে বেশি ভূমিকা রাখে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও