সহপাঠ • উপন্যাস: লালসালু • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯
সহপাঠ প্রশ্ন
মাহাবুব সাহেব মধ্যপ্রাচ্যে গিয়ে অঢেল টাকা উপার্জন করেন। এলাকার রাস্তা, সেতু, মসজিদ, মন্দির নির্মাণে তার অকাতর দান রয়েছে। নিঃসন্তান মাহাবুবের পিতৃ-হৃদয়ের আদ্বাদ পূরণে অনেকেই তাকে দ্বিতীয় বিয়ের পরামর্শ দেন। স্ত্রী শামিমাও এ প্রস্তাব সমর্থন করেন। মাহাবুব তার এক বোনের নবজাতককে নিজ সন্তান হিসেবে প্রতিপালন করে স্ত্রী শামিমার মাতৃ-হৃদয়ের অতৃপ্ত বাসনা পূরণ করেন।
- ক)(1)
'লালসালু' কোন ধরনের উপন্যাস?
- খ)(2)
"কেবল ধীরে ধীরে কাটের মত শক্ত হয়ে ওঠে তার মুখটা"- কার মুখ শক্ত হয়ে ওঠে এবং কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের মাহাবুবের সাথে 'লালসালু' উপন্যাসের খালেক ব্যাপারীর চরিত্রের তুলনা করো।
- ঘ)(4)
"উদ্দীপকের প্রতিফলিত ইতিবাচক জীবন চেতনা 'লালসালু' উপন্যাসে অনুপস্থিত।"- উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'লালসালু' একটি সামাজিক সমস্যাপ্রধান ও মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"কেবল ধীরে ধীরে কাঠের মত শক্ত হয়ে ওঠে তার মুখটা"—উক্তিটিতে খালেক ব্যাপারীর প্রথম স্ত্রী আমেনা বিবির মুখ শক্ত হয়ে ওঠার কথা বলা হয়েছে।
আমেনা বিবি নিঃসন্তান থাকায় সন্তানের আশায় মজিদের মাধ্যমে 'পয়পায়জারি' বা পানিপড়ার ব্যবস্থা করা হয়। তবে মজিদের চক্রান্তে তার বিরুদ্ধে পরপুরুষ বা অন্য কারো প্রতি গোপন অনুরাগের অভিযোগ আনা হলে এবং মজিদ তাকে তালাক দেওয়ার নির্দেশ দিলে আমেনা চরম মানসিক আঘাত পায়। ভাগ্যের এই চরম নিষ্ঠুর পরিণতি ও অন্যায়ের মুখে প্রতিবাদহীন অসহায়ত্বে তার মুখ ধীরে ধীরে কাঠের মতো শক্ত ও ভাবলেশহীন হয়ে ওঠে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের মাহাবুবের চরিত্রের মানবিকতা ও সহমর্মিতার বিপরীতে 'লালসালু' উপন্যাসের খালেক ব্যাপারীর চরিত্রে অন্ধ সংস্কার ও সুবিধাবাদী মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়।
'লালসালু' উপন্যাসের খালেক ব্যাপারী গ্রামের একজন প্রভাবশালী মাতব্বর। সে নিঃসন্তান হওয়ার কারণে প্রথম স্ত্রী আমেনা বিবি থাকা সত্ত্বেও সন্তান কামনায় দ্বিতীয় বিয়ে করে। পরবর্তীতে প্রথম স্ত্রী আমেনা বিবির প্রতি মজিদের তোলা অন্যায় ও ভিত্তিহীন অপবাদ সে বিনা দ্বিধায় মেনে নেয় এবং নিজের স্বার্থ ও মজিদের প্রভাব অক্ষুণ্ণ রাখতে আমেনাকে তালাক দেয়। সেখানে কোনো গভীর মানবিক মমত্ববোধ দেখা যায় না।
পক্ষান্তরে, উদ্দীপকের মাহাবুব সাহেব নিঃসন্তান হওয়া সত্ত্বেও সমাজের কুসংস্কার বা দ্বিতীয় বিয়ের সহজ পথে হাঁটেননি। তিনি স্ত্রীর প্রতি অনুগত থেকে এবং স্ত্রীর অপূর্ণ মাতৃত্বের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে বোনের সন্তানকে দত্তক নিয়ে লালন-পালন করেন। এভাবে খালেক ব্যাপারীর সুবিধাবাদ ও হৃদয়হীনতার বিপরীতে মাহাবুব সাহেব এক সংবেদনশীল ও দায়িত্বশীল মানবিক চরিত্রের পরিচয় দিয়েছেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"উদ্দীপকে প্রতিফলিত ইতিবাচক জীবনচেতনা 'লালসালু' উপন্যাসে অনুপস্থিত"—মন্তব্যটি যথাযথ এবং তাৎপর্যপূর্ণ।
উদ্দীপকের মাহাবুব সাহেব বিত্তশালী হয়েও জনকল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ। তিনি এলাকার রাস্তা, সেতু, মসজিদ, মন্দির নির্মাণে মুক্তহস্তে দান করেন এবং নিঃসন্তান জীবনের বেদনাকে দ্বিতীয় বিয়ের মাধ্যমে স্ত্রীর ওপর অবিচার না করে বোনের সন্তান দত্তক নেওয়ার মতো ইতিবাচক ও মানবিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সমাধান করেন। সেখানে রয়েছে নারীর প্রতি মর্যাদা, পারিবারিক শান্তি এবং যুক্তিবাদী মূল্যবোধ।
অন্যদিকে, 'লালসালু' উপন্যাসে প্রতিফলিত সমাজব্যবস্থা ধর্মান্ধতা, কুসংস্কার, শোষণ ও স্বার্থপরতায় আচ্ছন্ন। উপন্যাসের প্রভাবশালী ব্যক্তি খালেক ব্যাপারী নিজ স্বার্থে ধর্মের অপব্যবহারকারী মজিদকে প্রশ্রয় দেয়। খালেক ব্যাপারীর দাম্পত্য জীবনে কোনো ইতিবাচক বা মানবিক সমাধান দেখা যায় না; বরং সন্তান না হওয়ায় সে দ্বিতীয় বিয়ে করে এবং পরবর্তীতে মজিদের চক্রান্তে প্রথম স্ত্রী আমেনা বিবিকে নিষ্ঠুরভাবে তালাক দেয়। পুরো উপন্যাসে নারীর প্রতি পুরুষের স্বেচ্ছাচারিতা, ধর্মের নামে প্রতারণা এবং অন্ধ আনুগত্যই প্রাধান্য পেয়েছে, যেখানে যুক্তিবাদ বা মানবিক ইতিবাচকতার কোনো স্থান নেই।
অতএব, উদ্দীপকে মাহাবুবের চরিত্রে যে উদার, সংবেদনশীল ও কল্যাণমুখী জীবনচেতনা দেখা যায়, 'লালসালু' উপন্যাসের খালেক ব্যাপারী কিংবা তৎকালীন সামাজিক বাস্তবতায় তা সম্পূর্ণ অনুপস্থিত ছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও