যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৭

যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

শীতকালীন ছুটিতে রফিক সাহেব শিলাইদহে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠিবাড়ি পৌছালেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত অনেক ছোটগল্প, কবিতা ও সঙ্গীত সম্পর্কে তিনি তার একমাত্র মেয়ে পিয়াকে ধারণা দিলেন। বাড়ি ফেরার পথে পিয়া জানতে চায়-আব্বু সঙ্গীত কী? জবাবে রফিক সাহেব বলেন, "সঙ্গীত হলো একটা দুর্মূল্য কোলাহল।" পিয়া এর অর্থ কিছুই বুঝল না।

  1. ক)

    মানুষ পদের যৌক্তিক সংজ্ঞা দাও।

    (1)
  2. খ)

    সংজ্ঞায় দুর্বোধ্য ভাষা ব্যবহার করা যাবে না কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে সঙ্গীতের সংজ্ঞাদানে কোন ধরনের সমস্যা হয়েছে বলে তুমি মনে কর?

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত সমস্যা সমাধানে সংজ্ঞাদান প্রক্রিয়াটি আলোচনা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মানুষ পদের যৌক্তিক সংজ্ঞা হলো: "মানুষ হয় বুদ্ধিবৃত্তি সম্পন্ন জীব"।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যৌক্তিক সংজ্ঞার উদ্দেশ্য হলো কোনো পদের অর্থকে সুস্পষ্ট ও প্রাঞ্জল করা। সংজ্ঞায় যদি দুর্বোধ্য বা জটিল শব্দ কিংবা ভাষা ব্যবহার করা হয়, তবে পদটির অর্থ স্পষ্ট হওয়ার বদলে আরও অস্পষ্ট ও জটিল হয়ে পড়ে এবং 'দুর্বোধ্য সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তি' ঘটে। এ কারণে সংজ্ঞায় দুর্বোধ্য ভাষা ব্যবহার করা যায় না।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে সঙ্গীতের সংজ্ঞাদানে 'রূপক সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তি' (বা দুর্বোধ্য সংজ্ঞাজনিত সমস্যা) দেখা দিয়েছে।

    যৌক্তিক সংজ্ঞার দ্বিতীয় নিয়ম অনুযায়ী, যে পদের সংজ্ঞা দিতে হবে, সেই পদটির চেয়ে সংজ্ঞাকে সহজ ও সরল হতে হবে এবং সংজ্ঞায় কোনো রূপক বা দুর্বোধ্য ভাষা ব্যবহার করা যাবে না। নিয়মটি লঙ্ঘন করে রূপক ভাষা ব্যবহার করলে রূপক সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তি ঘটে।

    উদ্দীপকে রফিক সাহেব সঙ্গীতের সংজ্ঞায় বলেছেন, "সঙ্গীত হলো একটা দুর্মূল্য কোলাহল।" এখানে সঙ্গীতের জাত্যর্থ বা প্রকৃত বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট না করে একটি রূপক ও দুর্বোধ্য অভিব্যক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে পিয়া সঙ্গীতের আসল অর্থ বুঝতে ব্যর্থ হয়। সুতরাং, যৌক্তিক সংজ্ঞার নিয়ম লঙ্ঘনের কারণে এখানে অনুপপত্তি ঘটেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত সমস্যাটি সমাধানে যৌক্তিক সংজ্ঞাদানের দ্বিতীয় নিয়মটি সঠিকভাবে অনুসরণ করে পদটির আসন্নতম জাতি ও লক্ষণ উল্লেখ করে সংজ্ঞা দিতে হবে।

    যৌক্তিক সংজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য হলো কোনো পদের যথার্থ ও আবশ্যিক অর্থ (পূর্ণ জাত্যর্থ) প্রকাশ করা। সংজ্ঞাদানের নিয়মানুযায়ী কোনো পদের সংজ্ঞা দিতে হলে পদটির আসন্নতম জাতি (Proximate genus) এবং লক্ষণ বা ব্যবচ্ছেদক গুণ (Differentia) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হয়। সংজ্ঞায় কোনো রূপক, অলঙ্কারিক বা দুর্বোধ্য শব্দ পরিহার করতে হবে।

    উদ্দীপকে সঙ্গীতকে "দুর্মূল্য কোলাহল" বলা হয়েছে, যা একটি রূপক বাক্য। এ সমস্যা সমাধানের জন্য সঙ্গীতের সংজ্ঞায় এর আসন্নতম জাতি (ধ্বনি বা শিল্পকলা) এবং ব্যবচ্ছেদক গুণ (সুরের মূর্ছনা বা তাল-লয় সমৃদ্ধ হওয়া) নির্দেশ করতে হবে। যেমন: "সঙ্গীত হলো সুর ও ছন্দযুক্ত সুমধুর ধ্বনিবিশেষ।" এভাবে যৌক্তিক সংজ্ঞার নিয়ম অনুসারে জাত্যর্থের সুস্পষ্ট প্রকাশের মাধ্যমেই উদ্দীপকের বিভ্রান্তি ও সমস্যার সমাধান সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন