পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
‘ক’ রাষ্ট্রের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভাষাকে বাদ দিয়ে ৫ম স্থানীয় ভাষাকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা করা হলে জনগণ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।
- ক)(1)
‘ঐতিহাসিক আগরতলা মামলা' কী?
- খ)(2)
প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের সাথে তোমার পঠিত কোনো আন্দোলনের সাদৃশ্য আছে কি? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত আন্দোলন ছিল একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলন—বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৬৮ সালে পাকিস্তান সরকার কর্তৃক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে দায়ের করা মিথ্যা মামলাই হলো ‘ঐতিহাসিক আগরতলা মামলা’ (রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন বলতে যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থায় কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে ক্ষমতা বণ্টনের মাধ্যমে গঠিত প্রাদেশিক সরকারের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে পূর্ণ স্বাধীনতা বা কর্তৃত্ব বোঝায়।
এ ব্যবস্থায় দেশরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতির মতো মৌলিক কয়েকটি বিষয় কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে থাকে এবং প্রদেশের অভ্যন্তরীণ প্রশাসন, অর্থনীতি ও অন্যান্য স্থানীয় নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন প্রাদেশিক সরকারের স্বাধীন নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাথে ১৯৫২ সালের ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের সাদৃশ্য রয়েছে।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পর তৎকালীন পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার ৫৬% মানুষের মুখের ভাষা বাংলা হওয়া সত্ত্বেও সংখ্যাগুরু মানুষের দাবি উপেক্ষা করে শাসকগোষ্ঠী সংখ্যালঘিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর ভাষা উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। ফলে বাঙালি জাতি তাদের মায়ের ভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য রাজপথে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, 'ক' রাষ্ট্রের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভাষাকে উপেক্ষা করে মাত্র পঞ্চম স্থানীয় ভাষাকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা করার প্রতিবাদে জনগণ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। পাকিস্তানের ক্ষেত্রেও সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালির মাতৃভাষা বাংলাকে বাদ দিয়ে অপেক্ষাকৃত কম জনসংখ্যার ব্যবহৃত ভাষা উর্দুকে চাপিয়ে দিলে রক্তক্ষয়ী ভাষা আন্দোলন সংঘটিত হয়। সুতরাং, উদ্দীপকের পরিস্থিতি সরাসরি বাঙালির বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনকেই নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত ভাষা আন্দোলনটি মূলত একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলন হিসেবে সূচনা লাভ করেছিল—উক্তিটি যথার্থ।
ভাষা হলো কোনো জাতির সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও আত্মপরিচয়ের প্রধানতম মাধ্যম। পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী যখন সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালিদের মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদাবঞ্চিত করে উর্দু চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে, তখন তা সরাসরি বাঙালির সাহিত্য, কৃষ্টি ও সাংস্কৃতিক সত্তার ওপর আঘাত হিসেবে নেমে আসে। এই আঘাত প্রতিহত করে বাঙালি সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখতেই সূচিত হয় রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন।
এই আন্দোলন ছিল নিজ সংস্কৃতি ও ভাষার অধিকার রক্ষার একটি বিশুদ্ধ সাংস্কৃতিক সংগ্রাম। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতো শিক্ষাবিদ-বুদ্ধিজীবী এবং ছাত্রসমাজ মায়ের ভাষার মর্যাদার প্রশ্নে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি রফিক, সালাম, বরকত, জব্বারসহ অনেকে আত্মাহুতি দিয়ে ভাষার সাংস্কৃতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন।
যদিও ভাষা আন্দোলন পরবর্তীকালে বাঙালির সকল রাজনৈতিক মুক্তি আন্দোলন ও স্বাধীনতার অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছিল, তবে এর মূল ভিত্তি ও কেন্দ্রবিন্দু ছিল নিজস্ব ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে স্বৈরাচারী আগ্রাসন থেকে রক্ষা করা। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত আন্দোলনটি প্রাথমিকভাবে ও মূলত ছিল একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও