সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)
সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
সম্প্রতি মাগুরা জেলার শালিখা গ্রামের ৭০ বছরের বৃদ্ধ হাকিম ১৮ বছরের এক যুবতীকে বিয়ে করে বেশ আলোচিত হয়েছেন। একই এলাকার সুজন তার স্ত্রীর মৃত্যুর পর মৃত স্ত্রীর ছোট বোনকে বিয়ে করেছে। পূর্বে সুজনের ৩ বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
- ক)(1)
জ্ঞাতি সম্পর্ক কী?
- খ)(2)
বংশগতি উত্তরাধিকারসূত্রে আবর্তিত হয়। -আলোচনা কর।
- গ)(3)
হাকিম সাহেবের বিবাহটি কোন ধরনের? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
সুজনের বিবাহের ধরনের সামাজিক গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রক্তের সম্পর্ক, বিবাহবন্ধন বা দত্তক গ্রহণের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে যে সামাজিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে তাকে জ্ঞাতি সম্পর্ক (Kinship) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বংশগতি হলো এমন এক জৈবিক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে পিতামাতা বা পূর্বপুরুষদের শারীরিক ও মানসিক বৈশিষ্ট্যসমূহ তাদের পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে স্থানান্তরিত হয়।
জীববিজ্ঞানের সূত্র অনুযায়ী, মানবদেহের ক্রোমোজোম ও জিনের মাধ্যমে পূর্বপুরুষদের বৈশিষ্ট্য উত্তরাধিকারসূত্রে সন্তানের মধ্যে প্রবাহিত হয়। যেমন—শারীরিক গঠন, গায়ের রং, রক্তের গ্রুপ কিংবা জন্মগত স্বভাবধারা। এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে এই বৈশিষ্ট্যের নিরবচ্ছিন্ন প্রবাহের কারণেই বলা হয় বংশগতি উত্তরাধিকারসূত্রে আবর্তিত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে হাকিম সাহেবের বিবাহটি বয়সের পার্থক্যের ভিত্তিতে 'অসম বিবাহ' বা 'বিলম্বিত বয়সের অসম বিবাহ'।
সমাজবিজ্ঞানে বর ও কনের বয়সের স্বাভাবিক সামঞ্জস্য না থাকলে বা তাদের মধ্যে বয়সের ব্যবধান অস্বাভাবিক বেশি হলে তাকে অসম বিবাহ বলা হয়। সাধারণত সমাজে সমবয়সী বা কাছাকাছি বয়সের নর-নারীর বিয়েই স্বাভাবিক ও কাম্য হিসেবে বিবেচিত হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধ হাকিম সাহেব ১৮ বছর বয়সী এক যুবতীকে বিয়ে করেছেন। এখানে বর ও কনের মধ্যকার বয়সের ব্যবধান ৫২ বছর, যা অত্যন্ত অস্বাভাবিক ও সমাজে বিতর্ক বা আলোচনার জন্ম দেয়। পাত্র ও পাত্রীর মধ্যে বিশাল বয়সের ব্যবধান থাকার কারণে সমাজতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটি একটি অসম বিবাহ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে সুজনের বিবাহটি সমাজবিজ্ঞানের ভাষায় 'শ্যালিকা বিবাহ' (Sororate marriage), যার যথেষ্ট সামাজিক ও পারিবারিক গুরুত্ব রয়েছে।
স্ত্রী মারা গেলে মৃত স্ত্রীর বোন বা শালিকাকে বিয়ে করার রীতিকে শ্যালিকা বিবাহ বলা হয়। এ ধরনের বিবাহ বিশেষ পরিস্থিতিতে পরিবার ব্যবস্থার স্থায়িত্ব এবং সামাজিক সংহতি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সুজনের এই বিবাহের সামাজিক গুরুত্বগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. মাতৃহীন সন্তানের সুরক্ষা ও লালন-পালন: সুজনের পূর্বে ৩ বছরের একটি অবুঝ কন্যা সন্তান রয়েছে। সৎমায়ের চেয়ে নিজের আপন খালা সন্তানের প্রতি অধিক স্নেহশীল ও যত্নবান হতে পারেন। ফলে শিশুটির সঠিক লালন-পালন ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত হয়।
২. পারিবারিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতা: স্ত্রীর মৃত্যুর পর দুই পরিবারের মধ্যে বিদ্যমান বৈবাহিক ও আত্মীয়তার সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। শ্যালিকা বিবাহের ফলে উভয় পরিবারের পারস্পরিক বন্ধন ও সৌহার্দ্য অটুট থাকে।
৩. সামাজিক নিরাপত্তা ও অভিযোজন: নতুন কোনো অপরিচিত নারীর চেয়ে পূর্ব পরিচিত পরিবারের সদস্য হওয়ায় পারিবারিক পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়া সহজ হয়, যা পরিবারের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও শান্তি বজায় রাখতে সহায়তা করে।অতএব, মাতৃহীন শিশুটির সঠিক পরিচর্যা এবং উভয় পরিবারের মধ্যকার সামাজিক ভারসাম্য ও সুসম্পর্ক রক্ষায় সুজনের শ্যালিকা বিবাহের সামাজিক গুরুত্ব অপরিসীম।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও