ইসলাম শিক্ষা ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১
ইসলাম শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন
জনাব আবুল কাশেম একটি মসজিদের ইমাম। তিনি এক খুতবায় বলেন, সন্তানদেরকে ইমান-আকিদা, হালাল-হারাম, ন্যায়-অন্যায়, শিষ্টাচার, নম্রতা, ভদ্রতা সম্পর্কে জ্ঞান দান করা প্রত্যেক বাবা-মার কর্তব্য। উক্ত শিক্ষার অভাবে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়েও অনেকে নানাবিধ অপকর্মে লিপ্ত হচ্ছে। মহানবি (স.) বলেছেন, "তোমরা জ্ঞান-বিজ্ঞান শিক্ষা কর এবং তা মানুষকে শিক্ষা দাও।"
- ক)(1)
ইলম শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
"আলিমগণই নবিদের ওয়ারিশ।"- ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে জনাব আবুল কাশেমের বক্তব্য কোন বিষয়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত জনাব আবুল কাশেম সাহেব যে শিক্ষার কথা বলেছেন- উহার সামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'ইলম' (علم) শব্দের অর্থ জ্ঞান, জানা বা অবগত হওয়া।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"আলিমগণই নবিদের ওয়ারিশ"—রাসূলুল্লাহ (স.)-এর এ বাণী দ্বারা প্রকৃত আলিম বা আলেমগণের মর্যাদা ও দায়িত্বের কথা বোঝানো হয়েছে।
নবি-রাসূলগণ দুনিয়াতে কোনো ধন-সম্পদ বা পার্থিব উত্তরাধিকার রেখে যাননি; বরং তাঁরা রেখে গেছেন জ্ঞান ও হেদায়েত। আলিমগণ ইলমে ওহি ও সুন্নাহর ধারক-বাহক হিসেবে সমাজ থেকে অজ্ঞতা দূর করেন এবং মানুষকে সত্য ও ন্যায়ের পথে পরিচালিত করেন। নবিগণের অর্পিত দায়িত্ব পালন করায় তাঁদেরকে নবিদের উত্তরসূরি বা ওয়ারিশ বলা হয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে জনাব আবুল কাশেমের বক্তব্যটি ইসলামে 'নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষা' তথা 'ইসলামী শিক্ষার গুরুত্ব'-এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
ইসলামে জ্ঞানার্জনকে নর-নারীর ওপর ফরজ করা হয়েছে এবং এই জ্ঞানের মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষকে আল্লাহভীতি, নৈতিকতা, হালাল-হারাম ও আদব-কায়দা শেখানো। কেবল বৈষয়িক শিক্ষায় শিক্ষিত হলে মনুষ্যত্ব বিকশিত হয় না; নৈতিক শিক্ষার সমন্বয় না থাকলে মানুষ অসৎ পথে ধাবিত হয়।
উদ্দীপকে জনাব আবুল কাশেম অভিভাবকদের দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছেন—সন্তানদের ইমান-আকিদা, হালাল-হারাম ও শিষ্টাচার শেখাতে হবে; অন্যথায় উচ্চশিক্ষিত হয়েও মানুষ বিপথগামী হতে পারে। তাঁর এই বক্তব্য ইসলামে চরিত্র গঠনমূলক ও মূল্যবোধসম্পন্ন শিক্ষার যে তাগিদ দেওয়া হয়েছে, তার সাথেই হুবহু সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে জনাব আবুল কাশেম সাহেব ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার কথা বলেছেন, যার সামাজিক প্রভাব অত্যন্ত ইতিবাচক ও সুদূরপ্রসারী।
শুধু বৈষয়িক শিক্ষা মানুষকে প্রযুক্তিগত ও পেশাগতভাবে দক্ষ করলেও চরিত্রবান করে তোলার নিশ্চয়তা দেয় না। এজন্য প্রয়োজন ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার মেলবন্ধন। এর সামাজিক প্রভাব নিচে মূল্যায়ন করা হলো:
১. অপরাধ ও অপকর্ম রোধ: নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত ব্যক্তিরা আল্লাহভীতি ও পরকালের জবাবদিহিতার অনুভূতি রাখেন, ফলে তাঁরা দুর্নীতি, অন্যায় ও অসদাচরণ থেকে দূরে থাকেন।
২. সুস্থ সমাজ গঠন: নম্রতা, শিষ্টাচার ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের মাধ্যমে সমাজে শৃঙ্খলা, ঐক্য ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠিত হয়।
৩. সুনাগরিক তৈরি: ইমান ও আকিদাসম্পন্ন ব্যক্তি দেশ ও জাতির কল্যাণে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে, যা টেকসই জাতীয় উন্নয়ন নিশ্চিত করে।
৪. পারিবারিক শান্তি: সন্তানরা মা-বাবার প্রতি কর্তব্যপরায়ণ হয় এবং পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় হয়।অতএব, আবুল কাশেম সাহেবের উল্লেখিত ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার প্রচার ও প্রসারই সমাজকে পঙ্কিলতামুক্ত করে একটি আদর্শ ও শান্তিময় সমাজ উপহার দিতে পারে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও