সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২
সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
জাবেদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগ থেকে এম.এস.এস. পাস করেছে। সে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা গড়ে তোলে। প্রশিক্ষণ প্রদান, শিক্ষা ও কাজের মাধ্যমে মানব সম্পদ উন্নয়ন তথা সমাজ থেকে দারিদ্রদ্র্য নির্মূল করাই হচ্ছে এই সংস্থাটির অন্যতম উদ্দেশ্য। উক্ত উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সে টার্গেট গ্রুপ তৈরি করে সংস্থাটির কার্যক্রম শুরু করে। বর্তমানে সংস্থাটি স্বনির্ভর জনগোষ্ঠী তৈরিতে সমাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।
- ক)(1)
NGO এর পূর্ণরূপ কী?
- খ)(2)
বেকারত্ব বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকের জাবেদের উদ্যোগ কোন ধরনের সংস্থার কার্যক্রমকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
"স্বনির্ভর সমাজ বিনির্মাণে জাবেদের মতো গড়ে তোলা সংস্থাসমূহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে" - উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
NGO এর পূর্ণরূপ হলো Non-Governmental Organization (বেসরকারি সংস্থা)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বেকারত্ব হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে একজন কর্মক্ষম ও কাজ করতে ইচ্ছুক ব্যক্তি প্রচলিত মজুরিতে উপযুক্ত কাজ খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়।
অর্থনীতি ও সমাজবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে, কোনো ব্যক্তির শারীরিক ও মানসিক সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও এবং প্রচলিত বাজারদরে কাজ করতে প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও যদি কর্মসংস্থানের সুযোগ না পায়, তবে তাকে বেকার বলা হয় এবং এই পরিস্থিতিকে বেকারত্ব বলে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের জাবেদের উদ্যোগটি বেসরকারি সংস্থা বা এনজিও (NGO)-এর কার্যক্রমকে নির্দেশ করে।
এনজিও হলো এমন একটি অলাভজনক, স্বেচ্ছাসেবী ও বেসরকারি উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠান যা তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করে। এগুলো সাধারণত সরকারের সহায়ক হিসেবে কাজ করে নির্দিষ্ট লক্ষ্যভুক্ত জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে ভূমিকা রাখে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জাবেদ সমাজকর্ম থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা গড়ে তোলে। সংস্থাটির উদ্দেশ্য প্রশিক্ষণ, শিক্ষা এবং কাজের মাধ্যমে মানবসম্পদ উন্নয়ন করে সমাজ থেকে দারিদ্র্য নির্মূল করা। এ লক্ষ্যে সে নির্দিষ্ট 'টার্গেট গ্রুপ' নির্ধারণ করে কাজ পরিচালনা করে। এনজিওসমূহের কাজের মূল বৈশিষ্ট্যই হলো নির্দিষ্ট লক্ষ্যভুক্ত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান ও স্বাবলম্বিতা অর্জন নিশ্চিত করা। সুতরাং, জাবেদের উদ্যোগটি সুস্পষ্টভাবে এনজিওর কার্যক্রমকে নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"স্বনির্ভর সমাজ বিনির্মাণে জাবেদের মতো গড়ে তোলা সংস্থাসমূহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে"— বক্তব্যটি যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত।
উন্নয়নশীল দেশে সরকারের একার পক্ষে সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা কঠিন। সেখানে জাবেদের মতো গড়ে তোলা বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা বা এনজিওগুলো স্বনির্ভর জনগোষ্ঠী গঠনে অনুঘটকের ভূমিকা পালন করে।
প্রথমত, এই ধরনের সংস্থাগুলো পিছিয়ে পড়া এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে নিয়ে 'টার্গেট গ্রুপ' তৈরি করে। ফলে সহায়তাবঞ্চিত মানুষরা সরাসরি উপকৃত হয়। দ্বিতীয়ত, এগুলো বৃত্তিমূলক ও কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করে, যা বেকারত্ব দূরীকরণে সহায়ক। তৃতীয়ত, ক্ষুদ্রঋণ, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করে গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলে। ফলে সমাজের তৃণমূল পর্যায়ে অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা বৃদ্ধি পায় এবং পরনির্ভরশীলতা হ্রাস পায়।
উদ্দীপকে জাবেদের সংস্থা প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে দারিদ্র্য নির্মূল করে স্বনির্ভর জনগোষ্ঠী তৈরিতে অবদান রাখছে। এ ধরনের বাস্তবমুখী উদ্যোগ সমাজকে স্বাবলম্বী করে তোলে এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করে। তাই বলা যায়, স্বনির্ভর সমাজ বিনির্মাণে জাবেদের মতো সংস্থাগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও