ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৫
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র প্রশ্ন
মা সুয়েটার ফ্যাক্টরীতে রবি এবং শফি একই পদে কর্মরত দুইজন কর্মী। তাদের বস কবির রহমান সাহেব প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। একদিন রবি ও শফি এর মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেওয়ায় রবি, শফি এর বিরুদ্ধে রহমান সাহেবের নিকট অভিযোগ করলে তিনি রবি এর উপর চোখ রাঙ্গিয়ে কবিরকে ডেকে তার অধস্তন কর্মীদের নিয়মকানুন শেখানোর নির্দেশ দেন।
- ক)(1)
ব্যবস্থাপনা কী?
- খ)(2)
আদেশের ঐক্য বলতে কি বুঝ?
- গ)(3)
মা সুয়েটার ফ্যাক্টরীতে ব্যবস্থাপনার কোন নীতিটি লঙ্ঘিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ভূমিকা কী সঠিক ছিল? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য এতে নিয়োজিত মানবীয় ও বস্তুগত উপায়-উপকরণগুলোর কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে পরিকল্পনা, সংগঠন, কর্মীসংস্থান, নির্দেশনা, প্রেষণা, সমন্বয়সাধন ও নিয়ন্ত্রণ কার্যাবলির সামগ্রিক প্রক্রিয়াকে ব্যবস্থাপনা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আদেশের ঐক্য (Unity of Command) নীতি বলতে বোঝায়—প্রতিষ্ঠানের একজন অধস্তন কর্মী কেবল একজন প্রত্যক্ষ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নিকট থেকেই আদেশ লাভ করবেন এবং কেবল তাঁর নিকটই জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকবেন।
যদি একজন কর্মীকে একাধিক কর্মকর্তা পৃথক বা পরস্পরবিরোধী আদেশ প্রদান করেন, তবে কর্মীর মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় এবং দায়িত্ব এড়িয়ে চলার সুযোগ তৈরি হয়। তাই শৃঙ্খলা ও কাজের গতিশীলতা বজায় রাখতে আদেশের ঐক্য নীতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মা সুয়েটার ফ্যাক্টরীতে ব্যবস্থাপনার 'জোড়া-মই শিকল' (Scalar Chain) নীতিটি লঙ্ঘিত হয়েছে।
হেনরি ফেওল নির্দেশিত জোড়া-মই শিকল নীতি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পর্যায় থেকে সর্বনিম্ন পর্যায় পর্যন্ত কর্তৃত্ব ও যোগাযোগের একটি নিরবচ্ছিন্ন ও সুনির্দিষ্ট শিকল বা ধারা বজায় থাকবে। পদসোপান অনুযায়ী যে-কোনো বার্তা বা অভিযোগ ক্রমানুসারে ওপর থেকে নিচে বা নিচ থেকে ওপরে প্রবাহিত হওয়া নিয়ম।
উদ্দীপকে দেখা যায়, রবি এবং শফির ঊর্ধ্বতন বস হলেন কবির। কিন্তু তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দিলে রবি সরাসরি কবিরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রহমান সাহেবের নিকট অভিযোগ জানায়। রবি তার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধায়ক বা বস কবিরকে এড়িয়ে সরাসরি শীর্ষ কর্মকর্তার কাছে যাওয়ায় কর্তৃত্ব ও যোগাযোগের নির্ধারিত ক্রমভঙ্গ হয়েছে। ফলে এখানে ব্যবস্থাপনার জোড়া-মই শিকল নীতিটি লঙ্ঘিত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রহমান সাহেবের রবিকে ধমক দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়ার আচরণগত দিক সমর্থনযোগ্য না হলেও প্রাতিষ্ঠানিক নীতি ও শৃঙ্খলার দৃষ্টিকোণ থেকে তাঁর সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল।
প্রতিষ্ঠানের নিয়মানুযায়ী, কোনো কর্মীর কোনো সমস্যা বা অসন্তোষ দেখা দিলে তা প্রথমে তার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধায়কের কাছে জানাতে হয়। প্রত্যক্ষ কর্মকর্তাকে এড়িয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে গেলে প্রতিষ্ঠানের পদসোপান ভেঙে পড়ে এবং মধ্যম স্তরের কর্মকর্তাদের কর্তৃত্ব ক্ষুণ্ন হয়। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার উচিত অধস্তনদের প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম মেনে চলতে বাধ্য করা।
উদ্দীপকে রবি তার সরাসরি বস কবিরকে না জানিয়ে সোজা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রহমান সাহেবের কাছে অভিযোগ নিয়ে যায়, যা প্রশাসনিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী। রহমান সাহেব রবির ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করে কবিরকে ডেকে অধস্তনদের নিয়মকানুন শেখানোর নির্দেশ দেন। প্রশাসনিক কাঠামোর নিয়মরক্ষা ও চেইন অব কমান্ড বজায় রাখার স্বার্থে কবিরের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করতে বলা যথার্থ ছিল। তবে একজন শীর্ষ কর্মকর্তা হিসেবে রবির ওপর চোখ না রাঙিয়ে ধৈর্যসহকারে ও শান্তভাবে নিয়মের বিষয়টি বুঝিয়ে দিলে তা আরও ইতিবাচক ও পেশাদার হতো। সার্বিক দিক বিবেচনায় প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা রক্ষায় তাঁর পদক্ষেপ যৌক্তিক ছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও