বাংলা ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৩

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

ব্রিটিশ শাসনামলে ইংরেজরা এদেশের চাষীদের দিয়ে জোর করে নীলচাষ করাতো। চাষীদেরকে নামেমাত্র দাদন দিয়ে নীলচাষ করানো হতো। নীলচাষে বাধ্য হওয়ায় চাষীরা তাদের প্রয়োজনীয় শস্য যেমন ধান, পাট, সরিষা ইত্যাদি উৎপাদন করতে পারতো না। নীলচাষ করতে অপারগ হলে চাষীদের ওপর নেমে আসতো নির্মম অত্যাচার। এ কারণে গড়ে ওঠে নীল বিদ্রোহ। নদীয়ার বিষ্ণুচরণ ও পাবনার কাদের মোল্লার মতো অসংখ্য মানুষ কৃষক- আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। ধীরে ধীরে এ আন্দোলন সারা বাংলায় ছড়িয়ে পড়ে।

  1. ক)

    'ফেব্রুয়ারি-১৯৬৯' কবিতায় শহরের পথে ধরে ধরে কী ফুটেছে?

    (1)
  2. খ)

    "এ রঙের বিপরীত আছে অন্য রং” —বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের বিষ্ণু ও কাদের মোল্লা 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতার কাদের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়? এ সাদৃশ্যের কারণ ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    “উদ্দীপক এবং ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ কবিতা মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সংগ্রামী চেতনার এক অসাধারণ শিল্পভাষ্য"–কবিতার আলোকে বক্তব্যের সপক্ষে যুক্তি দেখাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতায় শহরের পথে পথে ফুটেছে রক্তজবা অর্থাৎ কৃষ্ণচূড়া ফুল।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "এ রঙের বিপরীত আছে অন্য রং" বলতে একুশের ভাষা আন্দোলনের আত্মত্যাগী রক্তিম রঙের বিপরীতে ঘাতক পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর চাপিয়ে দেওয়া শোষণ, নির্যাতন, অমানবিকতা ও মৃত্যুর কৃষ্ণবর্ণকে বোঝানো হয়েছে।

    'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতায় কবি শামসুর রাহমান দেখিয়েছেন, কৃষ্ণচূড়ার মতো লাল রং হলো বাঙালির আত্মদান, চেতনা ও মুক্তির প্রতীক। এর বিপরীতে যে অন্য রং বিদ্যমান, তা হলো শাসকগোষ্ঠীর অন্যায়, শোষণ এবং নিষ্ঠুরতার প্রতীক—যা সবসময় মানুষের স্বাভাবিক জীবন ও অধিকারকে ভূলুণ্ঠিত করে অন্ধকার নিয়ে আসে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের বিষ্ণুচরণ ও কাদের মোল্লা 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতার সালাম, বরকত ও গণ-আন্দোলনের শহীদদের এবং আত্মোৎসর্গকারী বীর আন্দোলনকারীদের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, ব্রিটিশ আমলে নীলকরদের চরম শোষণ ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে সাধারণ কৃষকদের সংগঠিত করে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন নদীয়ার বিষ্ণুচরণ ও পাবনার কাদের মোল্লা। তারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষের মুক্তির পথ তৈরি করেছিলেন।

    অন্যদিকে, 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতায় ১৯৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে বরকত, সালাম প্রমুখের আত্মত্যাগ এবং জনতার সংগ্রামী ভূমিকার কথা তুলে ধরা হয়েছে। তারা পাকিস্তানি স্বৈরশাসকদের অন্যায়-নিপীড়নের বিরুদ্ধে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে রাজপথে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। কৃষক আন্দোলন এবং গণ-অভ্যুত্থান উভয় ক্ষেত্রেই দেখা যায় অন্যায় শোষণের বিরুদ্ধে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী মুক্তিকামী মানুষদের সাহসী আত্মপ্রকাশ। তাই উদ্দীপকের বিষ্ণুচরণ ও কাদের মোল্লা 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতার সেই আত্মত্যাগী বীরদের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপক এবং 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতা উভয় রচনাই যুগ যুগ ধরে শোষিত মানুষের অধিকার আদায়ের স্বতঃস্ফূর্ত সংগ্রামী চেতনা ও প্রতিবাদের এক অসাধারণ শিল্পভাষ্য—বক্তব্যটি যথার্থ।

    উদ্দীপকে ব্রিটিশ শাসকদের অমানবিক নীলচাষ বাধ্যবাধকতা, দাদন প্রথা ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে বাংলার শোষিত কৃষকদের ক্ষোভের স্বতঃস্ফূর্ত বহিঃপ্রকাশ দেখানো হয়েছে। শোষণ যখন চরমে পৌঁছেছে, তখন সাধারণ মানুষ বিষ্ণুচরণ ও কাদের মোল্লার নেতৃত্বে প্রাণপণ নীল বিদ্রোহে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

    একইভাবে, শামসুর রাহমানের 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতায় ফুটে উঠেছে পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসকগোষ্ঠীর স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতির ঐক্যবদ্ধ ও স্বতঃস্ফূর্ত গণপ্রতিরোধের চিত্র। ১৯৬৯-এর গণ-আন্দোলনে শহরের পথে পথে সালাম, বরকতের মতো তরুণরা রাজপথে নেমে আসে এবং তাদের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হয়। শোষণের শিকার সাধারণ মানুষও ভয়-ভীতি ভুলে স্বাধীনতার আকাক্ষায় আত্মোৎসর্গে উদ্বুদ্ধ হয়।

    উভয় প্রেক্ষাপটেই প্রতীয়মান হয় যে, শাসক ও শোষক শ্রেণির দীর্ঘদিনের নির্যাতন, নিপীড়ন ও পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙতে সাধারণ মানুষ নিজের তাগিদেই রাজপথে নামে এবং প্রতিরোধ গড়ে তোলে। সুতরাং, মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সম্মিলিত চেতনার রূপায়ণ ঘটেছে উদ্দীপক ও 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতায়। তাই উক্তিটি সম্পূর্ণরূপে যুক্তিযুক্ত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন