জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৯
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
নিচের চিত্রটি লক্ষ কর এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:

- ক)(1)
ব্যারোরিসিপ্টর কাকে বলে?
- খ)(2)
MI বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
ধারাবাহিকভাবে চিত্রের তীর চিহ্নিত গতিপথগুলো ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
মানবদেহে 'P' অকেজো হয়ে পড়লে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের অভাবে মৃত্যু ঘটতে পারে-বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রাণিদেহের রক্তনালির প্রাচীরে অবস্থিত যেসব সংবেদী স্নায়ুপ্রান্ত রক্তের চাপের পরিবর্তনে সংবেদনশীল হয়ে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে, তাদেরকে ব্যারোরিসিপ্টর (Baroreceptor) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
MI হলো 'Myocardial Infarction' (মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন)-এর সংক্ষিপ্ত রূপ, যা সাধারণভাবে হার্ট অ্যাটাক নামে পরিচিত।
করোনারি ধমনি কোনো কারণে অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস বা রক্তজমাট বাঁধার (থ্রম্বোসিস) কারণে সংকুচিত বা অবরুদ্ধ হয়ে পড়লে হৃৎপেশিতে রক্ত ও অক্সিজেনের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে সংশ্লিষ্ট হৃৎপেশি ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংসপ্রাপ্ত (নেক্রোসিস) হয়। এ অবস্থাকেই মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন বা হার্ট অ্যাটাক বলে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্রে তীরচিহ্নিত গতিপথগুলো মানব হৃৎপিণ্ডে রক্ত সঞ্চালনের দিক নির্দেশ করছে। গতিপথগুলো নিম্নরূপ:
১. ১ ও ২ চিহ্নিত গতিপথ: ১ (ইনফেরিয়র ভেনাক্যাভা বা নিম্ন মহাশিরা) এবং ২ (সুপিরিয়র ভেনাক্যাভা বা ঊর্ধ্ব মহাশিরা)-এর মাধ্যমে সারা দেহ থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইডসমৃদ্ধ (ডিঅক্সিজেনেটেড) রক্ত হৃৎপিণ্ডের ডান অ্যাট্রিয়ামে প্রবেশ করে।
২. ৩ চিহ্নিত গতিপথ: ডান অ্যাট্রিয়াম থেকে ট্রাইকাসপিড কপাটিকা দিয়ে রক্ত ডান ভেন্ট্রিকলে যায়। এরপর ডান ভেন্ট্রিকলের সংকোচনে রক্ত ৩ চিহ্নিত পালমোনারি ধমনির (তীরচিহ্নিত বহির্মুখী পথ) মাধ্যমে ফুসফুসে প্রবেশ করে পরিশোধিত বা অক্সিজেনযুক্ত হওয়ার জন্য।
৩. ৪ চিহ্নিত গতিপথ: ফুসফুস থেকে অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত ৪ চিহ্নিত পালমোনারি শিরার মধ্য দিয়ে বাম অ্যাট্রিয়ামে প্রবেশ করে।
৪. ৫ চিহ্নিত গতিপথ: বাম অ্যাট্রিয়াম থেকে বাইকাসপিড কপাটিকা অতিক্রম করে রক্ত বাম ভেন্ট্রিকলে পৌঁছায়। বাম ভেন্ট্রিকল সংকুচিত হলে অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত ৫ চিহ্নিত মহাধমনি বা অ্যাওর্টার মধ্য দিয়ে সারা দেহে ছড়িয়ে পড়ে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'P' চিহ্নিত অংশটি হলো ডান অ্যাট্রিয়ামের প্রাচীরে অবস্থিত সাইনো-অ্যাট্রিয়াল নোড (SAN), যাকে মানবদেহের প্রাকৃতিক 'পেসমেকার' বলা হয়।
হৃৎস্পন্দন সৃষ্টির মূল কেন্দ্র হলো SAN। এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যাকশন পটেনশিয়াল বা বৈদ্যুতিক উদ্দীপনা তৈরি করে হৃৎপিণ্ডের সংকোচন-প্রসারণের ছন্দ নিয়ন্ত্রণ করে।
SAN বা 'P' অকেজো হয়ে পড়লে মানবদেহে নিম্নলিখিত জটিলতা সৃষ্টি হয়:
১. স্বাভাবিক হৃৎস্পন্দন বন্ধ বা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত (অ্যারিদমিয়া, ব্র্যাডিকার্ডিয়া) হতে পারে।
২. হৃৎপিণ্ড কার্যকরভাবে রক্ত পাম্প করতে ব্যর্থ হওয়ায় মস্তিষ্কে এবং দেহের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে রক্ত ও অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দেয়।
৩. এর ফলে রোগী অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে (অ্যাডামস-স্টোকস সিনড্রোম), হৃৎযন্ত্রের ক্রিয়া সম্পূর্ণ বন্ধ (কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট) হতে পারে।যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ:
'P' বিকল হয়ে পড়লে দ্রুত কৃত্রিম পেসমেকার (Artificial Pacemaker) প্রতিস্থাপন করতে হয়। কৃত্রিম পেসমেকার লিথিয়াম ব্যাটারি ও ইলেকট্রোডের সাহায্যে নিয়মিত বৈদ্যুতিক স্পন্দন পাঠিয়ে হৃৎস্পন্দন স্বাভাবিক রাখে। সময়মতো এই কৃত্রিম পেসমেকার প্রতিস্থাপন বা চিকিৎসা না করা হলে রোগীর মৃত্যু অনিবার্য হয়ে পড়ে।অতএব, 'P' অকেজো হয়ে পড়লে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের অভাবে মৃত্যু ঘটতে পারে—উক্তিটি যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও