উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৯

উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র প্রশ্ন

নিচের দুটি দেশ আয় পদ্ধতিতে জাতীয় আয় নির্ণয় করে। ২০১৮ সালে দুটি দেশের অর্থনীতি বিষয়ক কিছু তথ্য নিম্নরূপ:মোট জনসংখ্যা 'ক' দেশের ২০ কোটি এবং 'খ' দেশের ১৬ কোটি।

বিবরণ | 'ক' দেশ (কোটি ডলার) | 'খ' দেশ (কোটি ডলার)
মজুরি ও বেতনখাজনামুনাফাসুদপরোক্ষ কর | ৭,০০০৬,০০০৮,০০০৬,০০০২,০০০ | ৬,৫০০৫,০০০৮,৫০০৫,৭০০১,৭০০

  1. ক)

    নিট জাতীয় আয় কী?

    (1)
  2. খ)

    মোট দেশজ উৎপাদন কীভাবে নির্ণয় করা যায়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত তথ্য থেকে 'ক' দেশের জাতীয় আয় নির্ণয় করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে দুটি দেশের মধ্যে তোমার মতে কোন দেশটি উন্নত? মাথাপিছু আয়ের প্রেক্ষিতে মতামত ব্যক্ত করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো নির্দিষ্ট সময়ে একটি দেশের মোট জাতীয় উৎপাদন (GNP) থেকে মূলধন ব্যবহারজনিত অবচয় ব্যয় (CCA) বাদ দিলে যা অবশিষ্ট থাকে, তাকে নিট জাতীয় আয় বা নিট জাতীয় উৎপাদন (NNP) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মোট দেশজ উৎপাদন (GDP) মূলত তিনটি পদ্ধতির মাধ্যমে নির্ণয় করা যায়: উৎপাদন পদ্ধতি, আয় পদ্ধতি এবং ব্যয় পদ্ধতি।

    ১. উৎপাদন পদ্ধতি: দেশের অভ্যন্তরে সকল খাতে (কৃষি, শিল্প, সেবা) উৎপাদিত চূড়ান্ত দ্রব্যের বাজারমূল্য যোগ করে।
    ২. আয় পদ্ধতি: দেশের সীমানার ভেতরে উৎপাদনের উপাদানসমূহের অর্জিত আয় (খাজনা + মজুরি + সুদ + মুনাফা) যোগ করে।
    ৩. ব্যয় পদ্ধতি: দেশের ভেতরে সকল ব্যয়ের সমষ্টি, অর্থাৎ ভোক্তা ব্যয় (C), বিনিয়োগ ব্যয় (I), সরকারি ব্যয় (G) এবং নিট রপ্তানি (X - M) যোগ করে GDP = C + I + G + (X - M) সূত্রের সাহায্যে নির্ণয় করা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী আয় পদ্ধতিতে জাতীয় আয় (National Income, NI) নির্ণয় করা হলো:

    আয় পদ্ধতি অনুসারে জাতীয় আয় (NI) = মজুরি ও বেতন + খাজনা + সুদ + মুনাফা

    'ক' দেশের ক্ষেত্রে:
    মজুরি ও বেতন = ৭,০০০ কোটি ডলার
    খাজনা = ৬,০০০ কোটি ডলার
    মুনাফা = ৮,০০০ কোটি ডলার
    সুদ = ৬,০০০ কোটি ডলার

    অতএব, 'ক' দেশের জাতীয় আয় = ৭,০০০ + ৬,০০০ + ৮,০০০ + ৬,০০০ = ২৭,০০০ কোটি ডলার।

    (উল্লেখ্য, সাধারণ জাতীয় আয়ে পরোক্ষ কর যুক্ত হয় না; তবে বাজারমূল্যে জাতীয় আয় হিসেবে পরোক্ষ কর যোগ করলে তা হয় ২৭,০০০ + ২,০০০ = ২৯,০০০ কোটি ডলার। সাধারণত উপাদান খরচে জাতীয় আয় = ২৭,০০০ কোটি ডলার)।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের দুটি দেশের মধ্যে মাথাপিছু আয়ের প্রেক্ষিতে 'খ' দেশটি অপেক্ষাকৃত উন্নত। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:

    আমরা জানি,
    মাথাপিছু আয় = মোট জাতীয় আয় / মোট জনসংখ্যা

    'গ' হতে পাই,
    'ক' দেশের মোট জাতীয় আয় = ২৭,০০০ কোটি ডলার
    'ক' দেশের মোট জনসংখ্যা = ২০ কোটি
    অতএব, 'ক' দেশের মাথাপিছু আয় = ২৭,০০০ ÷ ২০ = ১,৩৫০ ডলার।

    অপরদিকে, 'খ' দেশের ক্ষেত্রে:
    জাতীয় আয় = মজুরি ও বেতন + খাজনা + মুনাফা + সুদ
    = ৬,৫০০ + ৫,০০০ + ৮,৫০০ + ৫,৭০০ = ২৫,৭০০ কোটি ডলার।
    'খ' দেশের মোট জনসংখ্যা = ১৬ কোটি
    অতএব, 'খ' দেশের মাথাপিছু আয় = ২৫,৭০০ ÷ ১৬ = ১,৬০৬.২৫ ডলার।

    (যদি পরোক্ষ কর যুক্ত করে বাজারমূল্যে আয় হিসাব করা হয়:
    'ক' দেশের আয় = ২৯,০০০ কোটি ডলার, মাথাপিছু আয় = ২৯,০০০ ÷ ২০ = ১,৪৫০ ডলার।
    'খ' দেশের আয় = ২৫,৭০০ + ১,৭০০ = ২৭,৪০০ কোটি ডলার, মাথাপিছু আয় = ২৭,৪০০ ÷ ১৬ = ১,৭১২.৫ ডলার।)

    উভয় হিসেবেই দেখা যাচ্ছে, 'খ' দেশের মাথাপিছু আয় (১,৬০৬.২৫ ডলার বা ১,৭১২.৫ ডলার) 'ক' দেশের মাথাপিছু আয় (১,৩৫০ ডলার বা ১,৪৫০ ডলার) অপেক্ষা বেশি। অর্থনৈতিক মানদণ্ডে যে দেশের মাথাপিছু আয় বেশি, সে দেশের জীবনযাত্রার মান এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন তুলনামূলকভাবে উন্নত বিবেচনা করা হয়।

    সুতরাং, মাথাপিছু আয়ের প্রেক্ষিতে 'ক' দেশের তুলনায় 'খ' দেশটি অধিক উন্নত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন