পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২২
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
কিউবার মহান বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রো যাকে দেখে বলেছিলেন, "আমি আপনাকে দেখেছি আমার হিমালয় পর্বত দেখার দরকার নেই" যার ডাকে লক্ষ লক্ষ মানুষ জীবন দিয়েছিল স্বাধীনতা অর্জনের জন্য, যিনি আমৃত্যু দেশের মানুষকে ভালোবেসে ছিলেন।
- ক)(1)
ফরায়েজী আন্দোলন কাকে বলে?
- খ)(2)
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে গণতন্ত্রের মানুসপুত্র বলা হয় কেন?ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত তোমার পাঠ্য বইয়ের কোন নেতার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে? ভাষা আন্দোলনের তার ভূমিকা ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় উল্লিখিত নেতার ভূমিকাকে তুমি কিভাবে মূল্যায়ন করবে?
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উনিশ শতকের প্রথমার্ধে হাজী শরীয়তুল্লাহ কর্তৃক বাংলার মুসলমানদের ইসলামি অনুশাসন বা 'ফরজ' পালনের আহ্বান জানিয়ে এবং ধর্মীয় কুসংস্কার দূরীকরণের লক্ষ্যে পরিচালিত সংস্কার আন্দোলনকে ফরায়েজী আন্দোলন বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে 'গণতন্ত্রের মানসপুত্র' বলা হয় কারণ তিনি আজীবন মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা, সাংবিধানিক রীতিনীতি প্রতিষ্ঠা এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের বিকাশে নিরলস সংগ্রাম করে গেছেন।
তিনি যেকোনো স্বৈরাচারী ও অগণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন এবং আইনের শাসন, ভোটাধিকার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় সর্বদা আপসহীন নেতৃত্ব প্রদান করেছেন। পাকিস্তানে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং বিরোধী দলের অধিকার নিশ্চিত করতে তাঁর ত্যাগ ও একাগ্রতার কারণেই তাঁকে এই উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। কারণ ১৯৭৩ সালের আলজিয়ার্সে অনুষ্ঠিত জোটনিরপেক্ষ সম্মেলনে কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রো বঙ্গবন্ধুকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন— "আমি হিমালয় দেখিনি, কিন্তু শেখ মুজিবকে দেখেছি। ব্যক্তিত্ব ও সাহসিকতায় তিনিই হিমালয়।"
ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা:
ভাষা আন্দোলনের সূচনালগ্ন থেকেই শেখ মুজিবুর রহমান অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বরে ভাষা আন্দোলনের প্রস্তুতি পর্বেই তিনি যুক্ত হন। ১৯৪৮ সালের ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলে গঠিত 'সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠনে তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত সক্রিয়। ১১ মার্চ ১৯৪৮ সালে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে সাধারণ ধর্মঘট পালনকালে সচিবালয়ের সামনে থেকে তিনি গ্রেপ্তার হন। পরবর্তীতে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের চূড়ান্ত রূপ নেওয়ার সময় জেলে বন্দি থেকেও তিনি গোপনে আন্দোলনের দিকনির্দেশনা দেন এবং আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করে ভাষা আন্দোলনকে বেগবান করেছিলেন। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকা ছিল অনন্য, অবিসংবাদিত এবং মূল চালিকাশক্তি।
১. স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতা: ১৯৬৬ সালে তিনি ঐতিহাসিক 'ছয়দফা কর্মসূচি' ঘোষণা করেন, যা ছিল বাঙালির 'ম্যাগনাকার্টা' বা মুক্তির সনদ। এই ছয়দফা বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে স্বাধীনতার মোহনায় নিয়ে যায়।
২. গণঅভ্যুত্থান ও ১৯৭০-এর নির্বাচন: আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে মুক্তি পেয়ে ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে তিনি 'বঙ্গবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত হন। ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে বাঙালির আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে আন্তর্জাতিকভাবে বৈধতা দেয়।
৩. ৭ই মার্চের কালজয়ী ভাষণ ও মুক্তিযুদ্ধ: ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণ ছিল মূলত স্বাধীনতার অঘোষিত ঘোষণা ("এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম")। ২৫শে মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার মুখে ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তাঁর নাম ও নেতৃত্বকে ধারণ করেই বীর বাঙালি নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন করে।
অতএব, বঙ্গবন্ধু ছিলেন স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের রূপকার ও প্রাণপুরুষ; তাঁর নেতৃত্ব ছাড়া বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন অসম্ভব ছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও