জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
আদিকোষী অণুজীব ‘M’ ধান গাছের রোগ সৃষ্টি করে। আবার প্রকৃতকোষী অণুজীব ‘N’ মশকী দ্বারা বাহিত হয়ে মানুষের যকৃৎ ও লোহিত রক্ত কণিকায় সংক্রমিত হয় এবং দুটি চক্র সম্পন্ন করে।
- ক)(1)
উওকিনেট কী?
- খ)(2)
ভাইরাস অকোষীয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত অণুজীব ‘M’ দ্বারা সৃষ্ট রোগের লক্ষণগুলো লেখ।
- ঘ)(4)
অণুজীব ‘N’ দ্বারা সংঘটিত চক্র দুটির তুলনামূলক বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ম্যালেরিয়া পরজীবীর (Plasmodium) নিষিক্ত ডিম্বাণু বা জাইগোট পরবর্তীতে সচল ও কৃমির মতো লম্বাটে রূপ ধারণ করলে তাকে উওকিনেট (Ookinet) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভাইরাসে সাইটোপ্লাজম, কোষঝিল্লি, নিউক্লিয়াস বা সুনির্দিষ্ট কোনো অঙ্গাণু থাকে না। এদের দেহে বিপাকীয় ক্রিয়া বা নিজস্ব কোনো এনজাইম ব্যবস্থা নেই। কেবল প্রোটিন আবরণী ও নিউক্লিক অ্যাসিড (DNA বা RNA) দ্বারা গঠিত হওয়ায় এবং পোষক কোষের বাইরে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় ও জড় বস্তুর মতো আচরণ করায় ভাইরাসকে অকোষীয় বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত আদিকোষী অণুজীব ‘M’ হলো ধান গাছের রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া (যেমন- Xanthomonas oryzae), যা ধানের পাতা পোড়া বা ব্লাইট রোগ (Bacterial Leaf Blight) সৃষ্টি করে।
ধানের পাতা পোড়া বা ব্যাকটেরিয়াল ব্লাইট রোগের লক্ষণসমূহ নিম্নরূপ:
১. পাতায় দাগ সৃষ্টি: রোগের প্রাথমিক অবস্থায় পাতার অগ্রভাগ বা কিনারা থেকে হালকা হলুদ বা ধূসর-সবুজ রঙের জলছাপের মতো দাগ দেখা যায়।
২. রেখার বিস্তার: পরবর্তীতে এই দাগগুলো বৃদ্ধি পেয়ে পাতার সমান্তরাল শিরা বরাবর নিচের দিকে লম্বা রেখার মতো বিস্তৃত হয়।
৩. পাতার শুকিয়ে যাওয়া ও বাদামি বর্ণ ধারণ: আক্রান্ত অংশ ধীরে ধীরে শুকিয়ে বাদামি বা বিবর্ণ খড় বর্ণ ধারণ করে এবং পাতার কিনারা কুঁকড়ে যায়।
৪. ব্যাকটেরিয়াল পুঁজ নির্গমন: আর্দ্র ও ভোরের কুয়াশায় আক্রান্ত পাতার উপরিভাগে আঠালো ফোঁটার আকারে ব্যাকটেরিয়াল নির্গমন (bacterial ooze) দেখা যায়, যা শুকিয়ে শক্ত পুতির মতো দানা বাঁধে।
৫. ব্যাপক ক্ষতি: রোগ মারাত্মক আকার ধারণ করলে সম্পূর্ণ পাতা শুকিয়ে মরে যায়, শিষের ধান চিটা হয়ে যায় এবং ফলন চরমভাবে ব্যাহত হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত প্রকৃতকোষী অণুজীব ‘N’ হলো ম্যালেরিয়া পরজীবী (Plasmodium)। মানুষের যকৃৎ ও লোহিত রক্ত কণিকায় এটি যথাক্রমে হেপাটিক সাইজোগনি ও এরিথ্রোসাইটিক সাইজোগনি নামক দুটি অযৌন চক্র সম্পন্ন করে। নিচে এদের তুলনামূলক বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:
১. সংঘটনের স্থান: হেপাটিক সাইজোগনি মানুষের যকৃৎ কোষে (হেপাটোসাইট) সম্পন্ন হয়; অন্যদিকে এরিথ্রোসাইটিক সাইজোগনি রক্তের লোহিত রক্ত কণিকায় (RBC) সম্পন্ন হয়।
২. আক্রমণকারী দশা: হেপাটিক সাইজোগনি শুরু হয় মশকীর লালাগ্রন্থি থেকে আগত স্পোরোজয়েট দিয়ে; অপরদিকে এরিথ্রোসাইটিক সাইজোগনি শুরু হয় যকৃৎ থেকে নির্গত মেটাক্রিপ্টোমেরোজয়েট দিয়ে।
৩. ধাপসমূহ: হেপাটিক সাইজোগনি প্রি-এরিথ্রোসাইটিক এবং এক্সো-এরিথ্রোসাইটিক নামক দুটি পর্যায়ে বিভক্ত। পক্ষান্তরে এরিথ্রোসাইটিক সাইজোগনি ট্রফোজয়েট, সিগনেট রিং, অ্যামিবয়েড ট্রফোজয়েট, সাইজন্ট ও রোজেট দশায় সম্পন্ন হয়।
৪. হেমোজয়েন সৃষ্টি: হেপাটিক সাইজোগনিতে কোনো হেমোজয়েন নামক বিষাক্ত বর্জ্য কণা তৈরি হয় না; কিন্তু এরিথ্রোসাইটিক সাইজোগনিতে হিমোগ্লোবিন ভেঙে বিষাক্ত হেমোজয়েন দানা গঠিত হয়।
৫. রোগ লক্ষণ প্রকাশ: হেপাটিক চক্র চলাকালীন রোগীর শরীরে ম্যালেরিয়ার কোনো দৃশ্যমান লক্ষণ প্রকাশ পায় না। কিন্তু এরিথ্রোসাইটিক চক্রের শেষে আরবিসি ভেঙে হেমোজয়েন ও পাইরোজেন মুক্ত হলে কাঁপুনি দিয়ে তীব্র জ্বর আসে।
৬. পরবর্তী পরিণতি: হেপাটিক চক্রের শেষে উৎপন্ন মেটাক্রিপ্টোমেরোজয়েট রক্তস্রোতে প্রবেশ করে RBC কে আক্রমণ করে। এরিথ্রোসাইটিক চক্রের মেরোজয়েটগুলোর কিছু অংশ নতুন RBC আক্রমণ করে এবং কিছু অংশ গ্যামিটোসাইটে রূপান্তরিত হয়ে মশকীর দেহে প্রবেশের জন্য প্রস্তুত হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও