‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৫

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গারা নিজ মাতৃভূমি থেকে বিতাড়িত। যা ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘ ঘোষিত ঘোষণাপত্রের পরিপন্থি।

  1. ক)

    নেতৃত্ব কী?

    (1)
  2. খ)

    আইনের শাসন বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে রোহিঙ্গারা কোন অধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছেন? ব্যাখ্যা করো। ৩

    (3)
  4. ঘ)

    জাতিসংঘ ঘোষিত ঘোষণাপত্রের বাস্তবায়নে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন সম্ভব- বিশ্লেষণ করো। 8

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নেতৃত্ব হলো কোনো ব্যক্তি বা দলের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য অন্যদের প্রভাবিত, পরিচালিত ও পথনির্দেশ করার গুণ বা সামর্থ্য।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আইনের শাসন বলতে বোঝায় আইনের প্রাধান্য এবং আইনের দৃষ্টিতে সকলের সমতা। অর্থাৎ, সমাজে আইনের সর্বজনীন প্রয়োগ থাকবে, কোনো ব্যক্তি আইনের ঊর্ধ্বে থাকবে না এবং বিনা বিচারে বা আইনবহির্ভূতভাবে কাউকে শাস্তি দেওয়া যাবে না। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত থাকে এবং স্বেচ্ছাচারিতা দূরীভূত হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে রোহিঙ্গারা মানবাধিকার, বিশেষ করে ১৯৪৮ সালের জাতিসংঘের 'সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্র' (UDHR)-এ স্বীকৃত মৌলিক মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছেন।

    মানবাধিকার হলো মানুষের জন্মগত ও অবিচ্ছেদ্য অধিকার, যা তার ব্যক্তিত্বের বিকাশ ও মর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য। ১৯৪৮ সালের মানবাধিকার ঘোষণার ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রত্যেক ব্যক্তির একটি জাতীয়তার অধিকার রয়েছে এবং কাউকে খেয়ালখুশিমতো তার জাতীয়তা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, রোহিঙ্গারা নিজ মাতৃভূমি মিয়ানমার থেকে অত্যাচার ও নিপীড়নের শিকার হয়ে বিতাড়িত হয়েছে। তাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হয়েছে, জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা হরণ করা হয়েছে এবং নিজ দেশে স্বাধীনভাবে বসবাসের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এটি জাতিসংঘের মানবাধিকার সনদের মৌলিক ধারাগুলোর সরাসরি লঙ্ঘন। অতএব, রোহিঙ্গারা সামগ্রিকভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছেন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জাতিসংঘ ঘোষিত সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্র (১৯৪৮)-এর মূলনীতি ও নির্দেশনার কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমেই রোহিঙ্গাদের মর্যাদাপূর্ণ ও স্থায়ী প্রত্যাবাসন সম্ভব—উক্তিটি যথার্থ।

    ১৯৪৮ সালের জাতিসংঘের সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্রে প্রতিটি মানুষের জীবনের নিরাপত্তা, নাগরিকত্ব, নিজ ভূমিতে বসবাসের অধিকার এবং বর্ণবৈষম্য থেকে মুক্তির নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে। এই সনদের অনুচ্ছেদ ৯ ও ১৩ অনুযায়ী কাউকে নির্বিচারে নির্বাসিত করা যাবে না এবং প্রত্যেকেরই নিজ দেশ ত্যাগ ও নিজ দেশে প্রত্যাবর্তনের অধিকার রয়েছে।

    রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে জাতিগত নিধন ও বর্বর নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। বর্তমানে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যদি জাতিসংঘের মানবাধিকার সনদের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়ে মিয়ানমার সরকারের ওপর কার্যকর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করতে পারে, তবেই তাদের প্রত্যাবাসন নিশ্চিত হবে। এর মাধ্যমে মিয়ানমারে তাদের নিরাপত্তা, হারানো নাগরিকত্ব ও মৌলিক মানবাধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। পরিশেষে বলা যায়, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জাতিসংঘ সনদের বাস্তবায়ন এবং সম্মিলিত পদক্ষেপের মাধ্যমেই রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসন সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন