সমাজকর্ম ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)

সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন

গুলশান ঢাকা শহরের একটি অভিজাত এলাকা। এই এলাকার অধিকাংশ মানুষ সম্পদশালী। তাই ঐ এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য এলাকার বসবাসরত জনসমষ্টিই যথেষ্ট। কিন্তু তার পার্শ্ববর্তী বাড্ডা এলাকা যেখানে অপেক্ষাকৃত কম সম্পদশালী বা দরিদ্র জনসমষ্টি বসবাস করে। এই এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য সরকারি সাহায্যের প্রয়োজন হয়।

  1. ক)

    পদ্ধতি কী?

    (1)
  2. খ)

    We feeling বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে গুলশান এলাকার উন্নয়নের জন্য সমাজকর্মের কোন পদ্ধতিটি প্রয়োগ করা যায়? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বাড্ডা এলাকার জন্য সমষ্টি সমাজকর্মের কোন পদ্ধতি প্রয়োগ করা যায়? সমাজের সার্বিক উন্নয়নে উভয় পদ্ধতির সমন্বয় কতটা জরুরি? বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য সুশৃঙ্খল, বৈজ্ঞানিক ও সুপরিকল্পিত কর্মপ্রক্রিয়া বা কার্যপ্রণালিকে পদ্ধতি বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'We feeling' বা 'আমরা অনুভূতি' বলতে কোনো নির্দিষ্ট এলাকার বা দলের সদস্যদের মধ্যে বিদ্যমান পারস্পরিক একাত্মতা, ঐক্যবোধ এবং সহমর্মিতাপূর্ণ মানসিকতাকে বোঝায়।

    সমষ্টির জনগণের মধ্যে যখন যৌথ স্বার্থ, পারস্পরিক নির্ভরশীলতা এবং সামগ্রিক কল্যাণের চেতনা কাজ করে, তখন তাকে 'আমরা অনুভূতি' বলা হয়। এটি সমষ্টির সদস্যদের ঐক্যবদ্ধভাবে সমস্যার মোকাবিলা করতে ও উন্নয়নে অংশগ্রহণ করতে উদ্বুদ্ধ করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে গুলশান এলাকার উন্নয়নের জন্য সমাজকর্মের 'সমষ্টি সংগঠন' (Community Organization) পদ্ধতিটি প্রয়োগ করা যায়।

    সমষ্টি সংগঠন হলো উন্নত বা সম্পদশালী শহুরে জনসমষ্টির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সমাজকর্মের একটি শাখা, যেখানে সমষ্টির বিদ্যমান স্থানীয় সম্পদ ও সামর্থ্যকে সংগঠিত করে যৌথ প্রচেষ্টার মাধ্যমে চাহিদা ও সমস্যার ভারসাম্য বিধান করা হয়।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, গুলশান ঢাকা শহরের একটি অভিজাত এলাকা এবং এখানকার অধিকাংশ মানুষ সম্পদশালী। এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য স্থানীয় বাসিন্দারাই স্বাবলম্বী এবং তাদের নিজস্ব সম্পদ ও তহবিল যথেষ্ট। বাহ্যিক বা সরকারি আর্থিক সাহায্য ছাড়াই নিজস্ব উদ্যোগে সমষ্টির সমস্যা সমাধানের এ প্রেক্ষাপটটি সমষ্টি সংগঠনের মূল ধারণার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই গুলশান এলাকার জন্য 'সমষ্টি সংগঠন' পদ্ধতিই যথোপযুক্ত।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বাড্ডা এলাকার উন্নয়নের জন্য সমষ্টি সমাজকর্মের 'সমষ্টি উন্নয়ন' (Community Development) পদ্ধতিটি প্রয়োগ করা যায়।

    যেসব অনগ্রসর বা উন্নয়নশীল সমষ্টির মানুষ অপেক্ষাকৃত দরিদ্র এবং যাদের নিজস্ব সম্পদ দিয়ে সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব হয় না, সেখানে সরকারি সাহায্য এবং স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টার সমন্বয়ে 'সমষ্টি উন্নয়ন' পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়। বাড্ডা এলাকা অপেক্ষাকৃত দরিদ্র এবং সরকারি সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এখানে সমষ্টি উন্নয়ন পদ্ধতি প্রযোজ্য।

    সমাজের সার্বিক উন্নয়নে উভয় পদ্ধতির (সমষ্টি সংগঠন ও সমষ্টি উন্নয়ন) সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি, যা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
    ১. সম্পদের সুষম ব্যবহার: অভিজাত ও অনগ্রসর উভয় এলাকার নিজস্ব সীমাবদ্ধতা ও সম্ভাবনা থাকে। সমষ্টি সংগঠনের মাধ্যমে স্থানীয় উদ্বৃত্ত সম্পদের সঠিক বণ্টন এবং সমষ্টি উন্নয়নের মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সরকারি সহায়তাপ্রাপ্তি নিশ্চিত হয়।
    ২. সামগ্রিক বৈষম্য হ্রাস: শহর ও উপশহরের মধ্যকার উন্নয়ন ব্যবধান দূর করতে হলে যেখানে সম্পদ আছে সেখানে সমষ্টি সংগঠন এবং যেখানে ঘাটতি রয়েছে সেখানে সমষ্টি উন্নয়ন কার্যকর করতে হয়।
    ৩. জাতীয় প্রবৃদ্ধি: কেবল ধনী এলাকার একক বিকাশ পুরো সমাজের কল্যাণ নিশ্চিত করতে পারে না। গুলশানের মতো এলাকায় স্থানীয় স্বাবলম্বন এবং বাড্ডার মতো অনগ্রসর এলাকায় সমষ্টি উন্নয়নের মাধ্যমে টেকসই জীবনমান তৈরি করলেই সার্বিক জাতীয় উন্নয়ন সম্ভব হয়।

    সুতরাং, সমাজের সামগ্রিক ও ভারসাম্যপূর্ণ অগ্রগতির জন্য সমষ্টি সংগঠন ও সমষ্টি উন্নয়ন পদ্ধতির পারস্পরিক সমন্বয় অপরিহার্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন