অর্থনীতি ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৬
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
'A' একটি দরিদ্র দেশ। 'A' দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সরকার প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ক্রয় করে। ২০১০ সালে 'A' দেশে প্রতি লিটার তেলের দাম ছিল ৬০ টাকা। পরবর্তী বছর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বিগ্রহের কারণে জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয় এবং 'A' দেশের সরকারকে প্রতিলিটার জ্বালানি তেল ৯০ টাকা করে কিনতে হয়। জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিয়ে জ্বালানি তেল আমদানি করে। এতে সরকারের ব্যয় বৃদ্ধি পায়।
- ক)(1)
মুদ্রাস্ফীতি কাকে বলে?
- খ)(2)
মুদ্রাস্ফীতির ওপর মুদ্রার যোগান বৃদ্ধির প্রভাব বুঝিয়ে লেখ।
- গ)(3)
উদ্দীপক হতে ২০১১ সালে 'A' দেশের জ্বালানি তেলের মুদ্রাস্ফীতি পরিমাপ করো।
- ঘ)(4)
'A' দেশের সরকারের ব্যয় বৃদ্ধি সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতি তৈরিতে কিভাবে ভূমিকা রাখে বলে তুমি মনে কর?
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সাধারণভাবে, যখন সামগ্রিক যোগানের তুলনায় সামগ্রিক চাহিদা বৃদ্ধি পেয়ে পণ্যের দামস্তর ক্রমাগত ও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায় এবং অর্থের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পায়, তখন সেই পরিস্থিতিকে মুদ্রাস্ফীতি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অর্থের যোগান বৃদ্ধি পেলে মানুষের হাতে নগদ অর্থের পরিমাণ বেড়ে যায়, যার ফলে সামগ্রিক চাহিদা বৃদ্ধি পায়। অর্থনীতিতে যদি পণ্যের উৎপাদন বা সামগ্রিক যোগান একই হারে বৃদ্ধি না পায়, তবে অতিরিক্ত চাহিদার কারণে পণ্যের দামস্তর বৃদ্ধি পায়। ফলে মুদ্রার ক্রয়ক্ষমতা কমে গিয়ে সরাসরি মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয়। সুতরাং, মুদ্রার যোগান বৃদ্ধির সাথে মুদ্রাস্ফীতির একটি প্রত্যক্ষ ও ধনাত্মক সম্পর্ক রয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে দেওয়া আছে,
ভিত্তি বছর (২০১০)-এ জ্বালানি তেলের দাম, টাকা
চলতি বছর (২০১১)-এ জ্বালানি তেলের দাম, টাকা২০১১ সালে জ্বালানি তেলের মুদ্রাস্ফীতির হার নির্ণয়ের সূত্র:
মান বসিয়ে পাই,
অতএব, ২০১১ সালে 'A' দেশের জ্বালানি তেলের মুদ্রাস্ফীতি ছিল ৫০%।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'A' দেশের সরকার জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য নিয়ন্ত্রণে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি প্রদান করে, যা সরকারের ব্যয় বাড়িয়ে দেয়। এই সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতি সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
প্রথমত, সরকারের ব্যয় বৃদ্ধির ফলে বাজেট ঘাটতি দেখা দেয়। সরকার এই ঘাটতি মেটাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ গ্রহণ করে নতুন মুদ্রা ছাপাতে পারে অথবা বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে পারে। এর ফলে অর্থনীতিতে মোট অর্থের যোগান বহুগুণ বেড়ে যায়।
দ্বিতীয়ত, অর্থের যোগান বাড়লে জনগণের হাতে নগদ অর্থের পরিমাণ বাড়ে এবং সামগ্রিক চাহিদা বৃদ্ধি পায়। কিন্তু উৎপাদন বা সামগ্রিক যোগান যদি সেই তুলনায় দ্রুত বৃদ্ধি না পায়, তবে অর্থনীতিতে চাহিদা-বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি (Demand-pull Inflation) সৃষ্টি হয়।
তৃতীয়ত, জ্বালানি তেল হলো একটি মৌলিক মধ্যবর্তী উপকরণ। সরকারের ভর্তুকি সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির চাপ পরিবহন ও উৎপাদন খাতে ব্যয় বৃদ্ধি ঘটায়, যা ব্যয়-বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতিকেও (Cost-push Inflation) উসকে দেয়।
সুতরাং, সরকারের মাত্রাতিরিক্ত ব্যয় বৃদ্ধি সামগ্রিক চাহিদা ও মুদ্রার যোগান বাড়িয়ে অর্থনীতিতে সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতি তৈরিতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও