ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৫

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন

মি. A একজন আমদানিকারক। তিনি ভারত থেকে শাড়ি কিনে বাংলাদেশের বিভিন্ন মার্কেটে পাইকারি বিক্রি করেন। ব্যবসায়টি লাভজনক হওয়ায় তিনি এর সম্প্রসারণের বিষয়ে ভাবছেন। এতে প্রচুর অর্থ প্রয়োজন। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে অর্থসংস্থান সম্ভব হবে। আবার ধনাঢ্য বন্ধু B কে সমঝোতার ভিত্তিতে ব্যবসায়ের মালিকানায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টিও বিবেচনা করছেন।

  1. ক)

    আমদানি কী?

    (1)
  2. খ)

    নামমাত্র অংশীদার বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    মি. A এর ব্যবসায়টি সম্প্রসারণের যৌক্তিকতা ও করণীয় নির্ধারণ করো।

    (3)
  4. ঘ)

    B কে অংশীদার হিসেবে গ্রহণের যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বিদেশ বা বহিঃরাষ্ট্র থেকে কোনো পণ্য বা সেবা নিজ দেশে ক্রয় করে আনার প্রক্রিয়াকে আমদানি বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে অংশীদার ব্যবসায় মূলধন বিনিয়োগ করে না এবং পরিচালনায়ও অংশ নেয় না, কেবল চুক্তি অনুযায়ী নিজের নাম বা সুনাম ব্যবহারের অনুমতি দেয়, তাকে নামমাত্র অংশীদার বলে।

    নামমাত্র অংশীদার সাধারণত ব্যবসায়ের মুনাফায় কোনো অংশ পায় না, তবে নাম ব্যবহারের বিনিময়ে একটি নির্দিষ্ট পারিতোষিক বা ফি পেয়ে থাকে। সাধারণত সাধারণ জনগণের কাছে সে নিজেকে অংশীদার হিসেবে প্রকাশ করায় বা সম্মতি দেওয়ায় তৃতীয় পক্ষের কাছে সে সাধারণ অংশীদারের মতোই দায়ী থাকে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মি. A-এর ব্যবসায়টি সম্প্রসারণের যৌক্তিকতা রয়েছে, কারণ শাড়ি আমদানির ব্যবসায়টি বর্তমানে অত্যন্ত লাভজনক এবং বাজারে এর চাহিদা রয়েছে।

    ব্যবসায় লাভজনক হওয়া সত্ত্বেও পর্যাপ্ত পুঁজির অভাবে সম্ভাব্য বিপুল মুনাফা অর্জন থেকে বঞ্চিত হতে হয়। তাই ব্যবসায়ের পরিধি বাড়ানো হলে বিক্রয়ের পরিমাণ ও মুনাফা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

    এই সম্প্রসারণের জন্য মি. A-এর করণীয় বিষয়গুলো হলো:
    ১. সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় মোট মূলধনের সঠিক পরিমাণ নিরূপণ করা।
    ২. অর্থসংস্থানের সম্ভাব্য উৎসসমূহ (ব্যাংক ঋণ নাকি অংশীদার গ্রহণ) বিশ্লেষণ করা এবং কোন উৎসে ঝুঁকি ও ব্যয় কম তা পর্যালোচনা করা।
    ৩. যদি স্বাধীনতা ও একক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে চায়, তবে ব্যাংক ঋণের শর্তাবলি ও সুদভার পরিশোধের সক্ষমতা যাচাই করা।
    ৪. অংশীদার গ্রহণ করতে চাইলে অংশীদারি চুক্তির শর্তাবলি সুনির্দিষ্টভাবে প্রণয়ন করা।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মি. A-এর জন্য ধনাঢ্য বন্ধু B-কে অংশীদার হিসেবে গ্রহণ করার সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত যৌক্তিক ও সুবিধাজনক।

    ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করলে ব্যবসায়ের লাভ বা লোকসান যাই হোক না কেন, নির্দিষ্ট হারে সুদ ও আসল কিস্তি পরিশোধের বাধ্যবাধকতা থাকে। এতে ব্যবসায়টির ওপর নিয়মিত আর্থিক চাপ ও দেউলিয়া হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

    অন্যদিকে, বন্ধু B-কে সমঝোতার ভিত্তিতে অংশীদার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করলে নিম্নোক্ত সুবিধাসমূহ পাওয়া যাবে:
    ১. ঋণের সুদের কোনো স্থায়ী ব্যয় বা দায় থাকবে না, ফলে ব্যবসায় আর্থিকভাবে নিরাপদ থাকবে।
    ২. B একজন ধনাঢ্য ব্যক্তি হওয়ায় ভবিষ্যতে আরও মূলধনের প্রয়োজন হলে সহজে সংগ্রহ করা যাবে।
    ৩. ব্যবসায়ের ঝুঁকি ও দায়িত্ব এককভাবে A-এর ওপর না থেকে B-এর সাথে বণ্টিত হবে।
    ৪. বিশ্বস্ত বন্ধুর অভিজ্ঞতা ও মেধা ব্যবসায়ের ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনায় যুক্ত হয়ে ব্যবসায়ের কার্যদক্ষতা বৃদ্ধি পাবে।

    অতএব, স্থায়ী সুদের আর্থিক ঝুঁকি এড়ানো এবং দীর্ঘমেয়াদি মূলধন স্থায়িত্বের স্বার্থে বন্ধু B-কে অংশীদার হিসেবে গ্রহণ করাই মি. A-এর জন্য সর্বাধিক যৌক্তিক পদক্ষেপ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন