ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৭
ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন
ঢাকার মিরপুর একটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। এই এলাকাটি ব্যবসা-বাণিজ্যের দিক থেকে অনেক এগিয়ে। এখানে অনেক ছোট ছোট গার্মেন্টস কারখানা গড়ে উঠেছে। কিন্তু ছোট ব্যবসা বলে কেউই অগ্নি বিমা পলিসি গ্রহণ করেনি। এর মধ্যে হঠাৎ একদিন বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে আগুন ধরায় প্রায় সকল কারখানায় কম বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কারখানার সাথে সাথে এলাকার লোকজনও প্রায় সর্বশান্ত হয়ে পড়ে। অগ্নি বিমা তার নিজ কাজের মাধ্যমে এ ধরনের বিপদ মোকাবিলা করতে পারে।
- ক)(1)
স্থলাভিষিক্তকরণ কী?
- খ)(2)
অগ্নিবিমা কোন ধরনের চুক্তি তা বুঝিয়ে লিখ?
- গ)(3)
অগ্নিজনিত ঝুঁকির বিপক্ষে কীভাবে অগ্নি বিমা কাজ করে? উদ্দীপকের আলোকে আলোচনা করো।
- ঘ)(4)
অগ্নিবিমা ক্ষতিপূরণের চুক্তি' উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিমাকৃত বিষয়বস্তু ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হওয়ার পর বিমাগ্রহীতাকে সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ প্রদান করে বিমা কোম্পানি উক্ত ধ্বংসাবশেষ বা উদ্ধারকৃত সম্পত্তির ওপর যে আইনগত মালিকানা লাভ করে, তাকে স্থলাভিষিক্তকরণ নীতি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অগ্নিবিমা মূলত একটি বিশুদ্ধ 'ক্ষতিপূরণের চুক্তি' (Contract of Indemnity)।
ক্ষতিপূরণের চুক্তি বলতে বোঝায়, বিমাকৃত বিপদের কারণে বিমাগ্রহীতার প্রকৃত যে আর্থিক ক্ষতি হয়, বিমাকারী কেবল সেই প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করে বিমাগ্রহীতাকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। অগ্নিবিমায় লাভ করার কোনো সুযোগ নেই; কোনো ক্ষতি না হলে কোনো অর্থ প্রদান করা হয় না এবং ক্ষতির পরিমাণ বিমামূল্যের চেয়ে কম হলে কেবল প্রকৃত ক্ষতির অংশই পরিশোধ করা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অগ্নিজনিত ঝুঁকির কারণে সৃষ্ট সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতি পূরণের মাধ্যমে অগ্নিবিমা ব্যবসায়-বাণিজ্যের ঝুঁকি মোকাবিলা করে সহায়তা প্রদান করে।
অগ্নিবিমা চুক্তির মাধ্যমে বিমাগ্রহীতা প্রিমিয়ামের বিনিময়ে তার সম্পদ বা পণ্যের অগ্নিকাণ্ডজনিত ক্ষতির ঝুঁকি বিমা কোম্পানির ওপর অর্পণ করে। অগ্নিসংযোগের ফলে কোনো ক্ষতি সাধিত হলে বিমা কোম্পানি চুক্তি অনুযায়ী তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত ক্ষতির সমপরিমাণ অর্থ ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদান করে।
উদ্দীপকে মিরপুরের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার ক্ষুদ্র গার্মেন্টস কারখানাগুলোতে আকস্মিক বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে অগ্নিকাণ্ড ঘটে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। কারখানাগুলোর কোনো অগ্নিবিমা না থাকায় ব্যবসায়ীরা ও স্থানীয়রা এক নিমিষেই সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ে। যদি তাদের অগ্নিবিমা পলিসি গ্রহণ করা থাকত, তবে অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়া যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল ও কারখানার প্রকৃত আর্থিক ক্ষতি বিমা কোম্পানি ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদান করত। ফলে ব্যবসায়ীদের মূলধন রক্ষা পেত এবং তারা আবার নতুন করে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারত। এভাবেই অগ্নিবিমা আর্থিক ক্ষতি লাঘব করে ঝুঁকির বিপক্ষে সুরক্ষা দেয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'অগ্নিবিমা ক্ষতিপূরণের চুক্তি'—উক্তিটি উদ্দীপকের প্রেক্ষাপট ও বিমা আইনের আলোকে সম্পূর্ণ যথার্থ।
ক্ষতিপূরণের চুক্তির মূল কথা হলো, বিমাকৃত বিষয়ের ক্ষতি হলে বিমাকারী বিমাগ্রহীতাকে ক্ষতির ঠিক আগের আর্থিক অবস্থায় ফিরিয়ে দেবে, অর্থাৎ বিমাগ্রহীতা কোনোভাবেই ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে প্রকৃত ক্ষতির অতিরিক্ত অর্থ পেয়ে আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারবে না। অন্যদিকে কোনো ক্ষয়ক্ষতি না ঘটলে বিমাকারী কোনো অর্থ পরিশোধ করতে বাধ্য থাকে না।
উদ্দীপকে মিরপুরের গার্মেন্টস কারখানাগুলোতে বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে আগুন লেগে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়। মালিকরা ছোট ব্যবসা বিবেচনা করে কোনো অগ্নিবিমা করেননি, যার ফলে অগ্নিকাণ্ডের পর কোনো আর্থিক পুনরুদ্ধার বা ক্ষতিপূরণ না পেয়ে তারা সর্বস্বান্ত হয়ে যান।
যদি কারখানা মালিকদের অগ্নিবিমা থাকত, তবে তারা বিমা কোম্পানির নিকট ক্ষতির পরিমাণ দাবি করতে পারতেন। বিমা কোম্পানি ক্ষয়ক্ষতির সঠিক মূল্যায়ন করে মালিকদের যে পরিমাণ মালামাল বা যন্ত্রপাতির বাস্তব ক্ষতি হয়েছে, ঠিক সেই পরিমাণের অর্থ ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদান করত। এটি তাদেরকে অনাকাঙ্ক্ষিত দেউলিয়াত্ব থেকে রক্ষা করে পূর্বের স্বাভাবিক আর্থিক অবস্থানে ফিরিয়ে আনতে পারত। বিমাগ্রহীতাকে লাভবান না করে কেবল সংঘটিত প্রকৃত ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়াই অগ্নিবিমার উদ্দেশ্য হওয়ায় উদ্দীপকের আলোকে এটি নিঃসন্দেহে একটি ক্ষতিপূরণের চুক্তি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও