‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৭

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

তাপস সোম একজন রাজনীতিবিদ। তিনি সংকীর্ণতা ও গোড়ামীর ঊর্ধ্বে মানবপ্রেমে বিশ্বাস করেন। মানুষের সেবাই তাঁর রাজনীতির প্রধান লক্ষ্য। আর তাই তিনি হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের স্বার্থের উন্নয়নে কাজ করেন।

  1. ক)

    তিতুমীরের পূর্ণ নাম কী?

    (1)
  2. খ)

    বেঙ্গল প্যাক্ট বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের তাপস সোমের সাথে তোমার পঠিত কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সাদৃশ্য আছে কি? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ব্যক্তিত্বের অবদানের কারণে বাংলায় অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির ভিত শক্তিশালী হয়— বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    তিতুমীরের পূর্ণ নাম সৈয়দ মীর নিসার আলী।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯২৩ সালে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা এবং রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তোলার লক্ষ্যে যে চুক্তি সম্পাদন করেন, তা 'বেঙ্গল প্যাক্ট' বা 'বাংলা চুক্তি' নামে পরিচিত। এর মাধ্যমে তিনি উভয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব ও স্বার্থের ন্যায্য সমন্বয় করতে চেয়েছিলেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের তাপস সোমের সাথে আমার পঠিত মহান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের (সি. আর. দাশ) সাদৃশ্য রয়েছে।

    উদ্দীপকের তাপস সোম যেমন সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে মানবপ্রেমে বিশ্বাসী এবং হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের স্বার্থ ও উন্নয়নে নিবেদিতপ্রাণ, তেমনি চিত্তরঞ্জন দাশও ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক। তিনি অনুভব করেছিলেন যে বাংলার স্বাধীনতা ও প্রগতির জন্য হিন্দু-মুসলিম ঐক্য অপরিহার্য।

    এ লক্ষ্যে তিনি ১৯২৩ সালে ঐতিহাসিক 'বেঙ্গল প্যাক্ট' সম্পাদন করেন, যেখানে মুসলমানদের চাকরির সুযোগ ও আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার উদার ব্যবস্থা ছিল। সুতরাং উদ্দীপকের তাপস সোমের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দর্শনের সুস্পষ্ট প্রতিফলন ঘটেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ব্যক্তিত্ব দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের অবদানের কারণেই মূলত অবিভক্ত বাংলায় অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির ভিত শক্তিশালী হয়েছিল— উক্তিটি অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত।

    ব্রিটিশ ভারতে ব্রিটিশদের 'ভাগ কর এবং শাসন কর' (Divide and Rule) নীতির ফলে যখন হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে চরম অবিশ্বাস ও সাম্প্রদায়িক বিভেদ তৈরি হচ্ছিল, তখন চিত্তরঞ্জন দাশ এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে জাতীয় মুক্তির জন্য আন্তঃসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সবচেয়ে জরুরি।

    তাঁর উদ্যোগে প্রণীত ১৯২৩ সালের বেঙ্গল প্যাক্ট বা বাংলা চুক্তি ছিল এ ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এ চুক্তিতে তিনি কলকাতা কর্পোরেশন এবং প্রাদেশিক প্রশাসনে মুসলিমদের জনসংখ্যার অনুপাতে অধিকার ও চাকরির সুযোগ প্রদানের অঙ্গীকার করেন। তাঁর এ উদার দৃষ্টিভঙ্গি ও আত্মত্যাগের কারণে সুভাষচন্দ্র বসু এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মতো তরুণ নেতারা অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির প্রতি গভীরভাবে অনুপ্রাণিত হন। যদিও তাঁর অকালমৃত্যু এবং কিছু কায়েমি স্বার্থান্বেষীর বিরোধিতায় চুক্তিটি পরে বাস্তবায়িত হয়নি, তবুও তাঁর রাজনীতি বাংলায় অসাম্প্রদায়িক জাতীয়তাবাদের বীজ বপন করেছিল।

    সুতরাং, বলা যায় যে চিত্তরঞ্জন দাশের দূরদর্শী ও আন্তরিক উদ্যোগ বাংলায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির ভিতকে সুদৃঢ় করেছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন