সমাজকর্ম ২য় পত্র • সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২
সমাজকর্ম ২য় পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
ধর্ম কী?
- খ)(2)
অটিজম কেন সামাজিক সমস্যা?
- গ)(3)
ছকে প্রশ্নবোধক (?) চিহ্ন দ্বারা কোন বিষয়কে ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
সামাজিক সমস্যা মোকাবিলায় উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত বিষয়টির ভূমিকা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ধর্ম হলো অতিপ্রাকৃতিক শক্তিতে বিশ্বাস এবং সেই বিশ্বাসকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বিশেষ আচার-অনুষ্ঠান ও মূল্যবোধের সমষ্টি।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অটিজম একটি বিকাশজনিত স্নায়বিক সমস্যা হলেও এটি ব্যক্তি, পরিবার এবং বৃহত্তর সমাজের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ও স্থিতিশীলতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে বলে একে সামাজিক সমস্যা হিসেবে গণ্য করা হয়।
অটিজমে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সামাজিক যোগাযোগ ও মিথস্ক্রিয়ায় সমস্যার সম্মুখীন হন। পর্যাপ্ত সচেতনতা ও বিশেষ শিক্ষার সুযোগের অভাবে তারা সমাজের মূলধারায় অংশ নিতে পারেন না। পরিবারকে তাদের লালন-পালন ও চিকিৎসার অতিরিক্ত দায়িত্ব বহন করতে গিয়ে মানসিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে বিপর্যস্ত হতে হয়। সামগ্রিকভাবে একটি জনগোষ্ঠীর পিছিয়ে থাকা এবং সামাজিক সহায়তার ঘাটতি থাকায় অটিজম কেবল ব্যক্তিগত বা চিকিৎসাগত সমস্যা নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সমস্যা।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ছকে প্রশ্নবোধক (?) চিহ্ন দ্বারা 'গণমাধ্যম' (Mass Media)-কে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
যেসব মাধ্যমের সাহায্যে একযোগে বহুসংখ্যক মানুষের কাছে বিভিন্ন তথ্য, সংবাদ, মতামত ও বিনোদন পৌঁছে দেওয়া যায়, সেগুলোকে গণমাধ্যম বলে। উদ্দীপকে প্রশ্নবোধক চিহ্নের চারপাশে সংবাদপত্র, ইন্টারনেট, স্যাটেলাইট, টেলিভিশন, চলচ্চিত্র ও বেতার উল্লেখ রয়েছে। এগুলো প্রতিটিই তথ্য ও ভাব বিনিময়ের শক্তিশালী আধুনিক মাধ্যম।
মুদ্রিত মাধ্যম হিসেবে সংবাদপত্র এবং সম্প্রচার ও ইলেকট্রনিক মাধ্যম হিসেবে রেডিও, টেলিভিশন, চলচ্চিত্র, স্যাটেলাইট ও ইন্টারনেট জনমত গঠন ও সচেতনতা সৃষ্টিতে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। অতএব, এই সমস্ত উপকরণের সমষ্টিগত রূপ হিসেবে ছকের প্রশ্নবোধক চিহ্নটি 'গণমাধ্যম'-কেই নির্দেশ করছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সামাজিক সমস্যা মোকাবিলায় উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত বিষয় অর্থাৎ 'গণমাধ্যম'-এর ভূমিকা অত্যন্ত ব্যাপক ও তাৎপর্যপূর্ণ।
বর্তমান আধুনিক যুগে যেকোনো সামাজিক সমস্যা চিহ্নিতকরণ, জনমত গঠন এবং সমাধানের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। নিচে এর ভূমিকা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. সচেতনতা সৃষ্টি: জনসংখ্যা বৃদ্ধি, বাল্যবিয়ে, যৌতুক প্রথা, মাদকাসক্তি, নারী নির্যাতন, অটিজম প্রভৃতি সামাজিক সমস্যার কুফল সম্পর্কে রেডিও, টেলিভিশন, সংবাদপত্র ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে সমাজের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা যায়।
২. সঠিক তথ্য প্রচার: কুসংস্কার ও বিভ্রান্তি দূর করতে গণমাধ্যম বৈজ্ঞানিক ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য সরবরাহ করে সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখে।
৩. জনমত গঠন: কোনো একটি সামাজিক অপরাধ বা সমস্যা দূরীকরণে সংবাদপত্রের সম্পাদকীয়, প্রতিবেদন বা টেলিভিশনের টকশো ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মাধ্যমে শক্তিশালী জনমত গড়ে ওঠে, যা নীতি নির্ধারকদের দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে।
৪. নীতি ও আইন বাস্তবায়নে চাপ সৃষ্টি: দুর্নীতির বিস্তার রোধ বা সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে গণমাধ্যম সমাজের ওয়াচডগ (Watchdog) বা অতন্দ্র প্রহরীর মতো দায়িত্ব পালন করে।
৫. সামাজিক মূল্যবোধের বিকাশ: চলচ্চিত্র, নাটক বা শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশ এবং যুবসমাজকে অপসংস্কৃতি ও অপরাধমূলক পথ থেকে বিরত রাখা সম্ভব হয়।
সুতরাং পরিশেষে বলা যায়, সমাজের নানা অসঙ্গতি ও জটিল সমস্যা নিরসনে সঠিক জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং সমাধানমূলক পদক্ষেপ বাস্তবায়নে গণমাধ্যমের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও