রসায়ন ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৭
রসায়ন ২য় পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
সক্রিয়কারী মূলক কী?
- খ)(2)
জারণ অর্ধকোষ বলতে কী বুঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকের A এর প্রস্তুতির মূলনীতি বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
A এর প্রস্তুতিতে রিসাইক্লিং এর প্রয়োজনীয়তা আছে কিনা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বেনজিন বলয়ে যে সকল মূলক যুক্ত থাকলে বেনজিন বলয়ের ইলেকট্রন ঘনত্ব বৃদ্ধি পায় এবং বলয়টি ইলেকট্রোফিলিক প্রতিস্থাপন বিক্রিয়ায় সাধারণ বেনজিনের চেয়ে অধিক সক্রিয় হয়ে ওঠে, তাদেরকে সক্রিয়কারী মূলক (বা বলয় সক্রিয়কারী মূলক) বলে। যেমন: -OH, -NH₂, -CH₃ ইত্যাদি।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে অর্ধকোষে জারণ বিক্রিয়া অর্থাৎ ইলেকট্রন ত্যাগের ঘটনা ঘটে, তাকে জারণ অর্ধকোষ বলে।
তড়িৎ রাসায়নিক কোষে একটি ধাতব দণ্ডকে তার নিজস্ব কোনো লবণের দ্রবণে নিমজ্জিত করলে ধাতব পরমাণু ইলেকট্রন ত্যাগ করে ক্যাটায়ন হিসেবে দ্রবণে প্রবেশ করার প্রবণতা দেখায়। অ্যানোড তড়িৎদ্বারে এই জারণ অর্ধবিক্রিয়াটি ঘটে। যেমন: জিংক দণ্ডকে জিংক সালফেট দ্রবণে নিমজ্জিত করলে Zn(s) → Zn²⁺(aq) + 2e⁻ বিক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়, যা একটি জারণ অর্ধকোষ গঠন করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে প্রদর্শিত 'A' হলো নিউজপ্রিন্ট কাগজ, যা মূলত বর্জ্য কাগজ বা কাঠ/বাঁশের মণ্ড (Pulp) থেকে প্রস্তুত করা হয়। বর্জ্য কাগজ থেকে মেকানিক্যাল বা কেমিক্যাল প্রক্রিয়ায় নিউজপ্রিন্ট তৈরির মূলনীতি নিচে বর্ণনা করা হলো:
১. মণ্ড তৈরি (Pulping): বর্জ্য কাগজকে পানিতে ভিজিয়ে হাইড্রো-পাল্পারে ঘূর্ণনের মাধ্যমে আঁশগুলোকে আলাদা করে ঘন মণ্ডে পরিণত করা হয়।
২. কালিমুক্তকরণ বা ডি-ইনকিং (De-inking): নিউজপ্রিন্ট বর্জ্য থেকে কালি দূর করার জন্য সাবান, ডিটারজেন্ট, সোডিয়াম সিলিকেট এবং সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড যোগ করে ফ্লোটেশন পদ্ধতিতে ফেনার সাহায্যে কালি পৃথক করা হয়।
৩. ব্লিচিং (Bleaching): কালিমুক্ত মণ্ডকে কাঙ্ক্ষিত উজ্জ্বলতা দিতে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড (H₂O₂), সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইট বা ডাইথিওনাইট দ্বারা মৃদু ব্লিচিং করা হয়।
৪. কাগজের শীট গঠন (Papermaking): প্রস্তুতকৃত পাতলা মণ্ডকে চলন্ত তারের জালের ওপর ছড়িয়ে পানি নিষ্কাশন করা হয়। এরপর প্রেস রোলার দিয়ে অতিরিক্ত পানি চেপে বের করে এবং স্টিম উত্তপ্ত ড্রায়ারের মধ্য দিয়ে শুকিয়ে ক্যালেন্ডারিং প্রক্রিয়ায় মসৃণ নিউজপ্রিন্ট কাগজ (A) প্রস্তুত করা হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'A' হলো নিউজপ্রিন্ট কাগজ। নিউজপ্রিন্ট কাগজ তৈরিতে রিসাইক্লিংয়ের গুরুত্ব অপরিসীম। নিচে এর প্রয়োজনীয়তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. বনজ সম্পদ ও পরিবেশ সংরক্ষণ: সাধারণ কাগজ বা নিউজপ্রিন্ট তৈরিতে কাঁচামাল হিসেবে প্রচুর কাঠ, বাঁশ ও ঘাস ব্যবহার করা হয়। ফলে ব্যাপক বন উজাড় হয়, যা পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে। বর্জ্য কাগজ রিসাইক্লিংয়ের মাধ্যমে পুনরায় ব্যবহার করলে বৃক্ষনিধন অনেকাংশে হ্রাস পায়।
২. শক্তি ও পানির সাশ্রয়: সরাসরি কাঠ থেকে মণ্ড তৈরির চেয়ে ব্যবহৃত কাগজ থেকে রিসাইক্লিং পদ্ধতিতে মণ্ড তৈরি করতে প্রায় ৬০-৭০% শক্তি এবং বিপুল পরিমাণ পানির সাশ্রয় ঘটে।
৩. পরিবেশ দূষণ হ্রাস: রাসায়নিক পদ্ধতিতে কাঠ থেকে মণ্ড তৈরিতে প্রচুর ক্ষতিকর বর্জ্য তরল ও গ্যাস (যেমন: সালফার যৌগ) নির্গত হয়, যা বায়ু ও পানিকে মারাত্মকভাবে দূষিত করে। রিসাইক্লিং পদ্ধতিতে ক্ষতিকর রাসায়নিকের ব্যবহার কম হওয়ায় পরিবেশ দূষণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে।
৪. বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও ল্যান্ডফিল সমস্যার সমাধান: পুরনো সংবাদপত্র বা ব্যবহৃত কাগজের একটি বড় অংশ আবর্জনায় পরিণত হয়ে শহরের বর্জ্য বাড়ায়। রিসাইক্লিং করলে এই বর্জ্যের পরিমাণ কমে এবং ভূমির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হয়।
৫. অর্থনৈতিক সাশ্রয়: প্রাথমিক কাঁচামাল সংগ্রহের খরচের তুলনায় পুরনো বর্জ্য কাগজ সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের খরচ কম হওয়ায় নিউজপ্রিন্টের উৎপাদন খরচ হ্রাস পায়।
অতএব, পরিবেশ রক্ষা, প্রাকৃতিক সম্পদের সংরক্ষণ এবং অর্থনৈতিক দিক বিবেচনায় নিউজপ্রিন্ট কাগজ (A) প্রস্তুতিতে রিসাইক্লিংয়ের প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত ব্যাপক ও অনস্বীকার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও