যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৪
যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১: প্রজনন মৌসুমে ইলিশ শিকার বন্ধ থাকায় আশা করা যায়, গতবারের মত এবারও ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।দৃশ্যকল্প-২: বাংলাদেশের মানুষ ভোজ্যতেল হিসেবে যা কিছু ব্যবহার করে সেগুলোর উৎস মূলত সয়াবিন, সরিষা, ধানের কুড়া, সূর্যমুখী, জলপাই ও কালোজিরা।
- ক)(1)
আরোহের ভিত্তি কাকে বলে?
- খ)(2)
আরোহমূলক উল্লম্ফনকে' আরোহের প্রাণ বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
দৃশ্যপট-১ এ আরোহের আকারগত ভিত্তির কোন নীতির পরিচয় পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
দৃশ্যপট-২ এ নির্দেশিত কারণসংক্রান্ত মতবাদটির গ্রহণযোগ্যতা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব মূল নীতি বা প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে আরোহ অনুমান তার সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করে, তাকে আরোহের ভিত্তি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আরোহ অনুমানে আমরা জানা থেকে অজানায়, দৃষ্ট থেকে অদৃষ্টে এবং বিশেষ থেকে সার্বিকে পদার্পণ করি। এই জানা থেকে অজানার মাঝে যে ব্যবধান বা ফাঁক থাকে, তা অতিক্রম করার মানসিক প্রক্রিয়াকেই 'আরোহমূলক উল্লম্ফন' (Inductive Leap) বলা হয়। যুক্তিবিদ বেনের মতে, এই উল্লম্ফনই প্রকৃত আরোহের মূল বৈশিষ্ট্য। যদি কোনো অনুমানে জানা থেকে অজানায় যাওয়ার এই ঝুঁকি বা উল্লম্ফন না থাকে, তবে তা প্রকৃত আরোহ হতে পারে না। তাই আরোহমূলক উল্লম্ফনকে আরোহের প্রাণ বা মূল লক্ষণ বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যপট-১ এ আরোহের আকারগত ভিত্তির 'প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি'র পরিচয় পাওয়া যায়।
প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি অনুসারে, প্রকৃতি সর্বদা এবং সব পরিস্থিতিতে একই অবস্থায় একই রকম আচরণ করে। অর্থাৎ, সমরূপ অবস্থায় প্রকৃতি সমরূপ আচরণ প্রদর্শন করবে। এটি কোনো ব্যতিক্রম ছাড়াই নিয়মের অধীনে পরিচালিত হয়।
উদ্দীপকের দৃশ্যপট-১ এ উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রজনন মৌসুমে ইলিশ শিকার বন্ধ থাকায় আশা করা যায়, গতবারের মতো এবারও ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। এখানে ধরে নেওয়া হয়েছে যে, অতীতে যে প্রাকৃতিক পরিস্থিতিতে বা নিয়মের অধীনে ইলিশ শিকার বন্ধ রাখায় উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছিল, বর্তমানেও একই ব্যবস্থা গ্রহণ করলে একই ফল পাওয়া যাবে। প্রকৃতির এই সমরূপ আচরণের ওপর বিশ্বাস রেখেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। সুতরাং, এটি প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতিকে নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যপট-২ এ নির্দেশিত কারণসংক্রান্ত মতবাদটি হলো 'বহুকারণবাদ' (Plurality of Causes)।
যুক্তিবিদ জন স্টুয়ার্ট মিল ও আলেকজান্ডার বেনের মতে, একই কার্য বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কারণ দ্বারা সৃষ্টি হতে পারে। অর্থাৎ, একটি নির্দিষ্ট কার্যের পেছনে একটিমাত্র সুনির্দিষ্ট কারণ থাকবে এমন নয়, বরং ভিন্ন ভিন্ন কারণের দ্বারাও একই কার্য উৎপন্ন হতে পারে। এই ধারণাকে বহুকারণবাদ বলা হয়। দৃশ্যপট-২ এ ভোজ্যতেল নামক একটি অভিন্ন কার্যের বিভিন্ন উৎস বা কারণ হিসেবে সয়াবিন, সরিষা, ধানের কুঁড়া, সূর্যমুখী, জলপাই ও কালোজিরাকে দেখানো হয়েছে। ফলে এটি বাহ্যিকভাবে বহুকারণবাদের একটি দৃষ্টান্ত।
তবে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে বহুকারণবাদ গ্রহণযোগ্য নয়। কারণকে যদি সাধারণ অর্থে গ্রহণ না করে বৈজ্ঞানিক অর্থে গ্রহণ করা হয়, তবে 'একটি কারণের একটিই মাত্র কার্য' থাকে এবং 'একটি কার্যের একটিই মাত্র কারণ' থাকে। দৃশ্যপট-২ এ যে উপাদানগুলোর কথা বলা হয়েছে, সেগুলো প্রকৃতপক্ষে ভোজ্যতেলের কারণ নয়; বরং ভোজ্যতেল তৈরির বিভিন্ন মাধ্যম বা বিশেষ ক্ষেত্র মাত্র। বিজ্ঞান অনুযায়ী, তাপ, রাসায়নিক প্রক্রিয়া এবং তৈলবীজের স্নেহপদার্থের নিষ্কাশনই হলো তেল প্রাপ্তির প্রকৃত কারণ। সাধারণ দৃষ্টিতে বহুকারণবাদকে সত্য মনে হলেও বৈজ্ঞানিক সূক্ষ্ম বিশ্লেষণে কারণ ও কার্যের সম্পর্ক সর্বদা অনন্য ও সুনির্দিষ্ট। তাই যুক্তিবিদ্যায় বহুকারণবাদকে একটি সাধারণ ও লৌকিক মতবাদ হিসেবে গণ্য করা হয়, কিন্তু বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে এর সার্বিক গ্রহণযোগ্যতা নেই।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও