ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৭
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন
ফারজানা ও তার তিন বোন বোঝাপড়ার ভিত্তিতে জোকস নামক বুটিক হাউস গড়ে তোলেন। ভালো ডিজাইন ও সুলভ মূল্যের কারণে প্রতিষ্ঠানটির পণ্য ক্রেতাদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা পায়। ফলে প্রতিষ্ঠানটি অল্পদিনে প্রচুর মুনাফা অর্জন করে। ৪ বছর পর ফারজানার বড় বোন মারা গেলে তার ১৬ বছর বয়সী ছেলে তৌকিরকে ব্যবসায় দেখাশোনার সুযোগ দেয়। ব্যবসায় সম্প্রসারণের জন্য প্রতিষ্ঠানটি ৫০ লক্ষ টাকা ওয়ান ব্যাংক হতে ঋণ নেয়।
- ক)(1)
নামমাত্র অংশীদার কে?
- খ)(2)
অংশীদারি চুক্তিপত্র বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানটি কোন প্রকৃতির? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানে গৃহীত ব্যাংক ঋণের দায় পরিশোধের ক্ষেত্রে তৌকিরের ভূমিকা মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে অংশীদার ব্যবসায় কোনো মূলধন বিনিয়োগ করে না এবং পরিচালনায় অংশ নেয় না, কিন্তু চুক্তির শর্তানুযায়ী বা সুনামের বিনিময়ে ব্যবসায়কে নিজের নাম ব্যবহারের অনুমতি দেয়, তাকে নামমাত্র অংশীদার বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অংশীদারদের মধ্যকার পারস্পরিক অধিকার, কর্তব্য, দায় ও ব্যবসায় পরিচালনার নিয়মাবলি সম্বলিত লিখিত দলিলকে অংশীদারি চুক্তিপত্র বলে।
চুক্তি হলো অংশীদারি ব্যবসায়ের মূল ভিত্তি। অংশীদারদের মধ্যকার চুক্তি যখন লিখিত আকারে সম্পাদিত হয়, তখন তাকে অংশীদারি চুক্তিপত্র বলা হয়। এই দলিলে ব্যবসায়ের নাম, প্রকৃতি, মূলধনের পরিমাণ, লাভ-লোকসান বণ্টন অনুপাত এবং ভবিষ্যৎ বিরোধ নিষ্পত্তির নিয়ম উল্লেখ থাকে, যা ভবিষ্যতে ভুল বোঝাবুঝি বা বিরোধ এড়াতে সাহায্য করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত 'জোকস' নামক প্রতিষ্ঠানটি একটি সাধারণ অংশীদারি ব্যবসায় প্রকৃতির প্রতিষ্ঠান।
১৯৩২ সালের অংশীদারি আইন অনুযায়ী, দুই বা ততোধিক ব্যক্তি যখন পারস্পরিক চুক্তির ভিত্তিতে মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে কোনো ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে, তখন তাকে অংশীদারি ব্যবসায় বলে। সাধারণ অংশীদারি ব্যবসায়ে অংশীদারদের পারস্পরিক আস্থা ও বোঝাপড়া মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে এবং সব অংশীদারের দায় সাধারণত অসীম থাকে।
উদ্দীপকে ফারজানা ও তার তিন বোন পারস্পরিক বোঝাপড়া বা চুক্তির ভিত্তিতে 'জোকস' নামের বুটিক হাউসটি গড়ে তোলেন। এখানে একাধিক সদস্য রয়েছে, তারা মূলধন বিনিয়োগ করেছে এবং যৌথভাবে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করে মুনাফা অর্জন করেছে। তাই এটি একটি সাধারণ অংশীদারি ব্যবসায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানে গৃহীত ব্যাংক ঋণের দায় পরিশোধের ক্ষেত্রে তৌকির ব্যক্তিগতভাবে কোনো দায় বহন করবে না, তার দায় কেবল প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত স্বার্থ বা মূলধনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
১৯৩২ সালের অংশীদারি আইনের ৩০ ধারা অনুযায়ী, অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি পূর্ণাঙ্গ অংশীদার হতে পারে না। তবে সকল বিদ্যমান অংশীদারের সর্বসম্মত সম্মতিক্রমে তাকে কেবল ব্যবসায়ের সুবিধা বা মুনাফার অংশীদার (Minors admitted to the benefits of partnership) করা যেতে পারে। এরূপ অপ্রাপ্তবয়স্ক অংশীদারের দায় কখনোই অসীম বা ব্যক্তিগত হয় না; তার দায় কেবল ব্যবসায়ে থাকা তার স্বার্থ বা পাওনার পরিমাণ পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকে।
উদ্দীপকে তৌকিরের বয়স ১৬ বছর, অর্থাৎ সে আইনত অপ্রাপ্তবয়স্ক। ফারজানার বড় বোনের মৃত্যুর পর তাকে কেবল ব্যবসায় দেখাশোনার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এরপর ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য ওয়ান ব্যাংক থেকে ৫০ লক্ষ টাকা ঋণ গ্রহণ করা হয়। যেহেতু তৌকির অপ্রাপ্তবয়স্ক, তাই আইনানুসারে এই ৫০ লক্ষ টাকার ব্যাংক ঋণের জন্য তার ব্যক্তিগত কোনো সম্পত্তি বা দায় থাকবে না। ব্যবসায়ের মূলধন ও সম্পত্তিতে তার যতটুকু হিস্যা রয়েছে, কেবল ততটুকু দিয়েই ব্যাংকের দায় পরিশোধে সে যুক্ত থাকবে, কিন্তু ব্যাংকের অবশিষ্ট পাওনার জন্য তাকে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী করা যাবে না। অতএব, ঋণ পরিশোধে তৌকিরের দায় সম্পূর্ণরূপে সীমিত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও