কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র • ভূমি সম্পৃক্ত কৃষি প্রযুক্তি • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, যশোর, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯
কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
AWD কী?
- খ)(2)
মাটি সংশোধন কেন প্রয়োজন- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
চিত্র 'ক' ও চিত্র 'খ' এর তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো
- ঘ)(4)
চিত্র 'ক' ধান উৎপাদনের জন্য একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হতে পারে- যুক্তিসহকারে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
AWD-এর পূর্ণরূপ হলো Alternate Wetting and Drying, যা ধান চাষে কম পানি ব্যবহারের জন্য পর্যায়ক্রমিক ভিজানো ও শুকানোভিত্তিক একটি আধুনিক সেচ প্রযুক্তি।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ফসলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও অধিক ফলনের জন্য মাটির অম্লত্ব, ক্ষারত্ব ও লবণাক্ততার মতো সমস্যা দূর করে মাটির ভৌত, রাসায়নিক ও জৈবিক গুণাগুণ অনুকূল মাত্রায় আনাই হলো মাটি সংশোধন। মাটিতে অতিরিক্ত অম্লতা বা ক্ষারত্ব থাকলে উদ্ভিদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের সহজলভ্যতা ব্যাহত হয়। মাটি সংশোধনের মাধ্যমে মাটির pH মান ফসলের উপযোগী করা যায়, অনুজীবের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায় এবং মাটির উর্বরতা ও উৎপাদন ক্ষমতা বজায় থাকে। তাই মাটি সংশোধন অত্যন্ত প্রয়োজন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্র 'ক'-তে দেখানো হয়েছে ২৫ সেমি × ২৫ সেমি দূরত্বে রোপণকৃত একক চারা এবং চিত্র 'খ'-তে দেখানো হয়েছে অপেক্ষাকৃত ঘন দূরত্বে (১০ সেমি × ১৫ সেমি) গুচ্ছ চারা রোপণ পদ্ধতি। চিত্র 'ক' নির্দেশ করে এসআরআই (System of Rice Intensification বা সায়েন্সভিত্তিক নিবিড় ধান চাষ) পদ্ধতি এবং চিত্র 'খ' নির্দেশ করে প্রচলিত পদ্ধতিতে ধান চাষ।
উভয় পদ্ধতির মধ্যে তুলনামূলক বিশ্লেষণ নিচে দেওয়া হলো:
১. চারার বয়স ও সংখ্যা: চিত্র 'ক'-তে খুব কম বয়সী (৮-১২ দিন) মাত্র একটি সুস্থ-সবল চারা রোপণ করা হয়। অপরদিকে চিত্র 'খ'-তে বেশি বয়সী (২৫-৩০ দিন) ২-৩টি চারা একত্রে গুচ্ছাকারে লাগানো হয়।
২. রোপণ দূরত্ব ও বিন্যাস: চিত্র 'ক'-তে সারি থেকে সারি এবং চারা থেকে চারার দূরত্ব সমান (২৫ সেমি × ২৫ সেমি), যা বর্গাকার পদ্ধতিতে লাগানো হয়। চিত্র 'খ'-তে রোপণ দূরত্ব কম এবং অসামঞ্জস্যপূর্ণ (১০ সেমি × ১৫ সেমি)।
৩. আলো-বাতাস ও পুষ্টি গ্রহণ: চিত্র 'ক'-তে গাছ পর্যাপ্ত দূরত্বে থাকায় প্রচুর সূর্যালোক ও বাতাস পায়, ফলে শিকড় বিস্তারের যথেষ্ট সুযোগ থাকে এবং প্রতিটি চারা থেকে অধিক কুশি জন্মায়। চিত্র 'খ'-তে গাছগুলো ঘন হওয়ায় আলো-বাতাস ও মাটির পুষ্টির জন্য পারস্পরিক প্রতিযোগিতা বেড়ে যায়, যার ফলে ফলন ব্যাহত হয়।
৪. বীজের অপচয়: চিত্র 'ক'-তে হেক্টরপ্রতি বীজের অপচয় ও প্রয়োজনীয়তা অনেক কম (মাত্র ৫-৭ কেজি), কিন্তু চিত্র খ-তে তুলনামূলকভাবে চার থেকে পাঁচ গুণ বেশি বীজ প্রয়োজন হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্র 'ক' হলো ধান চাষের আধুনিক পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি এসআরআই (SRI - System of Rice Intensification) পদ্ধতি। প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় এ পদ্ধতি ধান উৎপাদনের জন্য একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হতে পারে—উক্তিটি যথার্থ।
নিম্নোক্ত যুক্তিসমূহের আলোকে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. বীজের সাশ্রয়: প্রচলিত পদ্ধতিতে যেখানে হেক্টরপ্রতি প্রায় ৪০-৫০ কেজি বীজ প্রয়োজন হয়, সেখানে চিত্র 'ক' তথা এসআরআই পদ্ধতিতে মাত্র ৫-৭ কেজি বীজেই ধান চাষ সম্ভব হয়, যা বীজের অপচয় ব্যাপকভাবে কমায়।
২. অধিক কুশি ও বলিষ্ঠ মূলতন্ত্র: ২৫ সেমি × ২৫ সেমি দূরত্বে একক চারা রোপণ করায় গাছগুলো প্রচুর আলো-বাতাস পায়। ফলে গাছের শিকড় মাটির অনেক গভীরে যায় এবং চারা প্রতি ৩০-৫০টি কার্যকর কুশি তৈরি হয়, যা ধানের ফলন বৃদ্ধি করে।
৩. পানির ব্যাপক সাশ্রয়: এসআরআই পদ্ধতিতে ক্ষেত সবসময় প্লাবিত রাখতে হয় না; পর্যায়ক্রমে ভিজানো ও শুকানো (AWD) পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়। ফলে সেচের পানির প্রায় ৪০-৫০% সাশ্রয় হয়।
৪. রোগবালাই ও পোকার আক্রমণ হ্রাস: চারাগুলো নির্দিষ্ট ও প্রশস্ত দূরত্বে অবস্থান করায় গাছের গোড়ায় আলো ও বাতাস চলাচল করতে পারে। এর ফলে ক্ষতিকর পোকা ও ছত্রাকজনিত রোগের আক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়, যার কারণে বালাইনাশকের খরচ ও রাসায়নিক দূষণ কমে।
৫. জৈব সারের ব্যবহার ও মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা: এ পদ্ধতিতে রাসায়নিক সারের পরিবর্তে জৈব সার ও কম্পোস্ট ব্যবহারে উৎসাহিত করা হয়, যা মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে ও পরিবেশবান্ধব।
৬. উচ্চ ফলন: এসআরআই পদ্ধতিতে প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় ২০%-৩০% বা ক্ষেত্রবিশেষে তারও বেশি ফলন পাওয়া যায়।অতএব, কম খরচে অধিক ফলন নিশ্চিতকরণ এবং পানি ও বীজের অপচয় রোধ করার মাধ্যমে টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনে চিত্র 'ক'-এর এসআরআই পদ্ধতি ধান উৎপাদনের ক্ষেত্রে নিঃসন্দেহে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও