অর্থনীতি ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৭

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

সাকিব চীনে একটি মেডিকেল কলেজে পড়ে। সেখানে তার বন্ধু X দেশের টনি এর সাথে আলাপকালে টনি জানায় যে, তাদের দেশে প্রচুর প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে। রয়েছে বন ও সমুদ্র। কিন্তু সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাবে অধিকাংশ প্রাকৃতিক সম্পদ অপচয় হচ্ছে। তাই তারা অনুন্নত।

  1. ক)

    বাংলাদেশের দ্বি-বার্ষিক পরিকল্পনার মেয়াদকাল কত ছিল?

    (1)
  2. খ)

    সুষ্ঠু পরিকল্পনা উন্নয়নে সহায়ক- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে টনি এর দেশের উন্নয়নের জন্য পরিকল্পনার গুরুত্ব বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে উদ্দীপকে বর্ণিত টনির দেশকে উন্নত দেশে পরিণত করা সম্ভব- বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলাদেশের দ্বি-বার্ষিক পরিকল্পনার মেয়াদকাল ছিল ১৯৭৮ সাল থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত (১৯৭৮-১৯৮০)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সুষ্ঠু অর্থনৈতিক পরিকল্পনা একটি দেশের সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন অর্জনে সহায়তা করে। পরিকল্পনার মাধ্যমে জাতীয় লক্ষ্য ও অগ্রাধিকারসমূহ নির্ধারণ করা হয় এবং সম্পদের অপচয় রোধ করে উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ নিশ্চিত করা হয়। এর ফলে মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি, দারিদ্র্য বিমোচন এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হয়। তাই সুষ্ঠু পরিকল্পনা অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত টনির দেশ X-এর উন্নয়নের জন্য অর্থনৈতিক পরিকল্পনার গুরুত্ব অপরিসীম।

    একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন কেবল প্রাকৃতিক সম্পদের প্রাচুর্যের ওপর নির্ভর করে না, বরং সম্পদের সুষ্ঠু ও দক্ষ ব্যবহারের ওপর নির্ভর করে। উদ্দীপকে দেখা যায়, টনির দেশে প্রচুর বনজ ও সামুদ্রিক প্রাকৃতিক সম্পদ থাকা সত্ত্বেও শুধু সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাবে তা অপচয় হচ্ছে এবং দেশটি অনুন্নত রয়ে গেছে।

    টনির দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য একটি সমন্বিত ও দূরদর্শী পরিকল্পনা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের অফুরন্ত বনজ ও সামুদ্রিক সম্পদের সঠিক জরিপ ও সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা যাবে, অপচয় হ্রাস পাবে, শিল্পায়ন ত্বরান্বিত হবে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। সঠিক পরিকল্পনা ছাড়া প্রাপ্ত সম্পদের কার্যকর রূপান্তর সম্ভব নয় বলেই টনির দেশের উন্নয়নের জন্য এটি আবশ্যক।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত টনির দেশকে সুষ্ঠু অর্থনৈতিক পরিকল্পনার যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে উন্নত দেশে পরিণত করা অবশ্যই সম্ভব—উক্তিটি যথার্থ।

    কোনো দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রধান ভিত্তি হলো প্রাকৃতিক ও মানবসম্পদের সুষ্ঠু সমন্বয় ও রূপান্তর। টনির দেশে বনজ ও সামুদ্রিক সম্পদের মতো মূল্যবান অর্থনৈতিক ভিত্তি বিদ্যমান। কিন্তু সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাবই তাদের অনুন্নয়ন ও সম্পদের অপচয়ের মূল কারণ।

    একটি সুদূরপ্রসারী ও বাস্তবমুখী অর্থনৈতিক পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো কার্যকর করা সম্ভব:
    ১. সম্পদের কাম্য ব্যবহার: বনজ ও সামুদ্রিক সম্পদ আহরণ এবং প্রক্রিয়াজাতকরণে সঠিক নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে অপচয় শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা যাবে।
    ২. অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন: আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষ জনবল গঠনের জন্য পরিকল্পনাভিত্তিক বিনিয়োগ করা সম্ভব হবে, যা সম্পদকে সম্পদে রূপান্তর করবে।
    ৩. রপ্তানি বৃদ্ধি ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন: সামুদ্রিক মৎস্য ও বনজ উপাদান আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করে বাণিজ্য ভারসাম্য অনুকূলে আনা সম্ভব হবে।
    ৪. শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান: সংশ্লিষ্ট কাঁচামালভিত্তিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে জাতীয় আয় দ্রুত বৃদ্ধি করা যাবে।

    অতএব, দূরদর্শী পরিকল্পনা এবং তার সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে বিদ্যমান প্রাকৃতিক সম্পদের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করে টনির অনুন্নত দেশ অচিরেই একটি সমৃদ্ধ ও উন্নত দেশে রূপান্তরিত হতে সক্ষম হবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন