অর্থনীতি ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৩

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

সুলতান সাহেবের কারখানায় স্থায়ী মূলধন প্রায় ৫৫ কোটি টাকা এবং তার কারখানায় ৫০০ জন শ্রমিক কাজ করে। এই কারখানায় পাটের কার্পেট, বস্তা ও হেশিয়ান সুতা তৈরি হয়। বর্তমানে বিশ্ববাজারে পাটজাতপণ্য উৎপাদনে আগ্রহী হয়ে উঠেছে।

  1. ক)

    মাইক্রো শিল্প কি?

    (1)
  2. খ)

    আমাদের দেশে কাঁচা চামড়ার দাম কম থাকা সত্ত্বেও চামড়া যত পণ্যের দাম এত বেশি কেন?

    (2)
  3. গ)

    সুলতান সাহেবের কারখানাটি যে শিল্পের অন্তর্গত তার ধরণ নির্ণয় কর এবং বর্ণনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে উদ্দীপকে উল্লিখিত শিল্পটির ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা আলোচনা কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জাতীয় শিল্পনীতি অনুযায়ী, ম্যানুফ্যাকচারিং ক্ষেত্রে যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ১০ লক্ষ থেকে ৭৫ লক্ষ টাকা কিংবা পারিবারিক সদস্য ছাড়া যে প্রতিষ্ঠানে অনধিক ১৫ জন বা ১৬-৩০ জন পর্যন্ত শ্রমিক কাজ করে, তাকে মাইক্রো শিল্প বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কাঁচা চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য আধুনিক প্রযুক্তি, বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক দ্রব্য ও দক্ষ শ্রমিকের প্রয়োজন হয়। কাঁচা চামড়া সংগ্রহ থেকে শুরু করে ট্যানারিতে পরিশোধন, ফিনিশড চামড়ায় রূপান্তর এবং সেখান থেকে আধুনিক নকশার জুতো, ব্যাগ ইত্যাদি তৈরির ধাপগুলোতে উচ্চ প্রক্রিয়াকরণ ব্যয়, ভারী যন্ত্রপাতি পরিচালনা ব্যয় এবং পরিবহন ব্যয় জড়িত থাকে। এছাড়া মধ্যস্বত্বভোগীদের মুনাফা এবং ব্র্যান্ডিং ও শোরুম পরিচালনার উচ্চ খরচের কারণে কাঁচা চামড়ার দাম কম থাকা সত্ত্বেও প্রস্তুতকৃত চামড়াজাত পণ্যের খুচরা মূল্য অনেক বেশি হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সুলতান সাহেবের কারখানাটি একটি 'বৃহৎ শিল্প'-এর অন্তর্গত।

    জাতীয় শিল্পনীতি অনুযায়ী, ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ৫০ কোটি টাকার অধিক কিংবা যে প্রতিষ্ঠানে ৩০০ জনের অধিক শ্রমিক নিয়োজিত থাকে, তাকে বৃহৎ শিল্প বলে।

    সুলতান সাহেবের কারখানার স্থায়ী মূলধন প্রায় ৫৫ কোটি টাকা এবং এতে ৫০০ জন শ্রমিক কাজ করেন। এখানে মূলধন এবং শ্রমিক সংখ্যা উভয় মানদণ্ডেই প্রতিষ্ঠানটি বৃহৎ শিল্পের সংজ্ঞার সাথে হুবহু মিলে যায়। কারখানায় পাটের কার্পেট, বস্তা ও হেশিয়ান সুতা বৃহৎ পরিসরে তৈরি হচ্ছে, যা বৃহদায়তন মূলধন-নিবিড় শিল্পোৎপাদনকে নির্দেশ করে। সুতরাং, মূলধন ও শ্রমিকের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে কারখানাটি একটি বৃহৎ শিল্প।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত শিল্পটি হলো 'পাট শিল্প'। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্যের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল। নিম্নে এর যৌক্তিকতা আলোচনা করা হলো:

    ১. পরিবেশ সচেতনতা ও বৈশ্বিক চাহিদা: বর্তমানে প্লাস্টিক ও পলিথিন দূষণের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে। এর বিকল্প হিসেবে বায়োডিগ্রেডেবল বা পরিবেশবান্ধব পাটের ব্যাগ, কার্পেট, জিওটেক্সটাইল ইত্যাদির বৈশ্বিক চাহিদা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
    ২. পণ্যের বহুমুখীকরণ: ঐতিহ্যবাহী বস্তা ও চটের বাইরে বর্তমানে আধুনিক পাটকলগুলোতে টেক্সটাইল সুতা, উন্নত মানের কার্পেট, শপিং ব্যাগ, আসবাবপত্র ও হোম ডেকর তৈরিতে পাট ব্যবহার হচ্ছে, যা উচ্চমূল্য সংযোজনে সহায়ক।
    ৩. কাঁচামালের সহজলভ্যতা: বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মানের কাঁচা পাট উৎপাদনকারী দেশ। স্থানীয়ভাবে কাঁচামালের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকার কারণে এ শিল্পের উৎপাদন খরচ আন্তর্জাতিক বাজারে তুলনামূলকভাবে প্রতিযোগিতামূলক রাখা সম্ভব।
    ৪. কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন: পাট শিল্পে বিপুল সংখ্যক দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারে।

    পরিশেষে বলা যায়, আন্তর্জাতিক বাজারে সিন্থেটিক পণ্যের বিকল্প হিসেবে প্রাকৃতিক তন্তুর গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশের পাট শিল্পের ভবিষ্যৎ অত্যন্ত সম্ভাবনাময়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন