সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, যশোর, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫
সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
রহিমা বেগম ও তার স্বামী গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীতে চাকরি করে। রহিমা লক্ষ করেন, কর্মস্থলে নারী ও পুরুষের কর্মের পরিবেশ, সুযোগ-সুবিধা ও বাস্তবতা ভিন্ন। একই কাজ করেও তিনি স্বামীর চেয়ে বেতন ও পদোন্নতিতে কম সুযোগ পান। বাড়িতে এসে তার স্বামী আরাম আয়েশ করলেও রহিমা তা পারেন না। খাবারদাবার গরম করা, বাচ্চাদের খোঁজখবর নেয়াসহ সংসারের যাবতীয় কাজকর্ম তাকেই সামলাতে হয়।
- ক)(1)
প্রগতি কী?
- খ)(2)
সামাজিক নিয়ন্ত্রণে ধর্মের ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের রহিমা বেগমের ক্ষেত্রে কোন ধরনের সামাজিক অসমতার চিত্র ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের বাস্তবতা সামাজিক উন্নয়ন ও অগগ্রতির পথে অন্তরায়- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রগতি হলো সমাজের কাঙ্ক্ষিত, পরিকল্পিত ও ইতিবাচক পরিবর্তন বা উৎকর্ষ সাধন, যা মানুষের সার্বিক কল্যাণ ও জীবনযাত্রার মান উন্নত করে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সামাজিক নিয়ন্ত্রণে ধর্ম অন্যতম প্রাচীন ও শক্তিশালী অনানুষ্ঠানিক মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। ধর্ম মানুষের মনস্তাত্ত্বিক ও নৈতিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। পরকালের পুরস্কার ও শাস্তির ধারণা মানুষের মনে পাপবোধ ও জবাবদিহিতা তৈরি করে, যা মানুষকে অন্যায়, দুর্নীতি ও অপরাধমূলক কাজ থেকে বিরত রাখে। ধর্মের বিধান, আচার-অনুষ্ঠান ও অনুশাসন সমাজের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং সদস্যদের মধ্যে সংহতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের রহিমা বেগমের ক্ষেত্রে 'লিঙ্গভিত্তিক সামাজিক অসমতা' (Gender Inequality) বা জেন্ডার বৈষম্যের চিত্র ফুটে উঠেছে।
সমাজে নারী ও পুরুষের মধ্যকার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পার্থক্যের ভিত্তিতে যে সুযোগ-সুবিধা, ক্ষমতা ও অধিকারের অসম বণ্টন তৈরি হয়, তাকে লিঙ্গভিত্তিক অসমতা বলে। এ অসমতা কোনো জৈবিক পার্থক্যের কারণে নয়, বরং সমাজ কর্তৃক সৃষ্ট ধ্যানধারণার ফল।
উদ্দীপকে দেখা যায়, রহিমা বেগম ও তার স্বামী একই গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে সমজাতীয় কাজ করা সত্ত্বেও রহিমা বেতন এবং পদোন্নতিতে স্বামীর চেয়ে কম সুযোগ পান। এছাড়া কর্মক্ষেত্র থেকে বাড়ি ফিরে তার স্বামী বিশ্রাম নিলেও রহিমা বেগমকে সংসারের রান্নাবান্না ও সন্তানদের দেখাশোনাসহ যাবতীয় গৃহস্থালি কাজ একাই সামলাতে হয়। এই ঘটনাটি স্পষ্টতই নারীর প্রতি কর্মক্ষেত্রে অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং পরিবারে কাজের দ্বৈত বোঝার (Double burden) মাধ্যমে সৃষ্ট লিঙ্গভিত্তিক অসমতাকে তুলে ধরে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের বাস্তবতা তথা লিঙ্গভিত্তিক সামাজিক বৈষম্য সমাজের উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে একটি বড় অন্তরায়—বক্তব্যটি যথার্থ।
যেকোনো দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই নারী। নারীদের পূর্ণ সম্ভাবনাকে অবমূল্যায়ন করে বা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত রেখে সামগ্রিক জাতীয় উন্নয়ন অর্জন করা অসম্ভব। উদ্দীপকে রহিমা বেগমের অভিজ্ঞতায় কর্মক্ষেত্রে বেতন ও পদোন্নতিতে বৈষম্য এবং পরিবারে পিতৃতান্ত্রিক মনোভাবের কারণে গৃহস্থালির সমস্ত দায়িত্ব একা বহন করার চিত্র ফুটে উঠেছে।
এই বাস্তবতা সমাজের উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে নানাভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে:
১. অর্থনৈতিক অপচয়: একই কাজের জন্য নারীদের কম পারিশ্রমিক দেওয়া তাদের কাজের প্রতি উৎসাহ কমিয়ে দেয় এবং জাতীয় অর্থনীতিতে নারীর অবদানকে সীমিত করে ফেলে।
২. মানবসম্পদের অবমূল্যায়ন: যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও নারীদের পদোন্নতি না দেওয়া মেধা ও যোগ্যতার অপচয় ঘটায়।
৩. শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যহানি: কর্মক্ষেত্রের বাইরে গিয়ে ঘরে অবিরাম বিনা পারিশ্রমিকের শ্রম দেওয়ার ফলে নারীদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা তাদের কর্মক্ষমতা হ্রাস করে।
৪. সমতাভিত্তিক সমাজের অন্তরায়: এ ধরনের বৈষম্যমূলক পারিবারিক ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পিতৃতান্ত্রিক শোষণকে টিকিয়ে রাখে এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG-৫: জেন্ডার সমতা) অর্জনে বাধা দেয়।অতএব, নারীদের ন্যায্য অধিকার, সমকাজে সমমজুরি ও পারিবারিক শ্রমে পুরুষের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হলে সমাজের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ও অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব নয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও