‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • দেশপ্রেম ও জাতীয়তা • ঢাকা কলেজ • ঢাকা কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৪

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

১৯৭১ সালের কথা। ২১ বছরের টগবগে মেধাবী তরুণ রনি। সবেমাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে। এরই মধ্যে সে যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়ে যায়। কিছুদিনের মধ্যেই পাড়ি জমাবার কথা স্বপ্নের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। এমন সময় বেজে উঠলো যুদ্ধের দামামা। রনি কী করবে! একদিকে বিদেশে উচ্চশিক্ষার হাতছানি, অন্যদিকে স্বাধীনতা যুদ্ধ। রনি শেষটাকেই বেছে নেয়। দেশ স্বাধীন হয়, কিন্তু রনির আর ফেরা হলো না।

  1. ক)

    Natus এর শাব্দিক অর্থ কী?

    (1)
  2. খ)

    ভাষা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ঐক্য জাতীয়বোধের সৃষ্টি করে- মূল্যায়ন করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের রনি কীসের কারণে স্বাধীনতা যুদ্ধে গিয়েছিল? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের রনির আত্মত্যাগ জাতি সৃষ্টিতে যে ভূমিকা পালন করেছে তা মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'Natus' (ন্যাটাস) শব্দের শাব্দিক অর্থ হলো 'জন্ম' (Birth) বা 'জন্মসূত্রে প্রাপ্ত' (Born)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির ঐক্য মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও একাত্মতার অনুভূতি জাগ্রত করে জাতীয়তাবোধ সৃষ্টিতে অন্যতম প্রধান ভূমিকা পালন করে।

    একই ভাষায় কথা বলা এবং একই সাহিত্যের ধারা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে বেড়ে ওঠার ফলে একটি জনসমষ্টির মধ্যে গভীর মানসিক ও আত্মিক মেলবন্ধন তৈরি হয়। তাদের সুখ-দুঃখ, চিন্তা-ভাবনা ও মূল্যবোধ এক সূত্রে গাঁথা হয়ে যায়। যেমন—বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে বাংলা ভাষা, সমৃদ্ধ সাহিত্য ও সংস্কৃতির ঐক্যই পরবর্তীতে শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তীব্র জাতীয়তাবোধ ও আন্দোলনের জন্ম দিয়েছিল। তাই ভাষা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ঐক্য জাতীয়তাবোধের বিকাশে অত্যন্ত শক্তিশালী উপাদান।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের রনি মূলত গভীর 'দেশপ্রেম' এবং 'জাতীয়তাবোধের' চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে গিয়েছিল।

    জাতীয়তাবোধ হলো এমন একটি মানসিক ও আত্মিক অনুভূতি, যা একটি নির্দিষ্ট জনসমষ্টির মানুষকে ঐক্যসূত্রে আবদ্ধ করে এবং দেশের প্রতি চরম ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ জাগ্রত করে। এই গভীর দেশপ্রেমের কারণেই মানুষ নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থ, সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ও ভবিষ্যৎ বিসর্জন দিয়ে দেশের ক্রান্তিলগ্নে ঝাঁপিয়ে পড়তে দ্বিধাবোধ করে না।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, মেধাবী তরুণ রনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার দুর্লভ সুযোগ পায়। কিন্তু ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে সে ব্যক্তিগত স্বপ্ন ও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের হাতছানিকে অগ্রাহ্য করে। দেশমাতৃকাকে শত্রুমুক্ত করার তাগিদ এবং জাতির প্রতি দায়বদ্ধতা তার ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষার চেয়ে বড় হয়ে ওঠে। ফলে জাতীয়তাবোধ ও দেশপ্রেমের চরম আবেগে উদ্বুদ্ধ হয়ে সে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে এবং নিজের জীবন উৎসর্গ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের রনির আত্মত্যাগ পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে একটি স্বাধীন-সার্বভৌম 'জাতি' সৃষ্টিতে এবং জাতিকে আত্মমর্যাদাশীল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে অনন্য ও চূড়ান্ত ভূমিকা পালন করেছে।

    একটি ভৌগোলিক জনসমষ্টি যখন রাজনৈতিক চেতনা ও জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজেদের শাসন ও সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠায় সফল হয়, তখনই একটি রাজনৈতিক 'জাতি'র জন্ম হয়। পরাধীনতার নাগপাশ থেকে মুক্ত হয়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ায় বীর সন্তানদের আত্মত্যাগ জাতির ভিতকে সুদৃঢ় করে এবং জাতীয় ঐক্যকে অমর রূপ দেয়।

    উদ্দীপকে রনি নিজের নিশ্চিত ভবিষ্যৎ ও যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার সুযোগ ত্যাগ করে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয় এবং দেশের জন্য শহীদ হয়। তার এই আত্মত্যাগ মুক্তিযুদ্ধের সামগ্রিক চেতনার প্রতীক। রনির মতো লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের স্বাধীনতা, এবং বাঙালি জনসমষ্টি একটি স্বাধীন-সার্বভৌম 'বাঙালি জাতি' হিসেবে বিশ্বের মানচিত্রে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। এই আত্মত্যাগ শুধু ভৌগোলিক স্বাধীনতা আনেনি, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আত্মমর্যাদাবোধ, সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও দেশপ্রেমের চিরন্তন প্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের রনির মতো মুক্তিকামী মানুষের চরম আত্মত্যাগই মূলত একটি স্বাধীন ও আত্মমর্যাদাশীল জাতি সৃষ্টির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে ভূমিকা পালন করেছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন