‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২২

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    দেশবন্ধু হিসেবে কে পরিচিত?

    (1)
  2. খ)

    এ. কে. ফজলুল হককে কৃষককুলের মুক্তির দিশারী বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত সংবিধানের সাথে পাঠ্য বইয়ের কোন দেশের সংবিধানের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত সংবিধানটি কি উত্তম সংবিধান? যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    চিত্তরঞ্জন দাশ 'দেশবন্ধু' হিসেবে পরিচিত।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলার দরিদ্র, ঋণগ্রস্ত ও শোষিত কৃষকদের মহাজনি শোষণ ও অর্থনৈতিক দুরবস্থা থেকে মুক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় এ. কে. ফজলুল হককে কৃষককুলের মুক্তির দিশারী বলা হয়।

    তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার কৃষকরা মহাজনদের চড়া সুদের জালে জর্জরিত ছিল। এ. কে. ফজলুল হক কৃষকদের স্বার্থরক্ষায় 'প্রজা পার্টি' (পরবর্তীতে কৃষক প্রজা পার্টি) গঠন করেন। ১৯৩৭ সালে অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হয়ে তিনি ঐতিহাসিক 'বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন' (১৯৩৮) এবং 'মহাজনি আইন' (১৯৪০) প্রণয়ন করেন। এ আইনগুলোর মাধ্যমে কৃষকদের জমি থেকে অন্যায়ভাবে উচ্ছেদ বন্ধ হয় এবং ঋণ সালিশী বোর্ড গঠনের মাধ্যমে লাখ লাখ কৃষককে সুদের ভয়াবহ ফাঁদ থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। কৃষক কল্যাণে এই ঐতিহাসিক ভূমিকার জন্যই তাঁকে কৃষককুলের মুক্তির দিশারী বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত সংবিধানের বৈশিষ্ট্যগুলোর সাথে পাঠ্যবইয়ে আলোচিত বাংলাদেশের সংবিধানের সুস্পষ্ট মিল রয়েছে।

    উদ্দীপকের ছকে একটি সংবিধানের কয়েকটি প্রধান বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছে— লিখিত, দুষ্পরিবর্তনীয়, সংসদীয় গণতন্ত্র, এক কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মৌলিক অধিকার এবং জাতীয়তাবাদ।

    ১৯৭২ সালে প্রণীত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে এই বৈশিষ্ট্যগুলোর সবগুলোই বিদ্যমান। যেমন:
    ১. বাংলাদেশের সংবিধান একটি লিখিত সংবিধান।
    ২. এটি দুষ্পরিবর্তনীয়, কারণ জাতীয় সংসদের মোট সদস্য-সংখ্যার অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের মাধ্যমে ছাড়া এর কোনো বিধান সংশোধন করা যায় না।
    ৩. সংবিধানে মন্ত্রিপরিষদ শাসিত বা সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছে।
    ৪. সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশ আইনসভা 'জাতীয় সংসদ' নামে এক কক্ষবিশিষ্ট।
    ৫. সংবিধান বিচার বিভাগের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা প্রদান করে।
    ৬. সংবিধানে নাগরিকদের জন্য মৌলিক অধিকারের বিস্তৃত সমাবেশ ও তার সুরক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে।
    ৭. সংবিধানের অন্যতম মূলনীতি হিসেবে জাতীয়তাবাদকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

    অতএব, বৈশিষ্ট্যগুলোর আলোকে এটি স্পষ্টভাবে প্রতিয়মান হয় যে উদ্দীপকে বর্ণিত সংবিধানটির সাথে বাংলাদেশের সংবিধানের হুবহু মিল রয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, উদ্দীপকে বর্ণিত সংবিধানটি একটি উত্তম সংবিধান।

    রাষ্ট্রবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে উত্তম সংবিধানের কিছু অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য থাকে, যা উদ্দীপকে বর্ণিত সংবিধানটিতে পুরোদমে লক্ষ্য করা যায়। নিচে এর সপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করা হলো:

    ১. লিখিত রূপ: একটি উত্তম সংবিধান সাধারণত লিখিত ও সুনির্দিষ্ট হয়। লিখিত হওয়ার কারণে এটি নাগরিক ও সরকারের মধ্যে সুস্পষ্ট সম্পর্ক বজায় রাখে এবং শাসনব্যবস্থায় কোনো প্রকার অস্পষ্টতা বা বিভ্রান্তি তৈরি হতে দেয় না।
    ২. দুষ্পরিবর্তনীয়তা: এটি দুষ্পরিবর্তনীয় হওয়ায় শাসকগোষ্ঠী নিজের স্বার্থে বা হঠকারী সিদ্ধান্তে সহজে সংবিধান পরিবর্তন করতে পারে না। ফলে সংবিধানে মৌলিক নীতিগুলোর স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।
    ৩. মৌলিক অধিকারের অন্তর্ভুক্তি: উত্তম সংবিধানে নাগরিকদের মৌলিক মানবাধিকারের সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও আইনি সুরক্ষার নিশ্চয়তা থাকে, যা উদ্দীপকের সংবিধানে উপস্থিত।
    ৪. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা: একটি রাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার রক্ষা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করতে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগের ভূমিকা অপরিহার্য, যা এই সংবিধানের একটি অন্যতম ভিত্তি।
    ৫. সংসদীয় গণতন্ত্র: সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় সরকার আইনসভার নিকট দায়বদ্ধ ও জবাবদিহি থাকে, যা সুশাসন ও স্বৈরতন্ত্র প্রতিরোধের জন্য একান্ত প্রয়োজন।
    ৬. জাতীয়তাবাদের ভিত্তি: জাতীয়তাবাদী চেতনা একটি দেশের অখণ্ডতা ও জনগণের ঐক্যকে সুদৃঢ় করে।

    উপর্যুক্ত বৈশিষ্ট্যগুলোর সমন্বয়ে একটি সংবিধান রাষ্ট্রের সার্বিক স্থিতিশীলতা, জনগণের মৌলিক অধিকার এবং গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে সক্ষম হয়। তাই নিঃসংশয়ে বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত সংবিধানটি একটি উত্তম সংবিধানের আদর্শ প্রতিফলন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন