কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র • বাংলাদেশের কৃষি • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা বোর্ড ২০২২
কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন
১৯৭০ সালে গাজীপুর জেলার জয়দেবপুরে স্থাপিত একটি নামকরা কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান আছে। এই প্রতিষ্ঠানটি শুধুমাত্র ধান ফসল নিয়ে কাজ করে। ধানের নতুনজাত উদ্ভাবন, চাষ পদ্ধতির উন্নয়ন, উচ্চ ফলন, ক্ষতিকারক পোকা-মাকড় শনাক্তকরণ ও দমনে প্রতিষ্ঠানটি গবেষণা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
- ক)(1)
কৃষক সভা কী?
- খ)(2)
উদ্যান ফসল চাষ করা লাভজনক কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
খাদ্য চাহিদা মেটাতে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কৃষিবিষয়ক বিভিন্ন তথ্য, নতুন প্রযুক্তি এবং কৃষকদের সমস্যা নিয়ে আলোচনা ও সমাধানের উদ্দেশ্যে কৃষকদের নিয়ে যে সভা বা বৈঠকের আয়োজন করা হয়, তাকে কৃষক সভা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্যান ফসল (যেমন- শাকসবজি, ফলমূল, ফুল ও মসলা) চাষ করা অত্যন্ত লাভজনক, কারণ এসব ফসলের একক প্রতি ফলন মাঠ ফসলের তুলনায় অনেক বেশি এবং বাজারমূল্যও তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। এছাড়া উদ্যান ফসল সারা বছর চাষ করা যায়, অল্প জমিতে নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে নিয়মিত উৎপাদন পাওয়া যায় এবং স্থানীয় বাজারে এসবের ধারাবাহিক উচ্চ চাহিদা রয়েছে। ফলে কৃষক অল্প সময়ে অধিক মুনাফা অর্জন করতে পারেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত ১৯৭০ সালে গাজীপুরের জয়দেবপুরে স্থাপিত প্রতিষ্ঠানটি হলো 'বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট' (BRRI বা ব্রি)।
প্রতিষ্ঠানটির মূল কার্যক্রমগুলো নিচে দেওয়া হলো:
১. জাত উদ্ভাবন: দেশের বিভিন্ন কৃষি-পরিবেশ অঞ্চলের উপযোগী উচ্চফলনশীল (উফশী) এবং হাইব্রিড ধানের জাত উদ্ভাবন করা।
২. প্রতিকূলতা সহনশীল জাত সৃষ্টি: লবণাক্ততা, খরা, জলমগ্নতা এবং ঠান্ডা সহনশীল বিশেষ জাত উদ্ভাবন।
৩. রোগবালাই ও পোকামাকড় দমন: ধানের ক্ষতিকারক কীটপতঙ্গ ও রোগবালাই শনাক্তকরণ এবং পরিবেশবান্ধব ও সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা (IPM) পদ্ধতি উদ্ভাবন।
৪. প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ: আধুনিক ধান চাষ প্রযুক্তি, জলবায়ু সহনশীল চাষাবাদ পদ্ধতি কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া এবং সম্প্রসারণ কর্মী ও বিজ্ঞানীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশের খাদ্য চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)-এর ভূমিকা অত্যন্ত অপরিসীম।
বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ এবং এখানে প্রধান খাদ্য হলো ভাত। স্বাধীনতার সময় জনসংখ্যা কম থাকা সত্ত্বেও দেশে খাদ্য ঘাটতি ছিল। কিন্তু ব্রি-এর বিজ্ঞানীদের নিরলস গবেষণার ফলে শতাধিক উচ্চফলনশীল ও হাইব্রিড জাতের ধান উদ্ভাবিত হয়েছে। এসব জাতের ফলন স্থানীয় সনাতন জাতের চেয়ে বহুগুণ বেশি।
ব্রি উদ্ভাবিত জাতগুলোর মধ্যে বিআর-১১, ব্রি ধান২৮, ব্রি ধান২৯, ব্রি ধান৫০ (বাংলামতি), এবং অতি সম্প্রতি ব্রি ধান৮৮, ব্রি ধান৮৯ ইত্যাদি কৃষকদের মাঝে বিপুল সাড়া ফেলেছে। এছাড়া পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জিংক-সমৃদ্ধ জাত (যেমন- ব্রি ধান৬২, ব্রি ধান৭৪) এবং উপকূলীয় অঞ্চলের খাদ্য সুরক্ষায় লবণাক্ততা সহনশীল জাত উদ্ভাবন খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। জমির পরিমাণ ক্রমশ হ্রাস পাওয়া সত্ত্বেও দেশের ক্রমবর্ধমান বিশাল জনগোষ্ঠীর খাদ্য চাহিদা মেটাতে এবং বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে ব্রি-এর ভূমিকা প্রধান ও অগ্রগণ্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও