যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২২

যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    ‘Logos শব্দের অর্থ কী?

    (1)
  2. খ)

    যুক্তিবিদ্যাকে কেন চিন্তা সম্পৰ্কীয় বিজ্ঞান বলা হয়? বর্ণনা করো।

    (2)
  3. গ)

    ছক-১ এ যুক্তিবিদ্যার যে দিকটি ফুটে উঠেছে, তার ব্যাখ্যা দাও।

    (3)
  4. ঘ)

    ছক-২ এবং ছক-৩ এ তোমার পাঠ্যবইয়ের যে দিকগুলো নির্দেশ করেছে, তাদের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    গ্রিক শব্দ ‘Logos’ (লোগোস)-এর অর্থ হলো চিন্তা, কথা বা ভাষা।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যুক্তিবিদ্যা হলো বৈধ চিন্তার নিয়মাবলি সম্পর্কিত বিজ্ঞান। চিন্তা প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে ধারণা, অবধারণ এবং অনুমান। এর মধ্যে অনুমানই যুক্তিবিদ্যার মূল আলোচ্য বিষয়। যুক্তিবিদ্যা সত্যতা অর্জনের লক্ষ্যে ভ্রান্তিকে পরিহার করে সঠিক বা বৈধ চিন্তার নিয়ম প্রণয়ন ও বিশ্লেষণ করে। এজন্য যুক্তিবিদ্যাকে চিন্তা সম্পর্কীয় বিজ্ঞান বা 'Science of thought' বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ছক-১ এ যুক্তিবিদ্যার ‘আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান’ (Normative Science) রূপটি ফুটে উঠেছে।

    ছক-১ এ উল্লেখিত উপাদানগুলো হলো— আদর্শ, সত্যতা, বৈধতা এবং অবৈধতা। যে বিজ্ঞান কোনো একটি নির্দিষ্ট আদর্শকে সামনে রেখে কোনো বিষয়ের মূল্যায়ন করে, তাকে আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান বলে। যুক্তিবিদ্যার মূল আদর্শ হলো সত্যকে অর্জন করা এবং মিথ্যাকে বর্জন করা। এই লক্ষ্যে যুক্তিবিদ্যা যুক্তি বা চিন্তার বৈধতা ও অবৈধতা নিরূপণ করার নিয়মাবলি প্রণয়ন করে। এটি কেবল বস্তু বা চিন্তার বর্তমান রূপ বর্ণনা করে না, বরং কেমন হওয়া উচিত (আদর্শ মানদণ্ড) তা নির্ধারণ করে। সুতরাং, সত্যের আদর্শকে সামনে রেখে যুক্তির বৈধতা ও অবৈধতা বিচার করার দিকটি নির্দেশ করায় ছক-১ যুক্তিবিদ্যার আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান রূপকে প্রকাশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ছক-২ এ যুক্তিবিদ্যার ‘বিজ্ঞান’ (Science) রূপ এবং ছক-৩ এ ‘কলা’ (Art) রূপ নির্দেশ করা হয়েছে। নিচে এদের তুলনামূলক বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো:

    ছক-২ এ ‘সুশৃঙ্খল’ ও ‘সুনিশ্চিত জ্ঞান’-এর কথা বলা হয়েছে, যা বিজ্ঞানের মূল বৈশিষ্ট্য। কোনো নির্দিষ্ট বিষয় সম্পর্কে সুশৃঙ্খল, সুবিন্যস্ত ও সুনিশ্চিত জ্ঞানকেই বিজ্ঞান বলা হয়। যুক্তিবিদ্যা চিন্তার সাধারণ নিয়মাবলি আবিষ্কার ও প্রণয়ন করে সুশৃঙ্খল জ্ঞান প্রদান করে বলে এটি একটি বিজ্ঞান।

    অপরদিকে ছক-৩ এ ‘দক্ষতা’, ‘কর্মকৌশল/কর্মপৈপুণ্যতা’, ‘সৃজনশীলতা’ ও ‘প্রায়োগিক জ্ঞান’-এর উল্লেখ রয়েছে, যা কলার নির্দেশক। কলাবিদ্যা কোনো উদ্দেশ্য সাধনের জন্য তাত্ত্বিক জ্ঞানকে বাস্তব ক্ষেত্রে দক্ষতার সাথে প্রয়োগ করার নিয়ম শিক্ষা দেয়। যুক্তিবিদ্যাও তার আবিষ্কৃত নিয়মগুলোকে ব্যবহারিক ক্ষেত্রে সঠিক যুক্তি গঠন ও যুক্তির ভুলত্রুটি (অনুপপত্তি) নির্ণয়ে প্রয়োগের কৌশল শেখায়।

    যুক্তিবিদদের মধ্যে এর স্বরূপ নিয়ে বিতর্ক থাকলেও বেশিরভাগ যুক্তিবিদ (যেমন যোসেফ, অলড্রিচ, হোয়েটলি) যুক্তিবিদ্যাকে বিজ্ঞান ও কলা উভয় রূপেই গণ্য করেছেন। বিজ্ঞান হিসেবে যুক্তিবিদ্যা সঠিক চিন্তার নিয়মাবলির তাত্ত্বিক রূপ দান করে এবং সুনিশ্চিত জ্ঞান দেয়, আর কলা হিসেবে যুক্তিবিদ্যা সেই নিয়মগুলোকে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করে সঠিক যুক্তি গঠনের ব্যবহারিক দক্ষতা তৈরি করে। সুতরাং, ছক-২ ও ছক-৩ এর তুলনামূলক বিশ্লেষণে স্পষ্ট হয় যে যুক্তিবিদ্যা কেবল তাত্ত্বিক বিজ্ঞান নয়, এটি একটি প্রায়োগিক কলাবিদ্যাও।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন