ব্যবসায় উদ্যোগ • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৪
ব্যবসায় উদ্যোগ প্রশ্ন
জনাব রায়হান একটি ভোগ্যপণ্য তৈরি কারখানা স্থাপন করতে চান। এজন্য তিনি যথাযথ নিয়মনীতি অনুসরণ করে স্থাপন করেন। উৎপাদিত পণ্য সুলভ মূল্যে বিক্রয় করেন। মুনাফার একটি অংশ স্থানীয় সরকারি প্রতিষ্ঠানে জমা দেন। অপরদিকে জনাব রাইসুল শিশুর খাদ্য সামগ্রীর একটি কারখানা স্থাপন করেন। রাইসুল নিম্নমানের কাঁচামাল দিয়ে পণ্য উৎপাদন করে বেশি মূল্যে বিক্রয় করেন। মাঝে-মাঝে বিভিন্ন ক্ষতিকর রং মিশিয়ে ক্ষতিকর জুস তৈরি করেন। এছাড়া ২০০ গ্রামের পরিবর্তে ২৫০ গ্রামের স্টিকার লাগিয়ে বেশি দামে বিক্রয় করেন। অল্প কিছুদিন প্রতিষ্ঠান চললেও বর্তমানে কারখানাটি বন্ধ হয়ে যায়।
- ক)(1)
সমাজ ও ব্যবসায় সম্প্রদায়ের সদস্য হিসেবে 'ব্যবসায় উদ্যোক্তা। কী লালন ও পালন করতে হয়?
- খ)(2)
শিল্পোন্নয়নের বড় সমস্যা কী? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
জনাব রায়হান কোন পক্ষের প্রতি দায়বদ্ধতা পালন করেছেন? বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
ব্যবসায়িক মূল্যবোধ ও নৈতিকতার আলোকে জনাব রাইসুলের কার্যক্রমের মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
সমাজ ও ব্যবসায় সম্প্রদায়ের সদস্য হিসেবে ব্যবসায় উদ্যোক্তাকে সামাজিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতা এবং ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি লালন ও পালন করতে হয়।
- খ)
শিল্পোন্নয়নের সবচেয়ে বড় সমস্যা পরিবেশ দূষণ। শিল্প কারখানার বর্জ্য তরল পদার্থ নদী-নালায় পড়ে পানি দূষিত করে এবং জলজ প্রাণীর বাসযোগ্যতা নষ্ট করে। যানবাহন ও কারখানার ধোঁয়ায় বায়ু দূষিত হয়, মেশিন ও জেনারেটরের আওয়াজে শব্দদূষণ ঘটে। এছাড়া শিল্প স্থাপনের নামে গাছ নিধন ও পাহাড় কাটা হয়। এভাবে শিল্পের অগ্রগতির সাথে পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
- গ)
জনাব রায়হান রাষ্ট্র, ক্রেতা ও সমাজ- এই তিন পক্ষের প্রতিই দায়বদ্ধতা পালন করেছেন।
১. রাষ্ট্রের প্রতি : তিনি যথাযথ নিয়মনীতি অনুসরণ করে কারখানা স্থাপন করেছেন। সরকারের নিয়মনীতি পালন রাষ্ট্রের প্রতি ব্যবসায়ীর দায়িত্ব।
২. ক্রেতার প্রতি : তিনি উৎপাদিত ভোগ্যপণ্য সুলভ মূল্যে বিক্রয় করেন। এতে পণ্য ক্রেতার ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকে এবং পণ্যসামগ্রী প্রাপ্তি সহজ হয়।
৩. সমাজের প্রতি : মুনাফার একটি অংশ স্থানীয় সরকারি প্রতিষ্ঠানে জমা দেওয়া জনহিতকর কাজে সহায়তার উদাহরণ।এভাবে জনাব রায়হান বিভিন্ন পক্ষের প্রতি সামাজিক দায়বদ্ধতা পালন করেছেন।
- ঘ)
জনাব রাইসুলের কার্যক্রম ব্যবসায়িক মূল্যবোধ ও নৈতিকতার পরিপন্থি। ব্যবসায় নৈতিকতার মূল কথা হলো সততা বজায় রাখা, ক্ষতিকর পণ্য উৎপাদন না করা এবং গ্রাহকদের সাথে প্রতারণা না করা।
১. নিম্নমানের কাঁচামাল ও অতিরিক্ত মূল্য : তিনি নিম্নমানের কাঁচামাল দিয়ে পণ্য বানিয়ে বেশি দামে বিক্রি করেন। এটি ক্রেতাদের সাথে অন্যায় আচরণ।
২. ক্ষতিকর রং মেশানো : শিশুর খাদ্য সামগ্রী ও জুসে ক্ষতিকর রং মেশানো মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি, যা চরম অনৈতিক কাজ।
৩. প্রতারণা : ২০০ গ্রামের পরিবর্তে ২৫০ গ্রামের স্টিকার লাগিয়ে বেশি দামে বিক্রি করা সরাসরি প্রতারণা।
৪. পরিণতি : অনৈতিক কার্যকলাপে লিপ্ত ব্যবসায়ীকে সবাই ঘৃণা করে। তাই রাইসুলের প্রতিষ্ঠান অল্প দিনেই বন্ধ হয়ে গেছে।সুতরাং, জনাব রাইসুলের কার্যক্রম অনৈতিক ও সামাজিকভাবে অগ্রহণযোগ্য, যার ফলে তার ব্যবসায় ব্যর্থ হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও