অর্থনীতি ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি কৃষিপ্রধান দেশ। দীর্ঘদিন ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক ও পাকিস্তানি শাসন ও শোষণ, কৃষির অনগ্রসরতা, শিল্পের পশ্চাৎপদতা, খাদ্য ঘাটতি, অনুন্নত অবকাঠামো, নিম্ন জীবনযাত্রার মান, বেকারত্ব ইত্যাদি ছিল অর্থনীতির প্রধান বৈশিষ্ট্য। তবে সময়ের পরিক্রমায় বিশ্ব অর্থনীতির পরিবর্তনের সাথে সাথে সরকারের বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে কৃষির উন্নয়ন, শিল্পের বিকাশ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির উন্নয়ন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নয়ন, প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি ইত্যাদি আমাদেরকে আশাবাদী করেছে। আশা করা যায়, 'রূপকল্প ২০২১' বাস্তবায়নের মাধ্যমে এদেশ একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে।

  1. ক)

    প্রাকৃতিক পরিবেশ কী ?

    (1)
  2. খ)

    অর্থনৈতিক উন্নয়নে অর্থনৈতিক অবকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ কেন ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের আলোকে বাংলাদেশের অর্থনীতির গতিধারা ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    তুমি কি মনে করো বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্যে একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে ? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো দেশের জলবায়ু, ভূ-প্রকৃতি, মাটি, নদ-নদী, বনজ ও খনিজ সম্পদ ইত্যাদি প্রাকৃতিক উপাদানসমূহ নিয়ে যে পারিপার্শ্বিক অবস্থা গড়ে ওঠে, তাকে প্রাকৃতিক পরিবেশ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অর্থনৈতিক অবকাঠামো হলো উৎপাদনের সাথে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত সুযোগ-সুবিধাসমূহ, যেমন—পরিবহন, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও সেচ ব্যবস্থা। এটি কৃষি ও শিল্প খাতের উৎপাদন বৃদ্ধি, পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, বিনিয়োগের পরিবেশ সৃষ্টি এবং সামগ্রিক উৎপাদন খরচ হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ কারণে অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করতে অর্থনৈতিক অবকাঠামো অত্যন্ত অপরিহার্য।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের আলোকে বাংলাদেশের অর্থনীতির গতিধারা ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণ ও পশ্চাৎপদ অবস্থা থেকে একটি গতিশীল, শিল্প ও সেবামুখী আধুনিক অর্থনীতির দিকে ধাবিত হচ্ছে।

    স্বাধীনতার পূর্বে ও প্রাথমিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি ছিল মূলত সনাতন কৃষিভিত্তিক, খাদ্য ঘাটতিপূর্ণ এবং অনুন্নত অবকাঠামোয় জর্জরিত। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে আধুনিক প্রযুক্তি ও বাস্তবমুখী পরিকল্পনার ফলে কৃষিতে আধুনিকায়ন ও খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা এসেছে। পাশাপাশি শিল্প খাতের বিকাশ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বিস্তার, আইসিটি খাতের প্রসার এবং সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির ফলে অর্থনীতিতে কাঠামোগত পরিবর্তন ঘটেছে। জিডিপিতে কৃষি খাতের পাশাপাশি শিল্প ও সেবা খাতের অবদান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা প্রমাণ করে যে বাংলাদেশের অর্থনীতি একটি ইতিবাচক রূপান্তর ও উচ্চ প্রবৃদ্ধির ধারায় অগ্রসর হচ্ছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, আমি মনে করি উদ্দীপকে বর্ণিত অগ্রগতি ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপের আলোকে বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্যে একটি নিম্ন-মধ্যম বা মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য অর্জনে সফল হয়েছে।

    উদ্দীপকে উল্লেখিত রূপকল্প ২০২১-এর মূল লক্ষ্য ছিল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি করে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করা। স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতি, ব্যাপক বেকারত্ব ও দারিদ্র্য সত্ত্বেও গত কয়েক দশকে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার সন্তোষজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বব্যাংকের মানদণ্ড অনুযায়ী, বাংলাদেশ ২০১৫ সালেই নিম্ন-আয়ের দেশ থেকে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়।

    কৃষি খাতের আধুনিকায়ন, তৈরি পোশাক শিল্পের বৈশ্বিক প্রসার, প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সের উচ্চ প্রবাহ এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ মাথাপিছু জাতীয় আয়কে ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি করেছে। পদ্মা সেতু, বিদ্যুৎ খাতের স্বনির্ভরতার মতো মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেয়েছিল। অতএব, উদ্দীপকের সার্বিক চিত্র এবং অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে স্পষ্ট হয় যে, সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণের ফলেই বাংলাদেশ ২০২১ সালের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন