ভূগোল এবং পরিবেশ • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৩
ভূগোল এবং পরিবেশ প্রশ্ন
- ক)(1)
বারিমণ্ডল কাকে বলে?
- খ)(2)
বঙ্গোপসাগরকে উপসাগর বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
চিত্রের 'C' চিহ্নিত ভূমিরূপটি সবিস্তারে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
চিত্রের 'A' ও 'B' ভূমিরূপ দুইটি কি সাদৃশ্যপূর্ণ? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
পৃথিবীর জলভাগ বা সাগর, মহাসাগর, নদী, হ্রদসহ সব জলরাশির সমষ্টিকে বারিমণ্ডল বলে।
- খ)
বঙ্গোপসাগরের তিন দিকের বেশিরভাগ অংশ স্থলভাগ দ্বারা বেষ্টিত এবং একদিক সাগরের উন্মুক্ত অংশের সঙ্গে যুক্ত। সাগরের যে অংশ স্থলভাগের মধ্যে প্রবেশ করে তিন দিকে স্থলভাগ দ্বারা বেষ্টিত থাকে, তাকে উপসাগর বলে। বঙ্গোপসাগর উত্তরে বাংলাদেশ ও ভারত, পূর্বে মিয়ানমার এবং পশ্চিমে ভারতের স্থলভাগ দ্বারা বেষ্টিত এবং দক্ষিণে ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত। এ কারণে একে উপসাগর বলা হয়।
- গ)
চিত্রে 'C' চিহ্নিত ভূমিরূপটি গভীর সমুদ্রখাত (Oceanic trench)।
১. গভীর সমুদ্রের সমভূমির মাঝে মাঝে যে গভীর খাত দেখা যায়, তাকে গভীর সমুদ্রখাত বলে।
২. মহাদেশীয় ও সামুদ্রিক প্লেট সংঘর্ষের ফলে প্লেট সীমানায় এ খাত সৃষ্টি হয়। এসব অঞ্চলে ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরি বেশি হয়।
৩. খাতগুলো অধিক প্রশস্ত নয়, তবে ঢাল খুব খাড়া। এদের গভীরতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫,৪০০ মিটারের বেশি।
৪. প্রশান্ত মহাসাগরে এর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। গুয়াম দ্বীপের কাছে অবস্থিত ম্যারিয়ানা খাত (প্রায় ১০,৮৭০ মিটার) পৃথিবীর গভীরতম খাত।
৫. আটলান্টিকের পোর্টোরিকো খাত ও ভারত মহাসাগরের শুন্ডা খাত অন্য উদাহরণ। - ঘ)
চিত্রের 'A' হলো মহীসোপান এবং 'B' হলো মহীঢাল। এ দুটি ভূমিরূপ একটি আরেকটির সংলগ্ন হলেও সাদৃশ্যপূর্ণ নয়। এদের পার্থক্য নিচে দেওয়া হলো—
১. ঢাল: মহীসোপান মৃদু ঢালু, প্রায় ১° কোণে নিমজ্জিত। মহীঢাল হঠাৎ খাড়াভাবে নেমে যায়।
২. গভীরতা: মহীসোপানের সর্বোচ্চ গভীরতা প্রায় ১৫০ মিটার। মহীঢালের গভীরতা ২০০ থেকে ৩,০০০ মিটার।
৩. প্রশস্ততা: মহীসোপানের গড় প্রশস্ততা প্রায় ৭০ কিলোমিটার। মহীঢাল গড়ে ১৬ থেকে ৩২ কিলোমিটার প্রশস্ত।
৪. প্রকৃতি: মহীসোপানে মাছ ও খনিজ সম্পদ বেশি পাওয়া যায়। মহীঢাল অসংখ্য গিরিখাতের কারণে বন্ধুর।সুতরাং, উভয়ই মহাদেশের প্রান্তে অবস্থিত সমুদ্রতলের অংশ হলেও গঠন ও বৈশিষ্ট্যে তারা সাদৃশ্যপূর্ণ নয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও