যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৯

যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

দৃশ্যকল্প-১ : শিক্ষক হলেন তিনি যিনি শিক্ষকতা করেন। দৃশ্যকল্প-২ : পাপ নয় পুণ্য ।দৃশ্যকল্প-৩: চরিত্র হয় মানবজীবনের মুকুট।

  1. ক)

    যৌক্তিক সংজ্ঞা কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    যৌক্তিক সংজ্ঞার ক্ষেত্রে নামবাচক শব্দ ব্যবহার করা যায় না কেন?

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-১ এ কোন ধরনের অনুপপত্তি ঘটেছে? ব্যাখ্যা করো ।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-২ ও দৃশ্যকল্প-৩ এ যৌক্তিক সংজ্ঞার যে অনুপপত্তি ঘটেছে তা তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো পদের সম্পূর্ণ জাত্যর্থের সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট বিবৃতিকে যৌক্তিক সংজ্ঞা বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যৌক্তিক সংজ্ঞার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সাধারণ পদ বা জাতিবাচক পদের সংজ্ঞা দেওয়া যায়, নামবাচক পদের সংজ্ঞা দেওয়া যায় না। কারণ নামবাচক পদ কেবল কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, বস্তু বা স্থানকে নির্দেশ করে এবং এর কোনো সাধারণ বা অনিবার্য জাত্যর্থ (আবশ্যিক গুণ) থাকে না। জাত্যর্থ না থাকার কারণে নামবাচক পদের ক্ষেত্রে কোনো পূর্ণাঙ্গ যৌক্তিক সংজ্ঞা প্রদান করা সম্ভব নয়; কেবল এর বর্ণনা দেওয়া যায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-১ এ 'চক্রক সংজ্ঞা' (Circular Definition) অনুপপত্তি ঘটেছে।

    যৌক্তিক সংজ্ঞার তৃতীয় নিয়ম অনুযায়ী, যে পদের সংজ্ঞা দিতে হবে, সংজ্ঞায় সেই পদটির সমার্থক বা প্রতিশব্দ ব্যবহার করা যাবে না। এই নিয়ম লঙ্ঘন করে কোনো পদের সংজ্ঞায় যদি একই পদ বা তার সমার্থক শব্দ ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে ব্যবহার করা হয়, তবে সেখানে 'চক্রক সংজ্ঞা অনুপপত্তি' দেখা দেয়।

    দৃশ্যকল্প-১ এ বলা হয়েছে: 'শিক্ষক হলেন তিনি যিনি শিক্ষকতা করেন।' এখানে 'শিক্ষক' পদের অর্থ স্পষ্ট করার জন্য কোনো নতুন জাত্যর্থ উল্লেখ না করে 'শিক্ষকতা' শব্দটিরই পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে। ফলে সংজ্ঞেয় পদের অর্থ নতুনভাবে পরিষ্কার বা পরিস্ফুট হয়নি। সংজ্ঞার নিয়ম লঙ্ঘন করে সমার্থক শব্দ ব্যবহার করায় এটি চক্রক সংজ্ঞা অনুপপত্তিতে পরিণত হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-২ এ 'নঞর্থক সংজ্ঞা অনুপপত্তি' এবং দৃশ্যকল্প-৩ এ 'রূপক সংজ্ঞা অনুপপত্তি' ঘটেছে। নিচে পাঠ্যবইয়ের আলোকে এগুলোর বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:

    ১. দৃশ্যকল্প-২ এর বিশ্লেষণ:
    যৌক্তিক সংজ্ঞার পঞ্চম নিয়ম অনুসারে, কোনো পদের সংজ্ঞা যথাসম্ভব সদর্থক বা ইতিবাচক ভাষায় দিতে হবে; সংজ্ঞেয় পদটি যদি স্বভাবতই নঞর্থক না হয়, তবে নঞর্থক ভাষা ব্যবহার করা যাবে না। যদি কোনো সদর্থক পদের সংজ্ঞায় সদর্থক গুণের উল্লেখ না করে কেবল কী নয় তা উল্লেখ করা হয়, তবে 'নঞর্থক সংজ্ঞা অনুপপত্তি' ঘটে।
    দৃশ্যকল্প-২ এ বলা হয়েছে: 'পাপ নয় পুণ্য'। এখানে 'পাপ' পদটির নিজস্ব গুণ প্রকাশ না করে কেবল নঞর্থকভাবে বলা হয়েছে যে তা পুণ্য নয়। এটি কোনো যথার্থ জাত্যর্থ প্রকাশ করে না। ফলে এখানে নঞর্থক সংজ্ঞা অনুপপত্তি ঘটেছে।

    ২. দৃশ্যকল্প-৩ এর বিশ্লেষণ:
    যৌক্তিক সংজ্ঞার চতুর্থ নিয়ম অনুযায়ী, সংজ্ঞায় কোনো রূপক, দুর্বোধ্য বা অলঙ্কারপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করা যাবে না; সংজ্ঞা হবে সর্বদা সহজ ও সুস্পষ্ট। এই নিয়ম অমান্য করে সংজ্ঞায় রূপক শব্দ বা উপমা ব্যবহার করলে 'রূপক সংজ্ঞা অনুপপত্তি' ঘটে।
    দৃশ্যকল্প-৩ এ বলা হয়েছে: 'চরিত্র হয় মানবজীবনের মুকুট'। এখানে 'চরিত্র' পদের জাত্যর্থ উল্লেখ না করে 'মুকুট' নামক একটি রূপক ও আলঙ্কারিক শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে সংজ্ঞেয় পদের প্রকৃত বৈশিষ্ট্য অস্পষ্ট রয়ে গেছে।

    অতএব, দৃশ্যকল্প-২ এবং দৃশ্যকল্প-৩ এ যথাক্রমে নঞর্থক ও রূপক সংজ্ঞা অনুপপত্তি ঘটেছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন