সাহিত্য পাঠ • স্বদেশ • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২২
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
বিভিন্ন মুখের কোটি অশ্বারোহী এসেখুরে খুরে ক্ষতময় করে গেছে সহনীয়া মাটি,লালসার লালামাখা ক্রোধে বন্দুক কামান কতঅসুর গর্জনে চিরেছে আকাশ পরিপাটি,বিদীর্ণ বুক নীল বর্ণ হয়ে গেছ তুমি, বাংলাভূমি
- ক)(1)
উনোনের আগুনে আলোকিত কিসের কথা বলা হয়েছে?
- খ)(2)
‘বিচলিত স্নেহ’ কথাটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের ‘বাংলাভূমি’-এর সাথে ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতার চেতনাগত সাদৃশ্য কোথায়? আলোচনা কর।
- ঘ)(4)
‘লালসার লালা মাখা ক্রোধে’ কীভাবে আমাদের হাজার বছরের ইতিহাসের পরিচয় খুঁজে পাওয়া যায়? উদ্দীপক ও ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতার প্রেক্ষাপটে আলোচনা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উনোনের আগুনে আলোকিত উজ্জ্বল একটি থালার কথা বলা হয়েছে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
‘বিচলিত স্নেহ’ কথাটি দ্বারা সন্তানের ভবিষ্যৎ ও নিরাপত্তা নিয়ে মায়ের গভীর মমত্ববোধ, আশঙ্কা এবং আকুলতাকে বোঝানো হয়েছে।
সন্তান যখন অন্যায়ের প্রতিবাদে কিংবা অধিকার আদায়ে মুক্তিসংগ্রামে লিপ্ত হয়, তখন পরিবার বিশেষ করে মায়ের মন আশঙ্কায় দোলাচলে থাকে। মা সন্তানকে ভালোবাসার বন্ধনে আগলে রাখতে চান, আবার দেশের মঙ্গলের জন্য তাকে ছেড়ে দিতেও বাধ্য হন। স্নেহের এই উদ্বেগাকুল ও ব্যগ্র রূপটিকেই কবি 'বিচলিত স্নেহ' হিসেবে ব্যক্ত করেছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ‘বাংলাভূমি’-এর সাথে ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতার চেতনাগত সাদৃশ্য রয়েছে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে শোষণ-নির্যাতন সহ্য করেও মুক্তির আকঙ্ক্ষাকে বাঁচিয়ে রাখার সংগ্রামী চেতনায়।
উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়েছে কীভাবে বহিরাগত আক্রমণকারী অশ্বারোহীরা তাদের খুরে বাংলার সহনশীল মাটিকে ক্ষতবিক্ষত করেছে এবং কামান-বন্দুকের গর্জনে এ দেশের শান্তি ও রূপ ধ্বংস করেছে। অত্যাচার সহ্য করে এ মাটি নীলবর্ণ রূপ ধারণ করেছে।
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতাতেও আমাদের পূর্বপুরুষদের ওপর নেমে আসা অবর্ণনীয় দাসত্ব ও শোষণের ইতিহাস বর্ণিত হয়েছে। সেখানে পিঠে রক্তজবার মতো ক্ষতের দাগ থাকা সত্ত্বেও পূর্বপুরুষরা মাটির সাথে একাত্ম হয়ে মুক্তির গান গেয়েছেন। উদ্দীপকের অত্যাচারিত ‘বাংলাভূমি’ এবং কবিতার ক্ষতবিক্ষত কিন্তু অদম্য স্বদেশের ঐতিহ্য একই ঐতিহাসিক বেদনাবোধ ও সংগ্রামী চেতনায় একীভূত।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
‘লালসার লালা মাখা ক্রোধে’ চরণটির মাধ্যমে যুগ যুগ ধরে বাংলার ওপর চেপে বসা সাম্রাজ্যবাদী লোলুপতা, আগ্রাসন এবং নির্মম শোষণের নির্মম সত্য ফুটে ওঠে, যা আমাদের হাজার বছরের ইতিহাসের অন্যতম প্রধান অধ্যায়।
ঐতিহাসিকভাবে বাংলা ছিল ধনধান্যে সমৃদ্ধ একটি জনপদ। এই প্রাচুর্যের কারণেই যুগে যুগে বিভিন্ন বহির্দেশীয় শাসক ও সেনাপতি এই মাটির ওপর লোলুপ দৃষ্টি দিয়েছে। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, অশ্বারোহী শত্রুরা তাদের ধ্বংসাত্মক অস্ত্র ও লালসা নিয়ে এ দেশের শান্ত বুক চিরে ক্ষতবিক্ষত করেছে।
‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতায়ও কবি তুলে ধরেছেন হাজার বছরের দাসত্বের শৃঙ্খল এবং সেই শৃঙ্খল ভাঙার দীর্ঘ ইতিহাস। সেখানে আমাদের পূর্বপুরুষরা ছিলেন জমিনের কর্ষণকারী, কিন্তু তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল ক্রীতদাসের নিদারুণ নির্যাতন। পিঠের রক্তজবার মতো ক্ষতচিহ্ন সেই নিষ্ঠুর আগ্রাসনেরই সাক্ষ্য বহন করে। কবি দেখিয়েছেন যে, শাসকের এই লালসা ও ক্রোধের বিপরীতে বাংলার মানুষ কেবল আত্মবলিদানই দেয়নি, প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে এবং কাব্য ও মুক্তির সাধনায় নিজের অস্তিত্ব বজায় রেখেছে।
সুতরাং উদ্দীপকের পঙ্ক্তিটি বাংলার সুদীর্ঘকালের ঔপনিবেশিক আক্রমণ ও নিপীড়নমূলক ইতিহাসের দিকে সুস্পষ্ট ইঙ্গিত করে, যা কবিতার মূল ঐতিহাসিক ভিত্তির সাথে সম্পূর্ণ সঙ্গতিপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও