ইসলাম • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৬

ইসলাম প্রশ্ন

আতিক সাহেব তার বসতবাড়ির চারপাশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করার জন্য সেফু মিয়া নামে একজন ব্যক্তিকে নিযুক্ত করেন। কাজ শেষে সেফু মিয়া পারিশ্রমিক চাইলে আতিক সাহেব পরে দিবো বলে বিদায় করে দেন। আতিক সাহেবের এমন আচরণে সেফু মিয়া মনঃকষ্ট পান। আতিক সাহেবের বারো বছরের ছেলে তানিম, সে তার দাদার সাথে মসজিদে গিয়ে নিয়মিতভাবে এক মৌলিক ইবাদত সম্পাদন করে যা তাদেরকে অশ্লীল ও খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে।

  1. ক)

    সাওম কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    দুনিয়াবি ইলম অর্জনের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    আতিক সাহেবের আচরণে কার অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    তানিম কর্তৃক সম্পাদিত ইবাদতটির সামাজিক গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    ইবাদতের নিয়তে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও যৌনসম্ভোগ থেকে বিরত থাকাকে সাওম (রোজা) বলে।

  2. খ)

    দুনিয়াবি ইলম হলো চিকিৎসা, প্রকৌশল, কৃষি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক জ্ঞান। এই জ্ঞান ছাড়া মানুষ দৈনন্দিন জীবনের সমস্যার সমাধান করতে পারে না। চিকিৎসা, যোগাযোগ ও জীবিকার জন্য এই ইলম অত্যন্ত প্রয়োজন। মুসলিম সমাজকে অন্যদের ওপর নির্ভরশীলতা থেকে মুক্ত করে স্বাবলম্বী ও শক্তিশালী করতেও এর প্রয়োজন আছে। এই জ্ঞান মানুষের সেবা ও দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখে, তাই এটি অর্জন করাও গুরুত্বপূর্ণ।

  3. গ)

    আতিক সাহেবের আচরণে শ্রমিকের অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে।

    শ্রমিকের অধিকার হলো কাজ শেষে ন্যায্য মজুরি যথাসময়ে পাওয়া। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই তার মজুরি পরিশোধ করো।’ উদ্দীপকে সেফু মিয়া কাজ শেষ করে পারিশ্রমিক চাইলে আতিক সাহেব ‘পরে দিবো’ বলে তাকে বিদায় করে দেন। এতে সেফু মিয়া মনে কষ্ট পান। বিনা কারণে মজুরি আটকে রাখা বা দেরি করা জুলুম। তাই আতিক সাহেবের আচরণে শ্রমিকের অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে।

  4. ঘ)

    তানিম যে ইবাদত নিয়মিত সম্পাদন করে তা সালাত, কারণ সালাত মানুষকে অশ্লীল ও খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে (সূরা আল-আনকাবুত, আয়াত ৪৫)। এর সামাজিক গুরুত্ব নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. সমতা ও ভ্রাতৃত্ব: জামাআতে ধনী-গরিব, ছোট-বড় একই কাতারে দাঁড়ায়। এতে ভেদাভেদ দূর হয় ও ভ্রাতৃত্ব গড়ে ওঠে।
    ২. শৃঙ্খলা ও সময়ানুবর্তিতা: নির্দিষ্ট সময়ে ও ইমামের অনুসরণে সালাত আদায়ে নিয়মানুবর্তিতা ও নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য শেখা যায়।
    ৩. নৈতিক উন্নতি: সালাত অন্যায় ও অশ্লীলতা থেকে দূরে রাখে, ফলে সমাজে শান্তি ও নৈতিকতা বজায় থাকে।
    ৪. সৌহার্দ্য: মসজিদে নিয়মিত দেখা-সাক্ষাতে পারস্পরিক খোঁজখবর ও সহমর্মিতা বাড়ে।

    সুতরাং, সালাত ব্যক্তিগত ইবাদত হলেও এটি সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন