পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৭
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
জনাব রাজু একটি গ্রামীণ স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের নির্বাচিত প্রধান। তিনি জনগণের বিবাদ মিটিয়ে থাকেন। নানা কাজে তাঁকে প্রায়ই উপজেলা ও জেলা সদরে যেতে হয়। এভাবে সারাদিন তিনি জনকল্যাণে কাজ করে যান।
- ক)(1)
পৌরসভার প্রধানের পদ কী?
- খ)(2)
উপজেলা পরিষদের কাজ লিখ।
- গ)(3)
রাজু কোন স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের প্রধান? তাঁর প্রতিষ্ঠানের গঠন- কাঠামো ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উক্ত প্রতিষ্ঠানের সকল নির্বাচিত ব্যক্তিকে রাজুর মত হওয়া উচিত- বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পৌরসভার প্রধানের পদবি বা পদ হলো 'মেয়র'।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উপজেলা পরিষদ স্থানীয় পর্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ইউনিট। এর প্রধান কাজগুলো হলো:
১. উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন পরিকল্পনা (যেমন- পঞ্চবার্ষিক ও বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনা) গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা।
২. কৃষি, মৎস্য, পশুসম্পদ ও বনায়নের উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমূলক কার্যক্রম সমন্বয় করা।
৩. উপজেলার আওতাধীন গ্রামীণ রাস্তাঘাট, সেতু, কালভার্ট ইত্যাদি অবকাঠামো নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচির তদারকি করা। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত জনাব রাজু গ্রামীণ স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ইউনিয়ন পরিষদ-এর প্রধান (চেয়ারম্যান)। কারণ তিনি গ্রামপর্যায়ে জনগণের বিবাদ মীমাংসা (গ্রাম আদালতের মাধ্যমে) করেন এবং নানা দাপ্তরিক কাজে উপজেলা ও জেলায় যান।
ইউনিয়ন পরিষদের গঠন-কাঠামো:
ইউনিয়ন পরিষদ হলো বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার কাঠামোর সর্বনিম্ন ও সবচেয়ে তৃণমূল পর্যায়ের গ্রামীণ প্রতিষ্ঠান। এর গঠন নিম্নরূপ:
১. চেয়ারম্যান: পুরো ইউনিয়নবাসীর প্রত্যক্ষ ভোটে একজন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন, যিনি পরিষদের প্রধান।
২. সাধারণ সদস্য: প্রতিটি ইউনিয়নকে ৯টি ওয়ার্ডে বিভক্ত করা হয়। প্রতি ওয়ার্ড থেকে একজন করে মোট ৯ জন সাধারণ সদস্য প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন।
৩. সংরক্ষিত নারী সদস্য: প্রতি ৩টি ওয়ার্ডের জন্য একজন করে মোট ৩ জন নারী সদস্য সংরক্ষিত আসনে প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন।অতএব, একজন চেয়ারম্যান, ৯ জন সাধারণ সদস্য এবং ৩ জন সংরক্ষিত নারী সদস্য— সর্বমোট ১৩ জন নির্বাচিত প্রতিনিধি নিয়ে একটি ইউনিয়ন পরিষদ গঠিত হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“উক্ত প্রতিষ্ঠানের সকল নির্বাচিত ব্যক্তিকে রাজুর মত হওয়া উচিত”— মন্তব্যটি অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত ও যথার্থ।
স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলো জনগণের খুব কাছাকাছি থেকে সেবা প্রদান করে। উদ্দীপকে জনাব রাজু একজন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হিসেবে স্থানীয় বিবাদ মীমাংসা করেন, জনস্বার্থে উপজেলা ও জেলা সদরে যোগাযোগ রক্ষা করেন এবং সারাদিন জনকল্যাণে নিবেদিত থাকেন।
স্থানীয় সরকারের অন্যান্য নির্বাচিত সদস্যদেরও রাজুর মতো হওয়া উচিত, কারণ:
১. সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ: জনপ্রতিনিধিরা নিষ্ঠাবান ও জনকল্যাণমুখী হলে ইউনিয়ন পরিষদের সেবা সহজলভ্য হয় এবং দুর্নীতিমুক্ত গ্রামীণ সমাজ গড়ে ওঠে।
২. শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা: গ্রাম আদালতের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে নিরপেক্ষভাবে বিরোধ নিষ্পত্তি করলে সমাজে শান্তি বজায় থাকে এবং মামলা-মোকদ্দমার চাপ কমে।
৩. উন্নয়নের সুষম বণ্টন: রাজুর মতো দায়িত্বশীল প্রতিনিধিরা সরকারের উন্নয়নমূলক বরাদ্দের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারেন, ফলে গ্রামীণ দারিদ্র্য হ্রাস ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন দ্রুত হয়।সুতরাং, গ্রামীণ জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করার জন্য সকল নির্বাচিত প্রতিনিধিরই রাজুর মতো সৎ, উদ্যোগী ও নিবেদিতপ্রাণ হওয়া আবশ্যক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও