ইসলাম • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৫

ইসলাম প্রশ্ন

দৃশ্যকল্প-১: এক রাতে তুর পাহাড়ে অবস্থানকালে আল্লাহ তায়ালার নিকট থেকে হযরত মূসা (আ.)-এর প্রতি ওহি অবতীর্ণ হয়। অতঃপর তিনি তাঁর সম্প্রদায় ও ফেরআউনের নিকট আল্লাহর বাণী পৌঁছে দেন।দৃশ্যকল্প-২: জনাব হামীম একজন বিখ্যাত আলেম। দেশ-বিদেশে তাঁর প্রচুর পরিচিতি ও সুনাম রয়েছে। ইদানীং তাঁর এলাকার লোকজন ছোটখাটো মাসআলায় বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে পড়ছে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য তিনি এলাকার সকল মসজিদের খতিবের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করেন। কোনো নতুন সমস্যার উদ্ভব হলে কমিটি বৈঠক করে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত দেয়। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে গ্র্যান্ড মুফতি (প্রধান মুফতি) পদে নিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়। হামীম সাহেব উক্ত পদে যোগদান করেন।

  1. ক)

    মদিনা সনদ কী?

    (1)
  2. খ)

    ইমাম বুখারি (রহ.)-কে হাদিস বর্ণনায় মুমিনদের নেতা বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    হযরত মূসা (আ.)-এর ঘটনাটি হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর জীবনের কোন বিষয়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    জনাব হামীমের কর্মকাণ্ডে কোনো একজন ইমামের জীবনীর সাথে সম্পূর্ণ মিল খুঁজে পাও কি? উক্ত ইমামকে চিহ্নিত করে তোমার মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    মদিনা সনদ হলো হিজরতের পর রাসূল (স) মদিনায় মুসলমান, ইহুদি ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের মধ্যে শান্তি, নিরাপত্তা ও সহাবস্থানের জন্য যে লিখিত চুক্তি বা সংবিধান প্রণয়ন করেন।

  2. খ)

    ইমাম বুখারী (র) হাদিস সংগ্রহ, যাচাই ও সংকলনে অসাধারণ পাণ্ডিত্য ও নিষ্ঠার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি লক্ষ লক্ষ হাদিস মুখস্থ রাখতেন এবং বর্ণনাকারীদের সূত্র কঠোরভাবে যাচাই করে কেবল সহিহ হাদিস গ্রহণ করতেন।
    তাঁর সংকলিত 'সহিহ বুখারী' কুরআনের পর সবচেয়ে বিশুদ্ধ গ্রন্থ হিসেবে স্বীকৃত। এ কারণে তাঁকে 'আমিরুল মুমিনীন ফিল হাদিস' বা হাদিস বর্ণনায় মুমিনদের নেতা বলা হয়।

  3. গ)

    হযরত মূসা (আ)-এর তূর পাহাড়ে ওহি লাভের ঘটনা রাসূল (স)-এর প্রথম ওহি লাভ ও নবুয়ত প্রাপ্তির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

    রাসূল (স) মক্কার হেরা গুহায় ধ্যানরত অবস্থায় জিবরাঈল (আ)-এর মাধ্যমে প্রথম ওহি লাভ করেন, "ইকরা বিসমি রাব্বিকাল্লাযী খালাক"। মূসা (আ) যেমন রাতে তূর পাহাড়ে ওহি পেয়ে ফেরআউন ও নিজ সম্প্রদায়কে আল্লাহর বাণী পৌঁছে দেন, তেমনি রাসূল (স)-ও ওহি পাওয়ার পর আল্লাহর বাণী মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেন।

  4. ঘ)

    জনাব হামীমের সাথে ইমাম আবু হানিফা (র)-এর জীবনীর আংশিক মিল আছে, তবে সম্পূর্ণ মিল পাই না।

    মিল: ইমাম আবু হানিফা (র) ফিকহশাস্ত্রের বিশিষ্ট ইমাম ছিলেন। তিনি বিজ্ঞ আলেমদের নিয়ে একটি পরিষদ গঠন করেন, যেখানে নতুন সমস্যায় আলোচনা করে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো। হামীমও খতিবদের নিয়ে কমিটি গঠন করে নতুন সমস্যায় একমত সিদ্ধান্ত দেন।

    অমিল: ইমাম আবু হানিফা (র) শাসকের পক্ষ থেকে প্রধান বিচারপতির পদের প্রস্তাব দেওয়া হলে তা প্রত্যাখ্যান করেন, কারণ তিনি রাষ্ট্রীয় প্রভাবমুক্ত থেকে সত্য প্রকাশে স্বাধীন থাকতে চেয়েছিলেন। কিন্তু হামীম গ্র্যান্ড মুফতি পদে যোগ দিয়েছেন।

    সুতরাং, কমিটির মাধ্যমে সমাধানের দিক থেকে ইমাম আবু হানিফার সাথে মিল থাকলেও রাষ্ট্রীয় পদ গ্রহণের কারণে সম্পূর্ণ মিল নেই।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন