ভূগোল এবং পরিবেশ • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৫

ভূগোল এবং পরিবেশ প্রশ্ন

ভূপৃষ্ঠের আকস্মিক পরিবর্তন | বৈশিষ্ট্য
P | ভূত্বক হঠাৎ কেঁপে উঠা।
Q | ভূপৃষ্ঠের দুর্বল অংশ দিয়ে ভূগর্ভস্থ বিভিন্ন পদার্থ বের হয়ে আসা।
R | সমুদ্রে সাধারণ ঢেউয়ের চেয়ে বিশাল আকৃতির ঢেউয়ের সৃষ্টি।

  1. ক)

    মালভূমি কাকে বলে ?

    (1)
  2. খ)

    মধুপুরের চত্বর কোন ধরনের সমভূমি? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে 'R' দ্বারা ভূপৃষ্ঠের কোন অকিস্মিক পরিবর্তনকে বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে 'P' ও 'Q' এর মধ্যে কোনটি মানবজীবনে অধিক ভয়াবহতা বয়ে আনে? তোমার মতের পক্ষে যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    পর্বত থেকে নিচু কিন্তু সমভূমি থেকে উঁচু, খাড়া ঢালযুক্ত ঢেউ খেলানো বিস্তীর্ণ সমতলভূমিকে মালভূমি বলে।

  2. খ)

    মধুপুরের চত্বর ক্ষয়জাত সমভূমি। নদীপ্রবাহ, বায়ুপ্রবাহ ও হিমবাহের ক্ষয়ক্রিয়ার ফলে কোনো উচ্চভূমি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে যে সমভূমি সৃষ্টি হয়, তাকে ক্ষয়জাত সমভূমি বলে। বাংলাদেশের মধুপুরের চত্বর ও বরেন্দ্রভূমি এই ধরনের সমভূমির উদাহরণ। এটি প্লাইস্টোসিনকালের সোপানের অন্তর্গত।

  3. গ)

    উদ্দীপকের 'R' সুনামিকে বোঝায়, কারণ এখানে সমুদ্রে সাধারণ ঢেউয়ের চেয়ে বিশাল আকৃতির ঢেউ সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে।

    ১. সুনামি একটি জাপানি শব্দ, যার অর্থ 'পোতাশ্রয়ের ঢেউ'। এর ঢেউ সাধারণ ঢেউয়ের চেয়ে অনেক বড় এবং ফুঁসে ওঠা জোয়ারের মতো উপকূলে জলোচ্ছ্বাস সৃষ্টি করে।
    ২. ঢেউগুলো একের পর এক উঁচু হয়ে আসতে থাকে বলে একে ঢেউয়ের রেলগাড়ি বা 'ওয়েভ ট্রেন' বলে।
    ৩. সমুদ্রের মধ্যে বা বিশাল হ্রদে ভূমিকম্প বা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণে এটি সৃষ্টি হয়। ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর ভারত মহাসাগরে সংঘটিত সুনামি ১৪টি দেশে আঘাত হানে এবং প্রায় ২,২৫,০০০ মানুষের মৃত্যু ঘটে।

  4. ঘ)

    উদ্দীপকের 'P' হলো ভূমিকম্প (ভূত্বক হঠাৎ কেঁপে ওঠা) এবং 'Q' হলো অগ্ন্যুৎপাত (ভূপৃষ্ঠের দুর্বল অংশ দিয়ে ভূগর্ভস্থ পদার্থ বেরিয়ে আসা)। আমার মতে, মানবজীবনে 'P' অর্থাৎ ভূমিকম্প অধিক ভয়াবহতা বয়ে আনে।

    ১. ব্যাপক ধ্বংসলীলা: ভূমিকম্পে ঘরবাড়ি, ধনসম্পদ ও যাতায়াত ব্যবস্থা বিনষ্ট হয় এবং জীবনেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়। এতে ভূত্বকে ফাটল, ভাঁজ বা ধস সৃষ্টি হয় এবং নদীর গতিপথ পাল্টে যায়।
    ২. আকস্মিকতা: ভূমিকম্প সাধারণত কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হয়, কিন্তু আগে থেকে সতর্ক হওয়ার সুযোগ খুব কম পাওয়া যায়।
    ৩. দ্বিতীয় দুর্যোগের সৃষ্টি: ভূমিকম্পের কারণে সমুদ্র উপকূলে জলোচ্ছ্বাস ও সুনামি হতে পারে।
    ৪. অগ্ন্যুৎপাতের সীমাবদ্ধতা: অগ্ন্যুৎপাত সাধারণত নির্দিষ্ট আগ্নেয়গিরি অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকে। এর লাভা ও ভস্ম ক্ষতি করলেও দীর্ঘমেয়াদে লাভা গঠিত মাটি উর্বর হয় এবং খনিজ পদার্থ পাওয়া যায়।

    অতএব, ভূমিকম্প ধ্বংসাত্মক, আকস্মিক ও বিস্তৃত অঞ্চলে ক্ষতির কারণ বলে মানবজীবনে অধিক ভয়াবহ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন