বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৬

বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন

দৃশ্য-১: 'ক' নামক একজন শাসক তার ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য বিঃদ্র ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। তার মধ্যে অন্যতম হলো নাজাহিনীর গোড়াপত্তন করেন। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সেতু নির্মাণ ও খাল খনন করেন।দৃশ্য-২: 'খ' নামক এক ব্যক্তিকে প্রথমে বাংলার দেওয়ান হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি তার বিচক্ষণতার দ্বারা বাংলার ইতিহাসের গতিপথ পরিবর্তন করেছিলেন। তিনি রাজস্ব ব্যবস্থার ব্যাপক সংস্কার করেন।

  1. ক)

    বারো ভূঁইয়া কারা?

    (1)
  2. খ)

    আলাউদ্দিন হুসেন শাহের শাসনকালকে মধ্যযুগের স্বর্ণযুগ বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্য-১ এ কোন শাসককে ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃশ্য-২ এর শাসক, শাসক হিসেবে খুবই দক্ষতার পরিচয় দিয়েছিলেন- তোমার পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    মুঘল আমলে বাংলায় যে স্থানীয় জমিদার বা ভূস্বামীরা স্বাধীন বা অর্ধ-স্বাধীনভাবে নিজ নিজ এলাকা শাসন করতেন এবং মুঘলদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করেছিলেন, তাদের বারো ভূঁইয়া বলা হয়।

  2. খ)

    আলাউদ্দিন হুসেন শাহের শাসনকালে বাংলা শান্তি, সমৃদ্ধি ও সাংস্কৃতিক বিকাশের চরম পর্যায়ে পৌঁছায়। তিনি দক্ষ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলেন এবং রাজ্যের সীমানা বাড়ান। ধর্মীয় সহিষ্ণুতা বজায় রাখেন এবং বাংলা সাহিত্য ও স্থাপত্যের পৃষ্ঠপোষকতা করেন। তাই তাঁর শাসনকালকে মধ্যযুগের স্বর্ণযুগ বলা হয়।

  3. গ)

    দৃশ্য-১-এ ‘ক’ শাসক নৌবাহিনীর গোড়াপত্তন করেন, সেতু নির্মাণ করেন এবং খাল খনন করেন। এ বর্ণনা সোনারগাঁয়ের সুলতান ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ-কে ইঙ্গিত করে।

    তিনি নিজের ক্ষমতাকে সুদৃঢ় করতে নৌবাহিনী গঠন করেন, কারণ নদীবহুল বাংলায় নৌশক্তি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। যোগাযোগ উন্নত করার জন্য তিনি সড়ক ও সেতু নির্মাণ এবং খাল খননের উদ্যোগ নেন। এসব পদক্ষেপ তাঁর শাসনক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী ও সুসংহত করেছিল।

  4. ঘ)

    দৃশ্য-২-এর ‘খ’ হলেন মুর্শিদকুলি খান। তিনি বাংলার দেওয়ান হিসেবে নিযুক্ত হন এবং পরে নবাব হন। শাসক হিসেবে তিনি খুবই দক্ষ ছিলেন—বক্তব্যটি যথার্থ।

    ১. রাজস্ব সংস্কার: তিনি জায়গির প্রথা কমিয়ে ইজারা ব্যবস্থা চালু করেন। এতে রাজস্ব আদায় নিয়মিত ও সুসংগঠিত হয়।
    ২. কার্যকর প্রশাসন: তিনি দুর্নীতি দমন করেন এবং কঠোরভাবে প্রশাসন পরিচালনা করেন।
    ৩. রাজধানী স্থানান্তর: তিনি ঢাকা থেকে রাজধানী মুর্শিদাবাদে স্থানান্তর করেন, যা প্রশাসনিক সুবিধা বাড়ায়।
    ৪. রাজনৈতিক স্থিতি: তাঁর সময়ে বাংলা কার্যত স্বাধীনভাবে চলে এবং রাজ্যে স্থিতিশীলতা আসে।

    সুতরাং, মুর্শিদকুলি খান রাজস্ব সংস্কার ও প্রশাসনিক দক্ষতায় বাংলার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন