হিসাববিজ্ঞান ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৯
হিসাববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
আনজুম, তানজিম ও সুমাইয়া “পাওয়ার এন্টারপ্রাইজ” এর তিনজন অংশীদার যারা মূলধন অনুপাতে ব্যবসায়ের লাভ-লোকসান বণ্টন করে নেয়। ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি তারিখে তাদের মূলধন হিসাবের উদ্বৃত্ত ছিল আনজুম ১,৫০,০০০ টাকা, তানজিম ১,০০,০০০ টাকা এবং সুমাইয়া ৫০,০০০ টাকা। সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালনের জন্য সুমাইয়া মাসিক ২,০০০ টাকা পাবে যা তিনি হিসাবকাল শেষেও উঠিয়ে নেননি। মূলধন ও উত্তোলনের ওপর বার্ষিক ৫% হারে সুদ ধার্য করতে হবে। পণ্য উত্তোলনের ওপর সুদ ধার্য হবে না। আনজুম, তানজিম ও সুমাইয়া মুনাফার প্রত্যাশায় সারাবছর যথাক্রমে ২০,০০০ টাকা; ১৫,০০০ টাকা এবং ৫,০০০ টাকা উত্তোলন করে যার ওপর ১,০০০ টাকা, ৬০০ টাকা এবং ৪০০ টাকা সুদ ধার্য করা হয়েছে। সুমাইয়া এছাড়াও প্রতিষ্ঠান থেকে ১,২০০ টাকার পণ্য উত্তোলন করেছে যা পণ্য উত্তোলন শিরোনামে হিসাবভুক্ত হয়েছে। তানজিম বছরের মাঝামাঝি সময় ২৫,০০০ টাকা কারবারে ঋণ হিসেবে আনয়ন করে। চুক্তির শর্তানুযায়ী অংশীদারদের যে কোনো সুদ, বেতন ও কমিশন সমন্বয় পরবর্তী মুনাফার ওপর আনজুম ৩% হারে কমিশন পাবেন। বেতন ডেবিট করার পর এবং অন্যান্য সমন্বয় সাধনের পূর্বে ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর তারিখে সমাপ্ত বছরে কারবারের মুনাফা ১,৪০,০০০ টাকায় উপনীত হয়।
- ক)(1)
তানজিমের ঋণের সুদের পরিমাণ নির্ণয় কর।
- খ)(2)
অংশীদারদের লাভ-লোকসান আবণ্টন হিসাব প্রস্তুত কর।
- গ)(3)
পরিবর্তনশীল মূলধন পদ্ধতিতে মূলধন হিসাব প্রস্তুত কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
তানজিমের ঋণের সুদের পরিমাণ নির্ণয়:
অংশীদারি আইন, ১৯৩২ অনুযায়ী চুক্তিতে ঋণের সুদের হার উল্লেখ না থাকলে ঋণের ওপর ৬% হারে সুদ ধার্য করতে হয়। যেহেতু ঋণ বছরের মাঝামাঝি সময় আনয়ন করা হয়েছে, তাই ৬ মাসের সুদ ধরতে হবে।
ঋণের সুদের পরিমাণ = ২৫,০০০ টাকা × ৬% × (৬/১২) = ৭৫০ টাকা। - খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পাওয়ার এন্টারপ্রাইজ
লাভ-লোকসান আবণ্টন হিসাব
২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর তারিখে সমাপ্ত বছরের জন্যডেবিট:
১. অংশীদারদের মূলধন হিসাব (মূলধনের সুদ - ৫%):- আনজুম (১,৫০,০০০ × ৫%) = ৭,৫০০ টাকা
- তানজিম (১,০০,০০০ × ৫%) = ৫,০০০ টাকা
- সুমাইয়া (৫০,০০০ × ৫%) = ২,৫০০ টাকা
মোট = ১৫,০০০ টাকা
২. তানজিমের ঋণ হিসাব: - ঋণের সুদ = ৭৫০ টাকা
৩. অংশীদারদের মূলধন হিসাব (আনজুমের কমিশন):
[কমিশন পরবর্তী মুনাফার ওপর ৩% কমিশন = (১,৪০,০০০ + ২,০০০ - ১৫,০০০ - ৭৫০) × ৩ / ১০৩] = ১,২৬,২৫০ × ৩/১০৩ = ৩,৬৭৭ টাকা
৪. অংশীদারদের মূলধন হিসাব (বণ্টনযোগ্য মুনাফার অংশ - মূলধন অনুপাত ৩:২:১):
অবশিষ্ট বণ্টনযোগ্য মুনাফা = ১,২৬,২৫০ - ৩,৬৭৭ = ১,২২,৫৭৩ টাকা - আনজুম (১,২২,৫৭৩ × ৩/৬) = ৬১,২৮৬.৫০ বা ৬১,২৮৭ টাকা
- তানজিম (১,২২,৫৭৩ × ২/৬) = ৪০,৮৫৭.৬৭ বা ৪০,৮৫৮ টাকা
- সুমাইয়া (১,২২,৫৭৩ × ১/৬) = ২০,৪২৮.৮৩ বা ২০,৪২৮ টাকা
মোট ডেবিট = ১,৪২,০০০ টাকা
ক্রেডিট:
১. লাভ-লোকসান হিসাব:- নিট লাভ (বেতন ডেবিট করার পর) = ১,৪০,০০০ টাকা
২. অংশীদারদের মূলধন হিসাব (উত্তোলনের সুদ): - আনজুম = ১,০০০ টাকা
- তানজিম = ৬০০ টাকা
- সুমাইয়া = ৪০০ টাকা
মোট = ২,০০০ টাকা
মোট ক্রেডিট = ১,৪২,০০০ টাকা
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অংশীদারদের মূলধন হিসাব (পরিবর্তনশীল মূলধন পদ্ধতি):
১. প্রারম্ভিক জের (০১-০১-২০১৮): আনজুম ১,৫০,০০০ টাকা; তানজিম ১,০০,০০০ টাকা; সুমাইয়া ৫০,০০০ টাকা।
২. যোগ (ক্রেডিট):- মূলধনের সুদ: আনজুম ৭,৫০০ টাকা; তানজিম ৫,০০০ টাকা; সুমাইয়া ২,৫০০ টাকা।
- বেতন (সুমাইয়া হিসাবকাল শেষেও উঠিয়ে নেননি): সুমাইয়ার ঘরে (২,০০০ × ১২) = ২৪,০০০ টাকা।
- আনজুমের কমিশন: আনজুমের ঘরে ৩,৬৭৭ টাকা।
- মুনাফার অংশ: আনজুম ৬১,২৮৭ টাকা; তানজিম ৪০,৮৫৮ টাকা; সুমাইয়া ২০,৪২৮ টাকা।
ক্রেডিট দিকের যোগফল: আনজুম ২,২২,৪৬৪ টাকা; তানজিম ১,৪৫,৮৫৮ টাকা; সুমাইয়া ৯৬,৯২৮ টাকা।
৩. বাদ (ডেবিট):
- উত্তোলন হিসাব (নগদ): আনজুম ২০,০০০ টাকা; তানজিম ১৫,০০০ টাকা; সুমাইয়া ৫,০০০ টাকা।
- উত্তোলনের সুদ: আনজুম ১,০০০ টাকা; তানজিম ৬০০ টাকা; সুমাইয়া ৪০০ টাকা।
(দ্রষ্টব্য: সুমাইয়ার ১,২০০ টাকার পণ্য উত্তোলন পূর্বেই 'পণ্য উত্তোলন' শিরোনামে হিসাবভুক্ত হওয়ায় তা আর মূলধন হিসাবে ডেবিট করার প্রয়োজন নেই।)
৪. সমাপনী উদ্বৃত্ত (ব্যালেন্স সি/ডি, ৩১-১২-২০১৮):
- আনজুম = ২,২২,৪৬৪ - ২১,০০০ = ২,০১,৪৬৪ টাকা।
- তানজিম = ১,৪৫,৮৫৮ - ১৫,৬০০ = ১,৩০,২৫৮ টাকা।
- সুমাইয়া = ৯৬,৯২৮ - ৫,৪০০ = ৯১,৫২৮ টাকা।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও