কৃষিশিক্ষা • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৩

কৃষিশিক্ষা প্রশ্ন

"উৎসব মৎস্য খামার" এর মালিক আদর্শ মৎস্যচাষী সাইফুল ইসলাম তার খামারের কার্প জাতীয় মাছের জন্য সম্পূরক খাদ্য নিজেই তৈরি করেন। তিনি বলেন "সম্পূরক খাদ্য মিশ্রণ তৈরিতে উপাদানগুলো সুষম হারে মিশ্রণ না করলে মাছে উৎপাদন ভালো হয় না।" সম্পূরক খাদ্য তৈরিতে তিনি নিম্নোক্ত উপকরণের তালিকা অনুসরণ করেন:

উপকরণের নাম | শতকরা হার (%)
ফিসমিল | ১০-২১
সরিষার খেল | ৪৫-৫৩
চালের কুঁড়া | ২৮-৩০
ভিটামিন ও খনিজ লবণ | ০.৫-১.০০
চিটাগুড় ও আটা | ৫
মোট= | ১০০

  1. ক)

    ভূমিক্ষয় কী?

    (1)
  2. খ)

    মাছ চাষে পানির সঠিক pH মান এর ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের উপাদানগুলোর তালিকা ব্যবহার করে ৪০ কেজি সম্পূরক খাদ্যের একটি তালিকা তৈরি করো।

    (3)
  4. ঘ)

    মাছ চাষের জন্য সাইফুল ইসলাম সাহেবের উক্তিটি মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    পানি, বাতাস বা অন্য কোনো কারণে জমির উপরিভাগের উর্বর মাটির অপসারণ বা ক্ষয় হওয়াকে ভূমিক্ষয় বলে।

  2. খ)

    মাছ চাষের জন্য পুকুরের পানির pH মান ৬.৫ থেকে ৮.৫-এর মধ্যে থাকা উত্তম। এ মানে পানিতে প্লাংকটনসহ প্রাকৃতিক খাদ্য ভালো জন্মায়। pH বেশি অম্লীয় বা ক্ষারীয় হলে মাছের বৃদ্ধি কমে, রোগ বাড়ে এবং মাছ মারা যেতে পারে। তাই সঠিক pH মাছের স্বাস্থ্য ও উৎপাদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

  3. গ)

    উপকরণের নির্ধারিত সীমার মধ্যে এমন হার নির্বাচন করব, যাদের যোগফল ১০০%।

    ধরি: ফিসমিল ১৮%, সরিষার খেল ৪৬%, চালের কুঁড়া ৩০%, ভিটামিন ও খনিজ লবণ ১%, চিটাগুড় ও আটা ৫%।

    যোগফল =18+46+30+1+5=100%= 18 + 46 + 30 + 1 + 5 = 100\%

    ৪০ কেজি সম্পূরক খাদ্যের তালিকা:

    উপকরণশতকরা হারপরিমাণ (কেজি)
    ফিসমিল১৮%40×18100=7.240 \times \frac{18}{100} = 7.2
    সরিষার খেল৪৬%40×46100=18.440 \times \frac{46}{100} = 18.4
    চালের কুঁড়া৩০%40×30100=1240 \times \frac{30}{100} = 12
    ভিটামিন ও খনিজ লবণ১%40×1100=0.440 \times \frac{1}{100} = 0.4
    চিটাগুড় ও আটা৫%40×5100=240 \times \frac{5}{100} = 2
    মোট১০০%৪০
  4. ঘ)

    সাইফুল ইসলামের উক্তি "উপাদানগুলো সুষম হারে মিশ্রণ না করলে মাছের উৎপাদন ভালো হয় না" যথার্থ।

    মূল্যায়ন:
    ১. মাছের বৃদ্ধির জন্য প্রোটিন, শর্করা, চর্বি, ভিটামিন ও খনিজ সব উপাদান প্রয়োজন। ফিসমিল ও সরিষার খেল প্রোটিনের উৎস, চালের কুঁড়া শর্করা ও শক্তির উৎস, আর ভিটামিন-খনিজ রোগ প্রতিরোধে সহায়ক।
    ২. কোনো উপাদান বেশি বা কম হলে খাদ্য অসুষম হয়। এতে মাছের বৃদ্ধি কমে, FCR বেড়ে যায় এবং খরচ বাড়ে।
    ৩. চিটাগুড় ও আটা খাদ্যের উপকরণগুলোকে বেঁধে রাখে, ফলে পানিতে খাদ্য সহজে গলে যায় না।

    সুতরাং, সুষম হারে মিশ্রণ করলে মাছ ভালো বাড়ে, খাদ্যের অপচয় কমে এবং খামার লাভজনক হয়। তাঁর উক্তি যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন